দুই মেরুর এক মেরু – পর্বঃ-২৮+২৯

দুই মেরুর এক মেরু – পর্বঃ-২৮+২৯

অহনা খুব নিরামিষ লাগছে!
_”কেনো স্যার?
_”এইতো ওপরে চাঁদ , পৃথিবীতে বৃষ্টি। বউটা কোলে আছে তবুও কিছু বোঝে না তাই।
_”স্যার,,,,
_”বলো!
_”যা ইচ্ছে করে নেন আমি চোঁখ বুঝছি!
অহনা চোঁখ বন্ধ করতেই ঈশান অহনাকে নিজের বুকের সাথে শক্ত করে চেপে ধরে।
_”অহনা আমি তোমাকে খুব,,,,,,
_”খুব???
_”খুব,,,,, মানে খুব।
_”সেটাইতো বলছি স্যার। খুব মানে কি?
_”মানে হল খুব কষ্ট দেই তাইনা?
_”আপনি এটা বলতে চাননি স্যার। যেটা বলতে চেয়েছিলেন সেটাই বলুন।
_”কে বললো তোমায় আমি এটা বলতে চাইনি?
_”আমার মন।
_”তোমার মন বুঝি তোমাকে আমার ব্যাপার অনেক কিছু বলে?
_”অনেক কিছু না শুধু অনেক হাজারগুন কিছু।
_”তাহলে তোমার মন কি বললো এখন?
_”আপনি আমায় অন্য কিছু বলতে চাইছিলেন। কিন্তু কথা পাল্টে নিয়েছেন।
_”অহনা!
_”বলুন স্যার।
_”একটা সত্যি কথা কি জানো?
_”কি?
_”তুমি আমায় যতোটা বোঝো এতোটা আমায় কেউ বুঝেনা। তবু কেনো জানি আমি তোমাকে বুঝতে পারি না। হয়তো এটা ঈশানের ব্যর্থতা।
_”স্যার আপনি এভাবে কেনো বলছেন? আর আপনাকে কে বললো আপনি আমায় বুঝতে পারেন না?
_”মন।
_”আপনার মন আপনাকে আমার ব্যাপারে কিছু বলে?
_”শুধু কিছু নয় হাজারগুন কিছু বলে।
_”স্যার আপনি আমাকে ব্যঙ্গ করছেন?
_”মোটেও নয়।
_”আমি ঠিক বুঝতে পারছি। আপনি কেনো এরকম করছেন আমার সাথে স্যার?
_”আমি সত্যি বলছি আমি তোমাকে মোটেও ব্যঙ্গ করছি না।
_”স্যার!
_”হ্যাঁ বলো?
_” আমাকে ভালোবাসেন?

অহনার প্রশ্নে ঈশান কিছুটা ইতস্ত বোধ নিয়ে অহনাকে কোল থেকে নামিয়ে দূরে চলে গেলো। অহনা দৌড়ে এসে ঈশানকে পিছন থেকে জাপটে ধরলো।
_”কি হলো স্যার? বলুন আমায় ভালবাসেন কিনা?
_”অহনা!
_”স্যার আর কিছু শুনতে চাই না। হ্যাঁ অথবা না বলে দিন আজকে আমায়।
_”এরকম কেনো করছো তুমি?
_”কি করেছি আমি স্যার? শুধু তো শুনতে চাইছি আপনি আমায় ভালবাসেন কিনা। এই ছোট কথাটা বলতে আপনার এতো সমস্যা?
_”অহনা ব্যাপারটা সমস্যার নয়।
_”তাহলে কিসের স্যার?
_”তুমি ঘরে যাও। এখন আমি আসছি।
_”আমার কথা না শুনে আপনি কোথাও যাবেন না স্যার।
_”কি কথা আছে তোমার বলো।
_”আমি মা হতে চলেছি। আর সেটাও,,,,,।
_”কি? মাথা খারাপ হয়ে গেছে তোমার?
_”মাথা খারাপ হতে যাবে কেনো?
_”না হলে তুমি এরকম একটা কথা বলতে না অহনা। তুমি কিভাবে মা হতে পারো আমাকে একটু বলোতো?
_”হতে পারি না স্যার?
_”না হতে পারো না।কারণ আমার আর তোমার ফিজিক্যাল কোন কিছু তো দূরে থাক,,,,,,,
_”থামলেন কেনো স্যার? বলুন কি বলতে চেয়েছিলে!
_”কিছু না।
_”বলুন স্যার!
_”মনের সাথে মনের কোন মিল হয়নি। খুশি?
_”খুশি কিংবা অখুশির কি আছে স্যার? যা বলেছেন সেটা তো একদম ঠিক কথা।
_”হ্যাঁ ঠিকই বলেছি।
_”ঠিক আছে স্যার আমি ঘরে যাচ্ছি।
_”হ্যাঁ যাও যাও। তোমার মামনি যে রকম তুমিও ঠিক ওই রকমই। কোন তফাৎ নেই এই পরিবারের মেয়েদের মাঝে। সবার চরিত্র একরকম।
ঈশানের কথা শুনে অহনা থমকে দাড়ালো এবং আগের থেকেও বেশি কাছে এসে দাঁড়ালো।
_”এটা কি বলছেন আপনি স্যার?
_”হ্যাঁ একদম ঠিক বলছি।
_”স্যার আমি আপনাকে বলেছি কথায় কথায় মামনি কে টেনে আনবেন না। কি ক্ষতি করেছে মামনি আপনার?
_”জানো না কি ক্ষতি করেছে ওই মহিলা আমার?
_”জানিনা বলেই তো জিজ্ঞাসা করছি।
_”ওই মহিলা আমার জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছে। আমি ছোট থেকে বড় হয়েছি ঠিকই । কিন্তু সেটাও ভালোবাসাহীন হবে। শুধুমাত্র ওই মহিলাটার কারণে।
_”আপনার এতো দুর্গতির জন্য কোনোভাবেই মামনি দায়ী নয়। মামনি আপনাকে কখনোই কষ্ট দিতে চায় নি। কিন্তু পরিস্থিতি এরকম তৈরি,,,,,
_”ব্যাস! আর একটাও কথা নয়। ওই মহিলার সাপোর্ট কেনো নিচ্ছো? তুমিও ওই মহিলার মতোই নোংরামী করেছো তাই?
_”স্যার আপনি এসব কি বলছেন?
_”কেনো ভুল কিছু বলছি?
_”একবার নিজেকে প্রশ্ন করে দেখুন স্যার!
_”সেটার কোনো প্রয়োজন নেই । কারন আমার মন যা ভাবছে আমি তোমাকে ঠিক সেটাই বলছি।

