দুই মেরুর এক মেরু – পর্বঃ-৩০+৩১+৩২ Avatar

দুই মেরুর এক মেরু – পর্বঃ-৩০+৩১+৩২

ঈশান লাফ দিয়ে উঠে বসে হাঁপাতে শুরু করলো। মাথা থেকে ঘাম ঝরে পড়ে সমগ্র গলা ভিজে উঠলো। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলো। নিজেকে বিছানায় আবিষ্কার করতে পেরে ঈশান একবার চার দিকে দৃষ্টি বোলালো। গোটা ঘটনাটাই স্বপ্ন বলে নিশ্চিত হওয়ার পর ঈশান দুটো স্বস্তির নিঃশ্বাস নিয়ে ওয়াশ রুমের দিকে চলে গেলো।

দীর্ঘ দুটো স্বস্তির নিঃশ্বাস নিলেও ঈশানের মনে কোন রকম স্বস্তি কাজ করলো না।
ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে ঈশান রাতের পোশাকেই অহনার বাড়ির দিকে রওনা দিলো।

পুরো পথে ঈশান শুধু একটাই কথা ভাবতে লাগলো,
_”যা স্বপ্নে দেখেছি তা সত্যি হবে নাতো? মামা ঠিক আছে তো নাকি? কালকের ব্যবহারটা সত্যিই ভীষণ খারাপ হয়ে গিয়েছিলো! আমিও না অকারণে রেগে যাই। যদিও কালকে আমি রেগে যাই নি। যা বলেছিলাম একেবারে ঠান্ডা মাথায়। যেটাকে বলা হয় ঠান্ডা মাথার খুন।

