শবে কদরের ফজিলত করণীয় আমল

শবে কদরের ফজিলত করণীয় আমল

রমযানে শেষ দশকে বেজোড় রাত গুলোতে কেমন অনুভুতি নিয়ে বন্দেগী করা উচিত, সে বিষয়ে কিছু কথা বলা হ শেষ হওয়ার পরে, সাহরীর সময় পর্যন্ত মাঝখানে যে কয়েক ঘন্টা সময় আছে এই সময়টাও জাগ্রত থাকার চেষ্টা করি। আসলে হিম্মত করলে কঠিন কিছুই না। নিজের নফসের উপর, মনের উপর একটু বল প্রয়োগ করলে, এ কাজটা করে ফেলা যাবে ইনশাআল্লাহু তা’আলা।আমরা সবাই চেষ্টা করি।
সাহরী খাওয়ার পর ফজরের নামায পড়া হলো।এরপর সকাল দশটা এগারোটা পর্যন্ত লম্বা সময় ঘুমানো হলো। ঘুমের চাহিদাও পুরা হয়ে গেল। এভাবে যদি প্রোগ্রাম করা যায়, দেখা যাবে যে ইনশাআল্লাহ তা’য়ালা রমযানের শেষ দশকের বেজোড় রাত্রি গুলোতে, রাত্রি জাগরণ করা সহজ হবে। আল্লাহ্ তা’আলা আমাদের সকলকে তাওফীক দান করেন। আল্লাহ্ তা’আলা আমাদের সবার জন্য আসান করেন, সহজ করেন।

বাহার হাল দিলের ভিতরে এক ব্যথা থাকা,এক অনুভূতি থাকা যে,আমার তো রাত্রি যাপন করা উচিত। নবীজী *(সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম)* এর রমযানের শেষ দশকে সারারাত রাত্রি জাগরণ করেছেন। নবীজী *(সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম)* এর আমলের সঙ্গে আমার আমলটা মিলানো উচিত। এরকম এক অনুভূতি থাকা চাই।

রাত জাগতে জাগতে যদি দেখা যায় অবস্থা এখন এমন হয়েছে যে,প্রচন্ড ঘুম চাপছে। এরকম যদি হয় যে, এখন নামায, তিলাওয়াত, যিকির, দুআ করা যাচ্ছে না, ঘুমের প্রাবল্যের কারনে মুখে এলোমেলো কথা আসতেছে। অর্থাৎ নামাযে বান্দা দাড়িয়েছে, যে আয়াতের পরে যে আয়াত পড়তে হবে, সে তা মিলাতে পারতেছে না। ঘুমের চাপ এত বেশি যে, কোনো আমল এখন সে ঠিকমতো করতে পারতেছে না। হাদীসে পাকে নবীজী *(সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম)* এরকম পরিস্থিতিতে আমল করতে নিষেধ করেছেন। হাদীসে এরকম পরিস্থিতিতে নবীজী ঘুমানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

ঘুমিয়ে শরীর আরাম হোক, এরপর প্রফুল্ল হৃদয় নিয়ে আল্লাহ পাকের বন্দেগী করব। এরকম মেজায নিয়ে বিশ্রাম নেওয়া, তখন ঘুমানো। এটাই তখন শরীয়তের তাকাযা। এ অবস্থায় ঘুমের প্রচণ্ডতায়, ঘুমের চাপ নিয়ে যখন আমি আর আমল করতে পারতেছি না, তখন এক ব্যথা ভরা দিল নিয়ে ঘুমিয়ে পড়া উচিত। আল্লাহ্ তা’আলার কাছে বলা যে, আমার তো ইচ্ছা ছিল সারা রাত জাগার কিন্তু আমি পারলাম না, আমি কমজোর।আপনি আমাকে মাফ করেন। কিছু সময় ঘুমিয়ে আবার ইনশাআল্লাহ্ আমি জেগে বন্দেগী করব।

ঘুমানোর পূর্বে নিজের পরিবারের কোনো সদস্যকে নিজের স্ত্রীকে অথবা নিজের মাকে,নিজের ভাইকে বা অন্য কাউকে বলে রাখা যে, আমি এখন ঘুমাবো।এখন তুমি আমল করো। অর্থাৎ রুটিনটি এভাবে সেট করা যে, রাতের শুরুর ভাগে একজন ঘুমালো, এরপর সে জাগ্রত হল। এরপর আমি ঘুমাইলাম, কেউ না কেউ যেন ঘরের মধ্যে জাগ্রত থাকে এবং ইবাদত-বন্দেগি ঘরের মধ্যে চলতে থাকে। এরকম রুটিন করলে সহজ হবে ইনশাআল্লাহ্।

আর দিলের ভিতরে মেজায এরকম রাখা যে,আমি সারা রাত জাগার জন্য চেষ্টা করব। এরপর যদি দেখা যায় যে, ঘুমের কারনে পারা যাচ্ছে না তখন আর কি করা? ঘুমের প্রচন্ড চাপ নিয়ে ইবাদত করতে থাকা শরীয়তে কাম্য না। বরং তখন ঘুমানো-ই বান্দার দায়িত্ব, বান্দার কর্তব্য এটাই যে, সে তখন বিশ্রাম নিবে। এর দ্বারা বান্দা তার কমজোরি উপলব্ধি করতে পারবে। সে কত দূর্বল! আল্লাহ্ পাক কতটা দুর্বল করে আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, এটা তখন তার একেবারে স্পষ্ট হয়ে যাবে। আল্লাহ্ তা’আলা নিজ মেহেরবানীতে আমাদের প্রত্যেককে রমযানের শেষ দশক, বিশেষ করে বেজোড় রাত্রিগুলোর কদর করার খুব তাওফীক দান করেন, হিম্মত দান করেন।আমাদের প্রত্যেকে আল্লাহ্ পাক কবুল করেন। আমীন..!