শ্বশুর শাশুড়ির প্রতি কর্তব্য

পুত্রবধূ বা মেয়ের জামাইয়ের প্রতি যেমন শ্বশুর-শাশুড়ীর অনেক কিছু কর্তব্য রয়েছে, তেমন তাদেরও এই নতুন পিতা-মাতার প্রতি বেশ কিছু কর্তব্য আছে। শ্বশুর-শাশুড়ীকে সর্বদা আপন পিতা-মাতার মত মনে করা উচিত। তাদের সুখ-দুঃখের প্রতি সব সময় খেয়াল রাখা উচিত। তারা যদি বার্ধক্যে উপনীত হন তাহলে সাধ্যানুযায়ী তাদের খেদমত করা উচিত। শরী`আতের দৃষ্টিতে এই খিদমত যদিও ফরজ নয় তবুও মহিলাদের উচিত আপন স্বামীকে খুশি করার জন্য তাদের খিদমতের ব্যাপারে তৎপর হওয়া।

তেমনিভাবে ছেলেও নিজের শ্বশুর-শাশুড়ীর খোঁজ খবর রাখবে এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের সহায়তা ও খিদমত করবে।বিশেষ জরুরতে স্ত্রীকে তাদের নিকট সাময়িকভাবে থাকার অনুমতি দিবে।

*সন্তানের হক:*

সন্তান-সন্ততিকে আল্লাহ পাকের বড় নি‘আমত ও আমানত মনে করে তাদের প্রতি পিতা-মাতার কর্তব্য পালন করতে হবে। মাতা-পিতার উপর সন্তানের চারটি হক রয়েছে। যথা:–

*১)* সন্তান যাতে আল্লাহর অলী হয় সেই ধ্যান-ধারণা রেখে আগে থেকেই একজন দ্বীনদার মহিলাকে বিবাহ করতে হবে। *[মিশকাত শরীফ- ২/২৬৭]*

*২)* সন্তান জন্মগ্রহণের পর কোন বুযুর্গ ব্যক্তি দ্বারা তাহনীক করিয়ে নেবে। তারপরে সপ্তম দিনে আকীকা করবে এবং শরীআত সম্মত সুন্দর নাম রাখবে। *[মিশকাত-২/২৭১]*

*৩)* বয়স হলে তাকে তা‘লীম দেবে। যবান ফুটলে প্রথমে আল্লাহর নাম, বিসমিল্লাহ, কালিমায়ে তাইয়িদবা শিক্ষা দেবে। ৫/৬ বছর বয়স হলে তাকে আদর্শ কোন মকতবে পাঠিয়ে কুরআন শরীফ ও জরুরী মাসায়িলের তা‘লীম দেয়ার ব্যবস্থা করবে, যাতে সাত বছর বয়স হলে তাকে নামাযের আদেশ দেয়া যায়। কোন অবস্থায় এসব বিষয় না শিখিয়ে, মুসলমান না বানিয়ে বাংলা ইংরেজি লাইনে দিবে না। কেননা, সেক্ষেত্রে আল্লাহ্ তা’আলার নিকট ঐ ব্যক্তি নিজ সন্তান হত্যাকারী গণ্য হবে। ইংরেজি শিক্ষা দেয়া ওয়াজিব বা জরুরী নয়। কিন্তু কুরআন-হাদীসের শিক্ষা দেয়া ফরজ। ইংরেজি শিক্ষা যদি হালাল রিযিক অন্বেষণ কিংবা দ্বীনের দাওয়াত দেয়ার জন্য হয় তাহলে তা জায়িয আছে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে, ইংরেজি শিখতে গিয়ে আবার ইংরেজ না হয়ে যায়। যে শিক্ষা বিজাতীয় পোশাক পরিচ্ছদ আর বিজাতীয় সভ্যতা সংস্কৃতি গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করে ঈমান- আক্বীদা, নামায, মাশাইখদের ব্যাপারে উদাসীন করে সেই শিক্ষার কোন মূল্য নেই। সেটা বরং কু-শিক্ষা বলতে হবে। সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে তার ঈমান-আক্বীদা সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন ছুটিতে তাকে তাবলীগে কিংবা আল্লাহ্ ওয়ালাদের সুহবাতে ও সাহচর্যে পাঠানো পিতা- মাতার উপর ফরজ। অনুরূপভাবে সে যেন নাস্তিক না হয়ে যায় এবং দ্বীনের সহীহ বুঝ যেন বাকি থাকে সেজন্য যথোপযুক্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া তাদের জন্য অপরিহার্য।

মুফতী আব্দুল কুদ্দুস নামে হযরত থানবী রহ. এর এক মুরীদের পুত্রের মুখে আমি শুনেছি , তিনি হারদুঈ এর মসজিদে এক বয়ানে বলেছিলেন-তার পিতা অর্থাৎ হযরত থানবী রহ. এর সেই মুরীদ একবার তার শাইখ এর নিকট চিঠি লিখলেন যে, হযরত! আমার দুটি ছেলে তার মধ্যে একজনকে মাদ্রাসায় দিয়েছি দ্বীনী ইলম শিক্ষার জন্য, আরেক জনকে স্কুলে দিয়েছি ইংরেজি শিক্ষার জন্য। হযরত থানবী রহ. জবাবে লিখলেন, যে ছেলেকে ইংরেজি শেখার জন্য স্কুলে দিয়েছ তার ঈমানের হেফাজতের জন্য কি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছ? ঐ মুরীদ আমাদের মত কেউ হলে হয়ত উত্তর দিত যে, তাঁর জন্য একজন মৌলভী ঠিক করেছি। তিনি প্রতিদিন বাসায় এসে এক সময় কুরআন শরীফ পড়িয়ে দিয়ে যাবেন। কিন্তু ঐ মুরীদ জানতেন যে, এই জবাবে হযরত থানবী রহ. কে সন্তুষ্ট করা যাবেনা। তাই তিনি ঐ ছেলেকেও ইংরেজি শিক্ষা থেকে বের করে মাদরাসায় ভর্তি করে আল্লাহর কালাম শিক্ষার কাজে লাগিয়ে দিলেন এবং একথা লিখে হযরতকে জানিয়ে দিলেন। হযরত উত্তর দিলেন যে, খুবই ভাল কাজ করেছ।

*৪)* চার নম্বর হক হল, ছেলে-মেয়ে বালেগ বা প্রাপ্ত বয়স্ক হলে দেখে শুনে কোন দ্বীনদার পাত্র/পাত্রীর সাথে বিবাহ দিয়ে দেয়া। *[মিশকাত-২/২৬৭]*