মামার যদি কিছু হয়ে যায় তাহলে আমি অহনাকে মুখ দেখাবো কি করে? বোঝাবো কি করে আসলে আমি,,,,,
ঈশান এসব কিছু ভাবতে ভাবতেই অহনার বাড়ির সামনে এসে বাইক ব্রেক করলো।
বাইকটা কোনরকম গেটের সামনে রেখেই ঈশান তড়িঘড়ি করে বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়লো।
বাড়ির চারপাশে অনেক ভিড়। বাহিরের দৃশ্যপট ঈশানকে অনেক দুর্বল করে তুললো। ভিতরে ঢুকেই ঈশান চিৎকার করতে শুরু করলো।
_”অহনা !
অহনা!
কিন্তু ঈশানের হাজার চিৎকার সত্ত্বেও অহনা ঘর থেকে বেরিয়ে আসলো। মিনিট দেড়েক পরে সোহানা ঈশানের দিকে এগিয়ে আসলো।
_”কি হয়েছে ভাইয়া?
_”অহনা কোথায়?
_”আপু তো বাড়িতে নেই।
_”ঠিক আছে মামা কোথায়?
_”আব্বু,,,,,
_”কি হলো বলো মামা কোথায়?
সোহানার উত্তর দিতে বিলম্ব হওয়ায় ঈশান দৌড়ে অহনার বাবার বেডরুমে ঢুকে পড়লো।
অহনার বাবাকে ওড়না হাতে নিয়ে ফ্যান বরাবর টুলের ওপর দাঁড়াতে দেখে ঈশানের ভেতর মোচড় দিয়ে উঠলো।ঈশান অহনার বাবার হাত ধরে টেনে বিছানা থেকে নিচে নামিয়ে চিৎকার করতে লাগলো।
_”পাগল হয়ে গেছো তুমি ? আমি না হয় দুইটা কথা বলেছিলাম। তার জন্য তুমি এরকম হঠকারী সিদ্ধান্ত নেবে?
_”ঈশান বাবা,,,,,,
_”আর একটাও কথা নয়। তুমি এটা কী করতে যাচ্ছিলে? তোমার বোন তো আমায় সেই ছোট কালে একা করে দিয়ে চলে গেলো। আর এখন তুমিও,,,?
_”ঈশান বাবা তুমি একটু শান্ত হও!
_”কি করে শান্ত হবো বলো তুমি আমাকে?আমি মানছি কালকে আমি অনেক উল্টাপাল্টা কথা বলে গিয়েছিলাম। তোমার তো অধিকার আছে আমার উপর। চড় মারতে পারতে তো একটা। তোমার মেয়ে তো ঠিকই মেরে দিয়েছিলো। তুমিও না হয় মেরে দিতে। কিন্তু সেটা না করে তুমি সুইসাইড করতে যাচ্ছিলে?
আই এম সরি!
_”তোমাকে সরি বলতে হবে না বাবা। আমিতো তোমাকে কালকেই মাফ করে দিয়েছি। আমি জানি তোমার মনে খুব কষ্ট! সেই থেকেই তুমি এতো কঠোর ব্যবহার করো।
_”মাফ করো নি তুমি আমাকে। যদি মাফ করতে তাহলে এভাবে সুইসাইড করতে যেতে না।
_”সুইসাইড? কে সুইসাইড করতে যাচ্ছিলো? আমি তো তোমার কথা কিছুই বুঝতে পারছিনা।
_”কে আবার তুমি।
_”আমি সুইসাইড করতে যাচ্ছিলাম?
_”হ্যাঁ।
_”কিন্তু কখন?
_”ওই তো আমি এসে দেখলাম তুমি একটা ওড়না হাতে নিয়ে ফ্যান বরাবর টুলে দাঁড়ালে। আমি ঠিক সময় মতো না আসলে তো তুমি,,,,,,
_”পাগল নাকি? আমি তো এরকম পাপ কখনোই করবো না।
_”মানে? তাহলে তুমি ওইভাবে কি করতে যাচ্ছিলে?
_”আমিতো পুরাতন ওড়না দিয়ে ফ্যানটা মুছতে যাচ্ছিলাম। কালকে সারারাত গরমে ঘুমাতে পারিনি।ভাবলাম একটু ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ফ্যান টা মুছলে হয়তো কিছুটা গরম কমবে।
_”তুমি এই জন্যই টুলে দাঁড়িয়ে ছিলে?
_”হ্যাঁ এই জন্যেই। সুইসাইড করার মতো কোন সখ আমার নেই বাবা।
অহনার বাবার কথা শুনে ঈশান প্রচন্ড রকমের লজ্জা পেয়ে গেলো!
সবার সামনে নিজের লজ্জা কে আড়াল করতে ঈশান বলে উঠলো,
_”ও সোহানা!
তুমি বলেছিলে তোমার আপু নাকি বাড়িতে নেই। কোথায় গেছে তোমার আপু?
_”আপু তো বাহিরে গেছে।
_”হ্যাঁ বাড়িতে নেই মানে তো অবশ্যই বাহিরে গেছে। কিন্তু কোথায় গেছে সেটা জানো?
_”না সেটা তো বলতে পারবো না। তবে কারা যেনো কল করে আপুকে ডেকে নিয়ে গেছে।
_”কল করে?
_”হ্যাঁ ভাইয়া।

ঈশান দ্রুত অহনাকে খুঁজতে বের হয়ে গেলো। অন্যদিকে অহনা রিজওয়ান আর মীরার সাথে ঈশানের বাড়ি গিয়ে পৌঁছালো। বাড়িতে পৌঁছে ঈশান কে না পেয়ে অহনা রিজওয়ান কে বললো,
_”স্যার আমার খুব ভয় করছে!
_”ভয় কিন্তু কেনো?
_”ঈশান স্যার যদি আমাকে বিশ্বাস না করেন।
_”বিশ্বাস করার মতো কোনো ব্যাপার তো ঘটেনি। তাহলে ভাইয়া তোমাকে কিসের ভিত্তিতে বিশ্বাস করবে?
_”আপনি এসব কি বলছেন স্যার?
_”কেনো ভুল কিছু বলছি আমি?
_”অবিশ্বাসের মতো কি করেছি আমি?
_”দেখতে চাও কি করেছো?
_”হ্যাঁ অবশ্যই দেখতে চাই।
_”একটু অপেক্ষা করো সব দেখতে পাবে। তোমাকে আমি এমন কিছু দেখাবো যাতে তুমি বুঝতে পারো ভাইয়া আসলে তোমাকে নয় মীরাকে ভালোবাসে।
_”এ সব কি বলছেন আপনি স্যার?
_”হ্যাঁ ঠিক বলছি। বিশ্বাস না হলে এই ছবিটা দেখো। তোমাকে এই ছবিটা দেখানোর কতো চেষ্টা করেছি আমি। কিন্তু তুমি তো দেখলেই না। যাইহোক এখন দেখতে পারো।

