ফয়সালাবাদে সিনেমার প্রযােজক তাবলীগে।

ফয়সালাবাদে সিনেমার প্রযােজক তাবলীগে।

ফয়সালাবাদে এক তাবলীগের সাথি নিম্নোক্ত ঘটনাটি শুনিয়েছেন যে, হজের সময় এক যুবকের সাথে আমার দেখা হল। যে সিনেমা জগতের সাথে জড়িত ছিল। প্রযােজক এবং প্রডিউসর ছিল। এক সময় সে তাবলীগে কিছ সময় লাগাতে শুরু করল। এই সময় লাগানাের বরকতে তার অন্তরে হজ পালনের আগ্রহ দেখা দিল। সেই হজেই আমার সাথে দেখা। আমি তার সাথে হজের মর্ম নিয়ে সামান্য আলােচনা করলাম যে, হজের রূহ হচ্ছে তাওবা। তাওবা যদি না করে থাকে তাহলে হজের ফরজ তাে আদায় হয়ে। যাবে কিন্তু হজের বাস্তবতা আদায় হবে না। তাহলে এমন হজের কি ফায়েদা? ৭-৮ যিলহজ আমরা মিনায় ছিলাম। আর ৯ তারিখে ছিলাম আরাফাতে। ১১ তারিখে তার সাথে আবার মিনায় দেখা হল । সে আমাকে। বলল, আপনি তাে আমাকে ফাঁসিয়ে দিলেন! আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আমি আবার তােমাকে ফাঁসালাম কিসে? সে বলল, আমি তাে হজ করতে এসেছিলাম, তাওবা করতে আসিনি। আর আপনি বলছেন হজ তাে তাওবার নাম। এখন আমি যদি তাওবা করি তাহলে আমাকে সবকিছু পরিত্যাগ করতে হয় আর তাওবা না করলে হজের কিছু থাকে না। বুঝে আসছে না এখন কি করব!

তারপরে সে বলল, একজন ব্যবসায়ী যদি তাওবা করে যে, ভবিষ্যতে ভেজাল দেব না, মাপে কম দেবনা, মিথ্যা বলব না, তাহলে তার ব্যবসা চালিয়ে নিতে কোন অসুবিধা হয় না। বেশি থেকে বেশি লাভের পরিমাণ কিছুটা কম হতে পারে। একজন চাকুরীজীবী তাওবা করতে পারে যে, এখন থেকে ডিউটিতে ফাঁকি দেব না, ঘুষ নেব না, তাহলে তারও কোন অসুবিধা হবে না। কেননা মাসে এক লাখ না হােক ১০ হাজার টাকা তাে সে কামাই। করতে পারবে। কিন্তু আমি কি করব? আমার তাে পুঁজিই হারাম। আমি যদি। এই জগত ছেড়ে দিই তাহলে সব ছাড়তে হবে। এরপরে কি করব? নৌকা চালাব। তাও চালানাের হিম্মত নেই । আমার কাছে কোন হালাল পয়সাই তাে নেই যেটা পৃথক করে তা দিয়ে ব্যবসা করব। আমার সবই তাে হারাম। আমি বললাম, তুমি যখন আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত, সর্বক্ষেত্রে তার। বিরুদ্ধাচরণ করছ তখনও তিনি তােমাকে রিযিক দিচ্ছেন, তাহলে যখন তুমি তার সাথে সন্ধি করে নেবে, তার আনুগত্য স্বীকার করবে তখন কি তিনি তােমাকে দূরে ঠেলে দিবেন? আমার এই কথা শুনে সে অত্যন্ত খুশি হল। বলল, আপনি আমার সব চিন্তা টেনশন দূর করে দিয়েছেন। আপনার বহুত বহুত শুকরিয়া। এখন আর আমার তাওবা করতে কোন অসুবিধা নেই।