সামর্থ্য থাকা সত্বেও হজ্জ না করার ব্যাপারে ধমকি

সামর্থ্য থাকা সত্বেও হজ্জ না করার ব্যাপারে ধমকি

*قال النبى صلى الله عليه وسلم: من لم يمنعه من الحج حاجة ظاهرة اوسلطان جائر او مرض حابس فمات ولم يحج فليمت إن شاء يهوديا او نصرانيا.*

*অর্থ:-* নবীজী *(সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম)* বলেছেন, কোনো ব্যক্তির জন্য বাহ্যিক প্রয়োজন, অত্যাচারী বাদশাহ কিংবা মারাত্মক অসুস্থতা যদি হজ্জে যাওয়ার প্রতিবন্ধক না হয়, আর সে হজ্জ না করেই মারা যায়, তাহলে সে যেন ইহুদী কিংবা খৃষ্টান হয়ে মরে (এতে আমার কোনো পরওয়া নেই)। *[সুনানে দারেমী হা.নং ১৭৮৬]*

*عن أبى هريرة رضى الله عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم قال: أن الله تعالى يقول: إن عبدا صححت له جسمه ووسعت عليه فى المعيشة تمضى عليه خمسة أعوام لايغدو الى لمحروم.*

*অর্থ:-* হযরত আবূ হুরাইরা (রাযিআল্লাহু তা’আলা আ’নহু) এর সূত্রে নবীজী *(সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম)* থেকে বর্ণিত তিনি বলেছেন যে, আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, এমন বান্দা যাকে আমি সুস্থ শরীর দিয়েছি এবং যার জন্য আমি প্রশস্থ জীবিকার ব্যবস্থা করেছি তার উপর যদি পাঁচটি বছর এমন অবস্থায় অতিবাহিত হয়ে যায় যে, সে আমার ঘরে আসল না, তাহলে অবশ্যই সে (আমার নৈকট্য থেকে) মাহরূম। *[মাজমাউজ জাওয়ায়েদ ৩/৩৫৬]*

এই হাদীসের কারণে উলামায়ে কেরাম বলেন, আল্লাহ্ তা’আলা যাকে তাওফীক দিয়েছেন তাঁর জন্য কমপক্ষে প্রত্যেক চারবছরে একবার নফল হজ্জ বা উমরার মাধ্যমে বাইতুল্লাহর যিয়ারত করা মুস্তাহাব।

কার উপর হজ্জ ফরয:

যার মালিকানায় নিত্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র এবং নিজের ও পরিবারের ভরণ-পোষণের খরচের অতিরিক্ত এই পরিমাণ টাকা-পয়সা বা সম্পত্তি আছে, যা দ্বারা হজ্জে যাওয়া-আসার ব্যয় এবং হজ্জকালীন সাংসারিক খরচ হয়ে যায়, তার উপর হজ্জ করা ফরয। *[আদ্দুরুল মুখতার মা‘আ রদ্দিল মুহতার ২/৪৫৮]*

হজ্জ যে বছর ফরয হয় সে বছরই তা আদায় করা ওয়াজিব। গ্রহণযোগ্য কোনো ওযর ছাড়া হজ্জ বিলম্বিত করলে গুনাহ হবে। তবে পরবর্তীতে হজ্জ আদায় করে নিলে এই গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। *[রদ্দুল মুহতার ৩/৫১৭ রশীদিয়া, কিতাবুল মাসাইল ৩/৭৬]*