সদকা গোনাহের আগুন নিভিয়ে দেয় এবং আসমান ও যমীনের বালা-মুসিবত দূর করে দেয়

সদকা গোনাহের আগুন নিভিয়ে দেয় এবং আসমান ও যমীনের বালা-মুসিবত দূর করে দেয়

কোনো মানুষই পৃথিবীতে সম্পদ নিয়ে আসে না; আসে খালি হাতে। অতপর আল্লাহ্ তা’আলা অনুগ্রহ করে সম্পদ দান করেন। সুতরাং আমার যত সম্পদ সব আল্লাহর দান। এ থেকে আমি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য খরচ করব- এতে আবার সংকোচ কীসের! সূরা বাকারার শুরুতে আল্লাহ মুত্তাকীদের কিছু গুণ বলেছেন, তার মধ্যে-

*وَ مِمَّا رَزَقْنٰهُمْ یُنْفِقُوْنَ.*

এবং আমি তাদেরকে যা কিছু দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে। *[সূরা:বাকারা-২]*

সুতরাং আল্লাহর দেওয়া সম্পদ আল্লাহর জন্য ব্যয় করতে কোনো সংকোচ-কার্পণ্য নেই।

আবার তাঁর দেওয়া সম্পদ থেকে দান-সদকা করলে তিনি খুশি হন এবং মাফ করেন-

*إِنْ تُبْدُوا الصَّدَقَاتِ فَنِعِمَّا هِيَ وَإِنْ تُخْفُوهَا وَتُؤْتُوهَا الْفُقَرَاءَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ وَيُكَفِّرُ عَنْكُمْ مِنْ سَيِّئَاتِكُمْ وَاللهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ .*

তোমরা যদি প্রকাশ্যে দান কর তবে তা ভালো। আর যদি গোপনে কর এবং অভাবগ্রস্তকে দাও তা তোমাদের জন্য আরো ভালো। এবং তিনি তোমাদের কিছু পাপ মোচন করবেন। তোমরা যা কর আল্লাহ তা সম্যক অবহিত। *[সূরা:বাকারা- ২৭১]*

আর সদাকা শুধু পাপ মোচনই করে না; পাপের আগুন একেবারে নিভিয়ে দেয়, যেমন পানি দাউদাউ আগুন নিভিয়ে দেয়। এক দীর্ঘ হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ *(সাল্লাল্লাহু তা’আলা আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম)* তাঁর প্রিয় সাহাবী হযরত মুআয ইবনে জাবাল (রাযি:) কে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেন-

*وَالصّدَقَةُ تُطْفِئُ الخَطِيئَةَ كَمَا يُطْفِئُ المَاءُ النّارَ.*

আর সদাকা পাপ (নিভিয়ে দেয়) মোচন করে, যেমন পানি আগুন নিভিয়ে দেয়। *[জামে তিরমিযী, হাদীস ২৬১৬]*

*কাপড় পরিধানের দোয়া:পূর্বের গোনাহ মাফ হয়:*

পোশাক আল্লাহ্ তা’আলার অনেক বড় নিআমত। সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন সকল মানুষই পোশাক পরে। কোনো পশু পোশাক পরে না। কিন্তু মানুষ পরে। এটি মানবের বৈশিষ্ট্য। এর জন্য মানুষ অনেক অর্থ খরচ করে। এটা মানুষের স্বভাবজাত।

তবে পার্থক্য হয়ে যায় মানুষের রুচিবোধে। সৌন্দর্যের ধারণা সকল মানুষেরই আছে। কিন্তু সঠিক রুচিবোধ ও শালীনতা-অশালীনতার বিষয়ে মানুষ প্রভাবিত হয় নিজ প্রবৃত্তি ও পরিবেশ-পারিপার্শ্বিকতা দ্বারা। এ থেকে উত্তরণ ঘটে তাদের, যারা এক্ষেত্রেও আল্লাহর বিধান মানে। সুতরাং যাদেরকে আল্লাহ্ তা’আলা এক্ষেত্রেও তাঁর হুকুম মানার তাওফীক দিয়েছেন তাদের তো শুকরিয়া আদায় করাই উচিত-

*الْحَمْدُلِلهِالّذِيكَسَانِيهَذَاالثّوْبَوَرَزَقَنِيهِمِنْغَيْرِحَوْلٍمِنِّي،وَلَاقُوّةٍ.*

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাকে এ পোশাক পরিয়েছেন। এবং কোনো প্রকার কষ্ট-মেহনত ছাড়া আমাকে তা দান করেছেন।

সারাদিনে আমরা কতবার কাপড় পরি? চার-পাঁচ বার হবে। কাপড় পরিধান করার সময় যদি আমরা উপরোক্ত দুআ পড়ি তাহলে আল্লাহ আমাদের গোনাহ মাফ করে দিবেন।

হযরত মুআয ইবনে আনাস (রাযি:)তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ *(সাল্লাল্লাহু তা’আলা আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম)* বলেছেন—

*مَنْ لَبِسَ ثَوْبًا فَقَالَ: الْحَمْدُ لِلهِ الّذِي كَسَانِي هَذَا الثّوْبَ وَرَزَقَنِيهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّي، وَلَا قُوّةٍ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدّمَ مِنْ ذَنْبِهِ.*

যে ব্যক্তি পোশাক পরিধান করে বলবে-

*الْحَمْدُلِلهِالّذِيكَسَانِيهَذَاالثّوْبَوَرَزَقَنِيهِمِنْغَيْرِحَوْلٍمِنِّي،وَلَاقُوّةٍ.*

আল্লাহ্ তা’আলা তার পূর্বের গোনাহ মাফ করে দিবেন। *[সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪০২৩; মুসতাদরাকে , হাদীস ১৮৭০]*