অহনা রিজওয়ানের হাত থেকে ফোনটা নিয়ে ছবিটা দু’মিনিট ভাল করে দেখলো। তারপর ফোনটা রিজওয়ানের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে বললো,
_”আপনার কি মনে হচ্ছে ঈশান স্যারের প্রতি আমার বিশ্বাস এতোটাই ঠুনকো? সামান্য একটা ছবি দেখে আমি স্যারকে ভুল বুঝতে শুরু করবো? কখনই নয়। আমি আপনার মতো মানুষের কথা বিশ্বাস করতে পারিনা।
_”তাই নাকি?
_”হ্যাঁ অবশ্যই তাই।
_”কিন্তু তোমাকে যে ভাইয়া বিশ্বাস করবে না। কারণ ভাইয়া তো জানেই‌ না তোমার আর ভাইয়া মাঝে আদৌ কোন কিছু হয়েছে কিনা।
_”জানে না মানে? কি বলতে চান আপনি?
_”বুঝতে পারছো না কি বলতে চাই?
_”আপনার মতো মানুষের কথা বোঝা যায়?
_”ঠিক আছে বলছি। দেখো তোমাকে তো আমি আর মীরা দুজন মিলে ডিএনএ টেস্ট করিয়ে আনলাম। রিপোর্টে ভাইয়ার নামই এসেছে। কিন্তু সেটা ভাইয়া দেখতে পাবেনা।
_”কেনো পাবে না বলুন?
_”আরে বলছি বলছি।
দেখো ভাইয়াকে তো তোমার ডিএনএ টেস্টের ওরিজিনাল রিপোর্টটা দিবো না। দেবো মীরার ডিএনএ টেস্টের রিপোর্টটা। আর মীরার সন্তানের বাবা তো আমি। তাই টেস্টে নামটাও এসেছে আমার।
আর ভাইয়া রাগের মাথায় রিপোর্টটা কার সে নামটা দেখার কোন প্রয়োজনই বোধ করবে না। ফল সেটাই হবে যেটা,,,,
_”থামুন আপনি! পারলে আমায় এটা বোঝান স্যার কেনো বিশ্বাস করবেন না আমি স্যারের সন্তানের মা হতে পারি?
_”দেখো অহনা ভাইয়া তো সেই রাতের কোন কিছুই জানেনা! তাহলে কি করে বিশ্বাস করবে?
_”কিন্তু একটা মানুষ নিজের অজান্তে এরকম কিছু কিভাবে করতে পারে? এটা হতেই পারে না।
_”কেনো হতে পারে না? খেলাটা যখন আমি আর মীরা দুজন মিলে তৈরি করেছি। তখন তো হতেই হবে।