অহনা আর ঈশানের তর্কবিতর্কের শব্দে বাড়ির সবাই বাহিরে বেরিয়ে এলো। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য অহনার বাবা এগিয়ে এসে ঈশানের কাঁধে হাত রাখলো।
_”বাবা কি হয়েছে? তুমি এতো রেগে আছো কেনো?
_”রাগবো না আমি?
_”আমি সেটা বলছি না। আমি বলছি রেগে থাকার কারণ কি?
_”রেগে থাকার কারণ জানতে চাও?
_”হ্যাঁ অবশ্যই জানতে চাই।
_”রেগে থাকার কারণ হলো তোমার এই সু’চরিত্রের মেয়ে!
_”বাবা কি বলতে চাও তুমি? একটু পরিষ্কার করে বলো! না হলে আমি যে তোমার কথা বুঝতে পারছিনা।
_”বুঝবেই না। কারণ তোমার বোনও তো এই পথেরই পথিক ছিলো। তাইনা?
_”মানে?
_”মানে হলো তোমার মেয়ে দাবি করছে সে নাকি মা হতে চলেছে। অথচ আমাদের মাঝে সেরকম কোন সম্পর্কই তৈরি হয়নি। তাহলে এ সন্তান নিশ্চয়ই,,,,
_”থামো বাবা তুমি থামো! আমার মেয়ের ব্যাপারে এরকম কথা তুমি বলো না। আমার মেয়ে এতো নীচ নয়। ও তোমাকে খুব ভালবাসে!
কখনোই তোমাকে ঠকাতে পারে না। তোমার কোথাও ভুল হচ্ছে।
_”আমার ভুল হচ্ছে? নাকি তুমি আমাকে বোঝাতে ভুল করছো? তুমি হয়তো ভুলে গেছো তোমার বোন ঠিক এই কাজটাই করেছিলো।আমাকে আর আমার বাবাকে রেখে রাতের অন্ধকারে এক পুরুষের হাত ধরে চলে গেছিলো। আর তোমার মেয়ে আমার অবর্তমানে অন্য পুরুষের সাথে আনন্দে মেতে ছিলো। সিম্পল!
_”না বাবা না। এসব কিছু হতে পারেনা। তুমি যা কিছু ভাবছো সব ভুল। আমার মেয়ে এরকম মেয়ে নয়।
_”তোমার মেয়ে এরকম মেয়ে নয় ঠিক আছে। তোমার স্ত্রীর মেয়ে এরকম মেয়ে হতেও তো পারে।
_”মানে?
_”মানে একটু খোঁজ নিয়ে দেখো এই মেয়েটা আসলে তোমার নাকি,,,,,,

