রমজানের মাস’আলা মাসায়েল – পর্ব:-১৮

রমজানের মাস’আলা মাসায়েল – পর্ব:-১৮

রোযা মাকরূহ হওয়ার কারণ সমূহ:

*মাসআলা:-৫৭)* রোযা অবস্থায় কুলি করার সময় গড়গড়া করা এবং নাকের নরম অংশ পর্যন্ত পানি পৌঁছানো মাকরূহ।

হযরত লাকিত ইবনে সবিরা (রাযি:) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ *(সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম)* ইরশাদ করেছেন—

*بالغ في الاستنشاق، إلا أن تكون صائما.*

(অযু-গোসলের) সময় ভালোভাবে নাকে পানি দাও, তবে রোযাদার হলে নয়। *[জামে তিরমিযী, হাদীস: ৭৬৬; সুনানে আবু দাউদ ১/৩২২; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস : ৯৮৪৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৩৯৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৯]*

*মাসআলা:-৫৮)* এমন কাজ করা মাকরূহ, যার দ্বারা রোযাদার নিতান্তই দুর্বল হয়ে পড়ে। যেমন শিঙ্গা লাগানো। *[আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৫৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০০]*

*মাসআলা:-৫৯)* রোযা অবস্থায় শরীর থেকে রক্ত বের হলে বা ইনজেকশন ইত্যাদি দ্বারা রক্ত বের করলে রোযা ভাঙ্গবে না। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে এ পরিমাণ রক্ত বের করা মাকরূহ, যার দ্বারা রোযাদার খুব দুর্বল হয়ে যায়।

হযরত সাবেত আলবুনানী (রাহ:) বলেন, হযরত আনাস (রাযি:) কে জিজ্ঞাসা করা হল রোযার হালতে শিঙ্গা লাগানোকে আপনারা কি মাকরূহ মনে করতেন? তিনি বলেন, ‘না। তবে এ কারণে দুর্বল হয়ে পড়লে তা মাকরূহ হবে। *[সহীহ বুখারী, হাদীস ১৯৪০; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৫৬; রদ্দুল মুহতার ২/৩৯৫]*

*মাসআলা:-৬০)* রোযার হালতে গীবত করলে, গালি-গালাজ করলে, টিভি-সিনেমা ইত্যাদি দেখলে, গান-বাদ্য শ্রবণ করলে এবং যে কোনো বড় ধরনের গুনাহে লিপ্ত হলে রোযা মাকরূহ হয়ে যায়। আর এ কাজগুলো যে সর্বাবস্থায় হারাম, তা তো বলাই বাহুল্য।

হাদীসে কুদসীতে আছে, আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেছেন—

*إذا كان يوم صوم أحدكم فلا يرفث ولا يصخب.*

*অর্থ:-* ‘তোমাদের কেউ যখন রোযা রাখে তখন সে যেন অশ্লীল কথা না বলে এবং শোরগোল, হট্টগোলে লিপ্ত না হয়। *[সহীহ বুখারী হাদীস : ১৯০৪]*

সুনানে আবু দাউদের রেওয়ায়েতে এ শব্দ রয়েছে, ‘রোযাদার যেন কোনো অন্যায়-অপরাধে লিপ্ত না হয়। *[হাদীস : ৩৩৬৩ (১/৩২২)]*

হযরত আবু হুরায়রা (রাযি:) বলেন, নবী কারীম *(সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম)* ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা-প্রতারণা ও গুনাহের কাজ ত্যাগ করে না আল্লাহ্ তা’আলার নিকট তার পানাহার থেকে বিরত থাকার কোনো মূল্য নেই।’ *[সহীহ বুখারী, হাদীস ১৯০৩; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৩৩৬২ (১/৩২২)]*