নারী জাতির ইতিহাস ও ফযীলত, যে উদ্দেশ্যে নারীর সৃষ্টি

নারী জাতির ইতিহাস ও ফযীলত, যে উদ্দেশ্যে নারীর সৃষ্টি

সষ্টা জানেন সৃষ্টির উদ্দেশ্য। যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনি যখন বলে দিলেন যে, আমি এই জন্য সৃষ্টি করেছি তখন সেখানে অন্য কারাে আর কোন কিছু মন্তব্য করার থাকে। না। নারী জাতিকে কি জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে সেকথা আল্লাহ তাআলা কুরআনে কারীমে স্পষ্ট ভাষায় ইরশাদ করেছেন ।

ومن أيته أن خلق لكم من أنفسكم ازواجا لتسكنوا إليها –

আর এক নিদর্শন এই যে, তিনি তােমাদের জন্য তােমাদের মধ্য থেকে তােমাদের সংগীনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তােমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক। (সুরায়ে রূম-২১)

আলােচ্য আয়াতে নারী জাতি সৃষ্টি করার রহস্য ও উপকারিতার বর্ণনা করতে যেয়ে মহান স্রষ্টা ইরশাদ করছেন যে, তােমরা তাদের কাছে পৌছে শান্তি লাভ কর, এ কারণেই তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে। পুরুষদের যত প্রয়ােজন নারীর সাথে সম্পৃক্ত সবগুলি সম্পর্কে চিন্তা করলে দেখা যাবে যে, সবগুলির সারমর্মই হচ্ছে মানসিক শান্তি ও সুখ। কুরআন পাক একটি মাত্র শব্দ ব্যবহার করে সবগুলিকে সন্নিবেশিত করেছে। এর দ্বারা জানা গেল যে, বৈবাহিক জীবনের যাবতীয় কাজ কারবারের সারমর্ম হচ্ছে মনের শান্তি ও সুখ। যে পরিবারে এই সুখ শান্তি বজায় আছে সেই পরিবারের সৃষ্টির উদ্দেশ্য সফল। আর যেখানে মানসিক শান্তি অনুপস্থিত সেখানে আর যাই থাকুক বৈবাহিক জীবনের সাফল্য নেই। আর এই মনের শান্তি তখনই লাভ করা সম্ভব যখন উভয় পক্ষ একে অপরের অধিকার সম্পর্কে সজাগ হয় এবং তা আদায় করে নেয়। নতুবা অধিকার আদায়ের সংগ্রাম পারিবারিক শান্তি বরবাদ করে দেবে। যার বাস্তব নমুনা আজ আমরা আমাদের সমাজে প্রত্যক্ষ করছি।

ইসলাম নারী জাতির উপর গৃহের ব্যবস্থাপনা ও দেখাশুনা করার দায়িত্ব অর্পন। করেছে। বাইরের জগত সামাল দেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে পুরুষকে। সন্তানকে দুগ্ধ পান, তার লালন সহ ঘরের যাবতীয় দায়িত্ব পালনের জন্য নারী জাতির সৃষ্টি। ইরশাদ হচ্ছেঃ “আর মায়েরা স্বীয় সন্তানদেরকে দুধ পান করাবে। দুধ পান করানাে হচ্ছে স লালনের সর্ব প্রথম ধাপ। এর পরবর্তী ধাপগুলিও নারীরই পালনীয় যতক্ষণ না , নিজের কাজ নিজে করতে শেখে “

কুরআনে কারীম নারীদেরকে গৃহের ব্যবস্থাপক ও সংরক্ষক আখ্যায়িত করে ঘােষণা করছেঃ 

“আসল হেফাজতের মালিক তাে আল্লাহ । কিন্তু বাহ্যিকভাবে গৃহের হেফাজতকরী নারীরাই হয়ে থাকে। কেননা পুরুষরা কামাই রােযগারের ধান্দায় ঘরের বাইরেই বেশী সময় কাটায়। তাদের অনুপস্থিতিতে গৃহের মাল-আসবাব ও সন্তানের দেখাশুনার দায়িত্ব নারীর উপর অর্পিত হয়। এ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন “

অর্থাৎ নারীর জন্য জরুরী হচ্ছে তারা পুরুষের অধিকার রক্ষায় এবং তাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সচেষ্ট থাকবে । ভ্রান্ত পথ থেকে তাদেরকে দূরে রাখবে। এবং এমনভাবে তাকে আগলে রাখবে যেমন নাকি রাখাল স্বীয় বকরী পালকে নেকড়ের হাত থেকে রক্ষা করে। (মিশকাত শরীফ-৩২০, মুসলিম শরীফ-১২২)।

হাদীস শরীফে নেককার দ্বীনদার নারীদেরকে দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসাবে অভিহিত করা হয়েছে। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, সারা দুনিয়া হচ্ছে উপকৃত হওয়ার বস্তু। আর দুনিয়ার সম্পদের মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়। তা হচ্ছে দ্বীনদার নারী। (মিশকাত-২৬৭, নাসাই শরীফ-২/৭১) |

প্রিয় পাঠক-পাঠিকা বৃন্দ! এতক্ষণের আলােচনা দ্বারা আমরা বুঝতে পারলাম যে, নারী জাতিকে কি জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে এবং তারা যদি সেই উদ্দেশ্য পূরণে সচেষ্ট হয় তাহলে তারা কত উঁচু মর্যাদার অধিকারী হয়ে যায়। পক্ষান্তরে তারা যদি সেই দায়িত্ব বােধ থেকে হটে যায় তাহলে তখন তারা কোন অতল গহ্বরে পতিত হয়।