হজ্জ সংক্রান্ত আলোচনা

হজ্জ সংক্রান্ত আলোচনা

আল্লাহ রব্বুল আ’লামীন আমাদেরকে তাঁর বিশেষ নৈকট্য দান করার জন্য পৃথিবীতে অবস্থিত বাইতুল্লাহ (আল্লাহর ঘর) অর্থাৎ আল্লাহ্ তাআ’লার নামের সাথে সম্পৃক্ত ঘরে নিয়ে যান। কেউ হয়তো ভাবতে পারে যে, আল্লাহ তা‘আলার ঘর-এর অর্থ হল আল্লাহ্ তাআ’লা ঐ ঘরে থাকেন,যেমন আমাদের ঘরে আমরা থাকি। নাউযুবিল্লাহ এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। কারণ আল্লাহ্ তাআ’লার ঘরের অর্থ হল এই ঘর আল্লাহ্ তাআ’লার নিকট অত্যন্ত সম্মানিত।

তিনি স্বীয় বাছাইকৃত বান্দাদেরকে নিজের আশেক-দেওয়ানা বানানোর জন্য হজ্জের নামে আপন ঘরের তাওয়াফের জন্য নিয়ে যান। তাই হজ্জের লেবাসটাও অনেকটা পাগলের মত দেওয়া হয়েছে। মাথা খোলা, পেট খোলা, পায়ে নিতান্ত সাধারণ স্যান্ডেল,শুষ্ক এলোমেলো চুল, সাজগোজের কোনো চিহ্ন নেই অনেকটা পাগলের বেশই বলা চলে। কিছু লোক তো বাস্তবেই আল্লাহ্ তাআ’লার পাগল হয়ে সেখানে যান, আর কিছু লোক পাগল না হলেও পাগলের বেশ ধরার কারণে আল্লাহ্ তাআ’লা তাদেরকে বাস্তব আল্লাহ্ প্রেমিকদের দলভুক্ত করে নেন। ধানের সাথে যেমন চিটা বিক্রি হয়, চালের সাথে যেমন পাথর চলে যায়, তেমনি আসল প্রেমিকদের সাথে নকল প্রেমিকরাও কবূল হয়ে যায়।

*হজ্জ কাকে বলে:*

আল্লাহ্ তা’আলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে শরীয়াত-প্রদত্ত নিয়ম অনুসারে ইহরাম বাঁধার পর পবিত্র মক্কা মুকাররমায় উপস্থিত হয়ে নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়ে বিশেষ কিছু কাজ করা। *[রদ্দুল মুহতার:৩/৫১৬ রশীদিয়া]*

হজ্জের নিয়ত খাঁটি হওয়া জরুরী:

হজ্জে যাওয়ার সময় নিয়ত বিশুদ্ধ করে নিবে। আল্লাহ্ তা’আলার হুকুম পালনার্থে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য হজ্জ করছি এমন নিয়ত করবে। লোকে হাজী বলবে, সম্মান দেখাবে, প্রসিদ্ধি অর্জন হবে, ব্যবসা ভালো জমবে, ইলেকশনে ভালো করা যাবে, এধরণের মনোভাব নিয়ে হজ্জ করলে সাওয়াবতো হবেই না; বরং রিয়ার কারণে গুনাহ হবে। রিয়া বা লোক দেখানো এমন ভয়ানক গুনাহ যে, এই একটি গুনাহের কারণেই বড় বড় আলেম, শহীদ ও দানবীরগণ জাহান্নামের ইন্ধনে পরিণত হবে। রিয়া থেকে বাঁচার জন্য নিজের হজ্জের ঘটনা ঘটা করে অন্যের কাছে না বলা উচিত। তবে কেউ জিজ্ঞেস করলে মাসআলার আলোচনা হিসাবে বলতে কোনো দোষ নেই। *[সহীহ মুসলিম হা.নং ১৯০৫]