মীকাত প্রসঙ্গ Avatar

মীকাত প্রসঙ্গ

যারা মক্কা মুকাররমার উদ্দেশ্যে বের হবে, তাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থান অতিক্রম করার আগে ইহরাম বেঁধে নেওয়া ওয়াজিব। ঐ নির্ধারিত স্থানকেই মীকাত বলে। কেউ যদি ইহরাম ছাড়া মীকাত অতিক্রম করে, তাহলে আবার মীকাতে ফিরে এসে ইহরাম বাঁধতে হবে, অন্যথায় দম ওয়াজিব হবে।

*১)* “যুলহুলাইফা” মদীনা বা উত্তর দিক থেকে আগমনকারীদের জন্য। এখানে *”মসজিদুল মীকাত”* নামে একটি শানদার মসজিদ আছে। নবীজী *(সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম)* বিদায় হজ্জের জন্য এখান থেকে ইহরাম বেঁধেছিলেন। এখান থেকে মক্কা মুকাররমার দূরত্ব ৪১০ কি.মি.।

*২)* “জুহফা” (বর্তমান নাম রাবিগ) সিরিয়া ও মিসর তথা পশ্চিম দিক থেকে আগমন কারীদের জন্য। এখান থেকে মক্কা মুকাররমার দূরত্ব ১৮৭ কি.মি.।

*৩)* “করনুল মানাযিল” (বর্তমান নাম আসসাইল) নজদ এবং পূর্ব দিক থেকে আগমনকারীদের জন্য। এখান থেকে মক্কা শরীফের দূরত্ব প্রায় ৮০ কি.মি.।

*৪)* “ইয়ালামলাম”(বর্তমান নাম সা‘দিয়া) ইয়ামান এবং দক্ষিণ দিক থেকে আগমনকারীদের জন্য। এখান থেকে মক্কা শরীফের দূরত্ব প্রায় ১২০ কি.মি. কিংবা তার চেয়ে কিছু বেশি।

*৫)* “যাতুইরক” ইরাক এবং উত্তর-পূর্ব দিক থেকে আগমনকারীদের জন্য। *[রদ্দুল মুহতার ৩/৪৭৮ যাকারিয়া, কিতাবুল মাসাইল ৩/১০১]*

বাংলাদেশীদের মীকাত:

বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান থেকে আকাশ পথে গমন কারীদের বিমান করনুল মানাযিল ও যাতুইরক বরাবর হয়ে মীকাতের সীমানায় প্রবেশ করে বলে প্রতীয়মান হয় এবং বিমান জেদ্দা অবতরণের সাধারণত ২০/২৫ মিনিট পূর্বে মীকাতের সীমানায় প্রবেশ করে। এ জন্য আকাশ পথে গমন কারীদের নিজ বাসা, বিমান বন্দর কিংবা বিমান জেদ্দায় অবতরণের কমপক্ষে ২০-২৫ মি. পূর্বে ইহরাম বেঁধে নিতে হবে, অন্যথায় দম ওয়াজিব হয়ে যাবে। *[জাওয়াহিরুল ফিকহ ১/৪৬৫, আহকামে হজ্জ ৩৭-৪২]*