কিন্তু খেলায় কিছুটা ভুল হয়ে গেছে যে রিজওয়ান!
ঈশানের কন্ঠ পেয়ে রিজওয়ান আর অহনা দুজনই পিছে ফিরে তাকালো।
_”মানে এসব কি বলছো তুমি ভাইয়া? কিসের খেলা?
_”ন্যাকামি করবেনা রিজওয়ান। তুমি কি ভাবো আমি কিছুই বুঝতে পারি না। সেদিন বলেছিলাম না আমি ফালতু কাজে সময় নষ্ট করি না মানে এই নয় যে,আমি খেলতে জানি না।
_”তুমি কিসের খেলার কথা বলছো আমি সত্যি বুঝতে পারছি না।
_”এখন তুমি কিছুই বুঝবে না রিজওয়ান। আসলে কি জানো? তুমি হয়তো ভুলেই গেছিলে বাবা আমার এক্সট্রা সেফটির জন্য আমার ঘরে দুটো সিসি ক্যামেরা লাগিয়েছে।
আর অহনাকে যে রাতের কথা বললে না তুমি? সে রাতের সমস্ত ঘটনা সিসি ক্যামেরায় বন্দি হয়ে গেছিলো। সে সবকিছু আমি দেখেছি। আমার নিজেকে বিছানায় দেখেই সন্দেহ হয়েছিলো। তাই আমি তড়িঘড়ি করে বিষয়টা অনুসন্ধান করতে শুরু করে দিলাম। আর তারপর সব পরিষ্কার।

এখন কি মনে হচ্ছে রিজওয়ান তুমি খেলতে ভুল করোনি?
_”শুধু ওইটুকু দেখেই এতো উত্তেজিত হয়ে আছো ভাইয়া? আমার কাছে তো আরো অনেক প্রমান আছে। তুমি চাইলে আমি তোমাকে দেখাতে পারি।
_”কি দেখাবে তুমি?
_”আগে দেখো!
রিজওয়ান অহনার সাথে বাংলোর ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি ঈশানের দিকে এগিয়ে দিলো। ঈশান ছবিটা ভালো করে দেখে ফোনটা রিজওয়ানের হাতে ফিরিয়ে দিলো।
_”কি ব্যাপার এখন যে চুপ করে গেলে? খুব তো বড় বড় কথা বলছিলে! এখন মুখ বন্ধ হয়ে গেলো কেনো?
ঈশান একবার আড়চোখে অহনার দিকে তাকালো তারপর বলতে শুরু করলো,
_”রিজওয়ান আমি তোমাকে যতই দেখি আমার ততই অবাক লাগে! আচ্ছা তুমি ভাবলে কি করে তোমার একটা ছবি দেখে আমি অহনাকে ভুল বুঝতে শুরু করবো? তোমার কি মনে হয় অহনার প্রতি আমার বিশ্বাস এতোটাই ঠুনকো?

ঈশানের কথা শুনে অহনা চমকে উঠলো!নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে দৌড়ে এসে অহনা ঈশান কে জাপটে ধরলো!
_”স্যার!
_”চলে যাও তুমি আমার সামনে থেকে।
কখনোই আমার কাছে আসবে না তুমি।
_”কেনো স্যার? কি করেছি আমি?
_”কিছু করোনি?
_”কি করছি স্যার বলুন!
_”কে বলেছিলো তোমায় আমাকে একটা কিডনি দিতে? আমি বলেছিলাম? একেতো আমার কিডনি নিজে ড্যামেজ করালে। আর তারপর ভাব দেখিয়ে নিজেরটা দিয়ে দিলে। কেনো করলে তুমি এসব?
_”স্যার আপনি এসব কিভাবে জানলেন?
_”ও তুমি কি ভেবেছিলে?তুমি গোপনে গোপনে মহান সেজে থাকবে আর আমি কিছু জানতে পারবো না?এই মেয়ে! আমার দিকে তাকাও!
_”বলুন স্যার!
_”তোমার যদি কিছু হয়ে যেতো?
_”স্যার আপনি আছেন তো। কি হবে আমার?
_”একদম মুখে মুখে তর্ক করবে না। কি হবে তোমার তাই না? এখন যে বডিতে মাত্র একটা কিডনি আছে তোমার।পারবে তো আমার সন্তানকে সুস্থ ভাবে দুনিয়ায় আনতে?
_”স্যার,,,,,,!
_”কি হলো এতো কাঁদছো কেনো?
_”এতোদিন পরে আপনি আমায় বিশ্বাস করলেন! আমি কাঁদবো না হাসবো নিজেই বুঝতে পারছিনা।
_”এতো ইমোশন কেনো তোমার?
_”জানিনা স্যার। তবে আজকে একটু বেশিই!
_”আরেকটু বাড়িয়ে দেই?
_”কিভাবে স্যার?
_”দিবো নাকি বলো?
_”হুম দিন!
_”অহনা!
_”বলুন স্যার!
_”একটা সত্যি কথা বলি আজ?
_”বলুন স্যার! আজকে সত্যি মিথ্যে সব শুনবো আমি।
_”ভালবাসি আমি তোমাকে! খুব বেশি ভালোবাসি! তোমার কিছু হয়ে গেলে মরেও যেতে পারি।
_”স্যার!
_”সত্যিই খুব ভালোবাসি! নিজের থেকেও বেশি! আমিতো নিজেকে মোটেও ভালোবাসি না। তবে তোমাকে খুব বেশি,,,,,!
_”স্যার আজকে আমার জীবনের সবথেকে বেশি খুশির দিন। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না আপনি এতো কিছু কি করে জানলেন?
_”অহনা এসব কিছু আমি অনেক আগে থেকেই জানি। যেদিন হাসান আমাকে ঋণশোধের কথা বলেছিলো। ঠিক সেদিনই আমি জানতে পেরে যাই তুমি আমাকে কিডনি দিয়েছিলে।

