বৃটেনে তাবলীগ জামাআতের মেহনতের বরকত

বৃটেনে তাবলীগ জামাআতের মেহনতের বরকত

১৯৫৬ সালে সর্বপ্রথম জামাআত গিয়েছিল ইংল্যান্ডে। তখন সেখানে মসজিদের সংখ্যা ছিল হাতে গােনা কয়েকটি। আর সেখানকার মুসলমান ছিল পশ্চিমা কৃষ্টিকালচারের নেশায় আসক্ত। ১৯৬৫ সালের পর থেকে সেখানে তাবলীগের মেহনত খুব জোরে শােরে শুরু হল। সেখানে অবস্থানরত এশিয়ান মুসলমানরা এর সাথে সম্পৃক্ত হল। তাদের দেখাদেখি আরব মুসলমানরাও এর সাথে জুড়ে গেল। তখন থেকে প্রতি বছর নতুন নতুন মসজিদ নির্মিত হতে শুরু হল। তাবলীগওয়ালারা অনেক গীর্জা ক্রয় করে মসজিদে রূপান্তরিত করল। তাদের সুন্নত মুতাবিক জীবন যাপন দেখে অনেক বৃটিশও ইসলামের দিকে ঝুঁকল এবং তারা দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করতে লাগল। এখন সেখানে ২ হাজারেরও অধিক মসজিদ তাবলীগ জামাআতের চারটি বড় বড় মারকায রয়েছে। সেগুলি হচ্ছে, ডিউজবেরী, গ্লাসগাে, লন্ডন এবং বার্মিংহাম এই মারকাযগুলাে থেকে সমগ্র ইউরােপে জামাআত প্রেরণ করা হয়। এসব জামাআতের মেহনতের বদৌলতে ইংল্যান্ডের প্রায় সব মসজিদে প্রতিদিনকার আমল চালু হয়েছে। দ্বীনী শিক্ষার জন্য ২০ টার অধিক দারুল উলুম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর হিফয ও নাজেরা খানাগুলােতে সাড়ে তিন লাখেরও বেশি শিশু কুরআন পাক শিখছে, মুখস্থ করছে।

একবার লন্ডনে একটি জামাআত গেল। তাদের লম্বা জামা, টাখনুর উপর জামা আর মাথায় গােল টুপিতে তাদেরকে অন্য ধরনের মানুষ, মনে হল। কিন্তু এতদসত্বেও ইংরেজরা তাদেরকে অনেক শ্রদ্ধা করত। একবার তারা কোন এক পার্কের মধ্যে নামায পড়ল, নামায শেষ করে বসেছিল এমন সময় এক ইংরেজ সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের পিঠে হাত বুলিয়ে তাতে চুমু খেল। একজন জিজ্ঞাসা করল, তুমি এদেরকে এত সম্মান করছ কেন? সে বলল, এই লেবাসে তাদেরকে হযরত ঈসা এবং মুসা (আঃ) এর মত মনে হয়।

ভায়েরা আমার! একটু চিন্তা করুন, শুধুমাত্র সুন্নতি পােশাকের কারণে যদি অমুসলিমদের অন্তরে এতটুকু শ্রদ্ধাবােধ পয়দা হয়ে থাকে তাহলে আমরা যখন আমাদের পুরা যিন্দেগীতে সুন্নতকে বাস্তবায়ন করব তখন অবস্থা কি দাঁড়াবে? বহির্বিশ্বে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে যে, তাবলীগের সাথিরা গাশতে বের হয়েছে, আর তাদের চেহারা দেখে অনেক ইহুদী খৃষ্টান এই বলে মুসলমান হয়ে গেছে যে, এসব চেহারা মিথ্যাবাদীর চেহারা হতে পারে না। ইংল্যান্ডে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তাবলীগের সাথিরা প্রায় ১০০ গীর্জা খরীদ করে মসজিদে রূপান্তরিত করেছে। ১৯৯৬ সালে জনৈক পাদ্রী সরকারের নিকট এই মর্মে আর্জি দাখেল করল যে, আমাদের লােকেরা নিজেদের গীর্জাগুলােকে যখন আবাদ করতে পারছে না তখন সেগুলাে যেন মুসলমানদের হাতে তুলে দেয়া না হয়। তারা এগুলাে দিয়ে মসজিদ বানাচ্ছে। তখন সেখানে কানুন পাশ করা হল যে, কোন গীর্জাকে মসজিদ বানানাে যাবে না। হল্যান্ডে যে তাবলীগের মারকায রয়েছে সেটি ছিল পাদ্রীদের শিক্ষালয়। পাদ্রীদেরকে সেখানে শিক্ষা দেয়া হত। আল্লাহ পাকের মেহেরবানী যে, আজ সেটি তাবলীগী মারকাযে পরিণত হয়েছে।