ওই দিন থেকেই আমি তোমার প্রতি দুর্বল হতে শুরু করি! ভালবাসলেও সেটা বুঝতে পারিনি। তবে তোমাকে হারাতে পারবো না সেই জেদ করে বিয়ে করে ফেলি।
তুমি কিছুই বুঝতে পারোনি। আমি ঠিক বুঝতে পেরেছিলাম রিজওয়ান তোমার সাথে চান্স নেওয়ার চেষ্টা করছে। আর মীরা আমার সাথে।

আর সে রাতে নিজেকে বিছানায় পেয়ে আমি আরও নিশ্চিত হয়ে গেলাম অনেক বড় কোনো গন্ডগোল হতে চলেছে। এটারো সমাধান করে ফেললাম।

আজকে রিজওয়ান মেডিকেলে তোমাকে নিয়ে ডিএনএ টেস্ট করালো। কিন্তু রিজওয়ান ভাবতে পারেনি ও আমার ওয়াইফ কে নিয়ে টেস্ট করালে আমার কাছে ঠিক সংবাদ চলে আসবে। ব্যাস আমি সময় মতো চলে আসলাম।
_”কিন্তু স্যার আপনি সবকিছু জেনেও কালকে,,,,,
_”এমন খারাপ ব্যবহার করেছিলাম তাই তো?
_”হ্যাঁ স্যার।
_”কারণ সেই রাতে রিজওয়ান আমার পেছনে পেছনে তোমাদের বাড়ি গিয়েছিলো।আমি যদি ঐরকম ব্যবহার না করতাম তাহলে আজকে এইভাবে সামনাসামনি চোর ধরতে পারতাম না। বুঝলে?
_”হ্যাঁ। তাহলেতো আপনি অনেক কিছু জেনে গেছেন স্যার।
_”শুধু অনেক কিছু নয় অহনা। বরং সবকিছু।
_”আর কি জেনেছেন স্যার?
_”জানতে পেরেছি এই নোংরা চরিত্রের ছেলেটা আমার নিজের আপন ভাই নয়। আমার বাবার সন্তান নয়। কারন আমার বাবার সন্তান এতোটা নীচ হতে পারে না।
_”তাহলে,,,,,,,,,

_”তাহলে আর কিছু নয় অহনা। এটা ওই ঘটনা যেটা একদিন আমি তোমাকে ঈশানের রুমে বসে বলেছিলাম। একদিন কারো একজনের সামান্য ভুলের কারনে আমার জীবনটা নষ্ট হয়ে গেছিলো।
আরিয়ানের কন্ঠ শুনে অহনা দৌড়ে আরিয়ানের কাছে গিয়ে দাঁড়ালো।
_”কার ঘটনা স্যার?
_”রেহনুমার। সবার সামনে দুষ্টুমি করে নিজের পেটের সন্তান কে আমার সন্তান বলে দাবি করেছিলো। আর তারপর অনেক কিছু ঘটে গেলো। আমার জীবন থেকে হারিয়ে গেলো মেঘনা! আমি হয়ে গেলাম নিঃস্ব!
_”কিন্তু স্যার সে সন্তান কার ছিলো তাহলে?
_”জানিনা কার ছিলো। তবে আমার উপর তো চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিলো। আর সেই পাপকে টেনে বড় করেছি আমি। এখন এই পাপ তোমার জীবনটা নষ্ট করতে চেয়েছিলো।
_”মানে স্যার আপনি কি বলতে চাইছেন? রিজওয়ান,,,,
_”হ্যাঁ ঠিক ধরতে পেরেছো। মা ছেলে দুজন মিলে আমাদের সবার জীবনটা নষ্ট করে দিলো। আর তাদের সাথে যোগ দিলো মীরা।

ঈশান অহনার হাত ধরে টেনে নিজের দিকে ঘোরালো।
_”অহনা আমার মা আমায় ফেলে চলে যায়নি। আমি ভুল বুঝেছিলাম আমার মাকে। আমি ভুল,,,
_”হ্যাঁ স্যার! আজকে মামুনের সমস্ত দুঃখ কষ্টের অবসান ঘটলো!
_”তুমি আমায় একবার মায়ের কাছে নিয়ে চলো অহনা। আমি মায়ের কাছে ক্ষমা চাইতে চাই! একবার মায়ের কোলে মাথা রাখতে চাই!
_”কিন্তু সেটা তো সম্ভব নয় স্যার।
_”কেনো?
_”কারণ মামনি তো আপনার শোকে-শোকে অনেক আগেই আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে গেছে!

অহনার কথা শুনে ঈশান ধপাস করে সোফায় বসে পড়লো। ঈশানের দু’চোঁখ দিয়ে অনবরত জল গড়িয়ে পরতে থাকলো!
ঈশান কে এভাবে কাঁদতে দেখে আরিয়ান ইশানের ডান পাশে এসে বসলো।
_”ঈশান যা হওয়ার তা তো হয়েই গেছে। এখন চাইলেও তুমি আর কখনো নিজের মাকে ফিরে পাবে না। তবে যাকে পেয়েছো তাকে মূল্যায়ন করো!
অহনা একটু এদিকে এসো!
অহনা কাছে আসতেই আরিয়ান ঈশান আর অহনা দু’জনের হাত একসাথে করে চেপে ধরলো।
_”আজকের পর থেকে সারা জীবন এই দুটো হাত একসাথে দেখতে চাই। কোন পরিস্থিতি যেনো তোমাদেরকে আলাদা করতে না পারে। ভুলে যেও না বহু কষ্টের পরে দুটো মেরুকে একমেরু করা গেছে।

আরিয়ান ঈশান আর অহনাকে একসাথে করে দিয়ে মাঝ থেকে উঠে চলে গেলো। অহনা আলতো করে ঈশানের চোঁখের জল মুছে দিতে দিতে বললো,
_”স্যার কাঁদলে কিন্তু আপনাকে ভুতুম পেঁচার মতো লাগে!
_”আর তোমাকে কিসের মতো লাগে?
_”মিসেস ভুতুম পেঁচার মতো !

অহনার কথা শুনে হাসতে হাসতে ঈশান অহনাকে বুকে চেপে ধরলো।

চলবে……

গল্প: দুই মেরুর এক মেরু।
লেখা: আফরাহ্ হুমায়রা।