_”স্যার,,,,,,,,,,,
অহনা শরীরের সব শক্তি দিয়ে ঈশানের ডান গালে একটা চড় বসিয়ে দিলো।
_”চলে যান আপনি এখান থেকে! এই মুহূর্তে বেরিয়ে যান এখান থেকে! ছি ছি! আপনার মতো একটা মানুষকে আমি ভালবেসেছিলাম?
_”খুব অন্যায় করেছো তাই না?
_”হ্যাঁ হ্যাঁ অনেক বড় অন্যায় করেছি।
_”এখন মনে হচ্ছে সেটা?
_”হ্যাঁ স্যার এখন মনে হচ্ছে।
_”মনে হওয়াটা তো খুব স্বাভাবিক।আমার সাথে সম্পর্ক থাকলে তো তুমি অন্য ছেলেদের সাথে নষ্টামি করতে পারবে না। তোমাকে আমি বারবার বাঁধা দিবো তাই না? ঠিক ওই জন্যই আমাকে তোমার আর ভালো লাগেনা। তোমার মামনিরও এই প্রবলেমটাই ছিলো। যখন দেখলো আর নষ্টামি করতে পারছেনা তখন,,,,
যাইহোক আমি এতো কথা কেনো বলছি। আসছি অল দ্যা বেস্ট!

ঈশান দ্রুত হাঁটা দিয়ে সবার দৃষ্টির অন্তরালে চলে গেলো। ঈশান চলে যাওয়ার পর অহনা ধীরে ধীরে হেঁটে এসে বাবার পায়ের কাছে বসে পরলো।
_”বাবা আমার জন্য আজকে তোমাকে এতো অপমান হতে হচ্ছে। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও প্লিজ! আমি আর কখনো স্যারের কাছে যাবো না।
অহনার মা এগিয়ে এসে টানতে টানতে অহনাকে দূরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো।
_”কাছে আসবি না আমাদের। ঐরকম একটা ছেলের গলাতেই ঝুলতে হলো। দুনিয়াতে আর কোন ছেলে ছিলো না? আজকে তোর ভুলের জন্য তোর মায়ের চরিত্র,,,,,

অহনার মা কাঁদতে কাঁদতে ঘরে ফিরে গেলো। আর মায়ের পিছে পিছে বাবাও ঘরে চলে গেলো। একে একে সবাই যে যার ঘরে ফিরে গেলো। শুধুমাত্র স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো অহনা। অহনা কিছুতেই নিজের ঘরে ফিরে যেতে পারলো না। যেনো কেউ পেরেক দিয়ে পা গুলো নিচে লাগিয়ে রেখে দিয়েছে।
অহনা কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে বসে পড়লো।
_”আমার সাথেই কেনো এরকম হলো? বাবা মাকে সবসময় কষ্ট দিই আমি। কিন্তু কেনো? আজকে স্যার মাকে কতো অপমান করে গেলেন। সেটাও শুধুমাত্র আমার জন্যেই। স্যারের কাছে কি মানুষের কোন মূল্য নেই?

দীর্ঘ সময় বাহিরে দাঁড়িয়ে থেকে অহনা ধীরে ধীরে নিজের রুমে ফিরে আসলো।ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে ভেজা বালিশে মাথা রেখে কখন যে ঘুমের রাজ্যে পৌঁছে গেছে সেটা নিজেও জানতে পারলো না অহনা।
সকাল দশটায় বাড়ি ভর্তি চিৎকার-চেঁচামেচিতে অহনার ঘুম ভেঙে গেলো। অহনা লাফ দিয়ে বিছানা থেকে উঠে বসলো। মনে হচ্ছে অহনার বাবার ঘর থেকেই এতো চিৎকার-চেঁচামেচি শব্দ।
অহনা কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে দৌড়ে নিজের বাবার রুমের দিকে এগিয়ে গেলো।

কিন্তু রুমে পৌঁছে চোখের সামনে ফ্যানের সাথে বাবাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে অহন একটা বড় ধরনের ধাক্কা খেলো। কথা বলার মতো ভাষা হারিয়ে ফেললো অহনা।
অহনাকে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে অহনার মা তেড়ে আসলো।
_”বাবাকে মেরে শান্তি হয়েছে তোর? এবার খুশি তুই?
যা সবাইকে মিষ্টি দে। আর বল তোর আপদ বিদায় হয়ে গেছে। তোর বাবা মরে গেছে। অহনা তোর বাবা মরে গেছে রে!
অহনার মা কাঁদতে কাঁদতে অহনার পায়ের কাছে পড়ে গেলো। কিন্তু অহনা তখনও একই কথা আনমনে ভাবতে লাগলো,
_”আচ্ছা বাবা কি আমাকে আর কখনো বলবে না তোর জন্য আমার খুব দুশ্চিন্তা হচ্ছে!
তুই এভাবে রাগ করে বাড়ি ছেড়ে চলে যাস না। তোকে ছাড়া যে আমার থাকতে ভালো লাগে না।
মা রে একটু সাবধানে যা! তোর মাকে নিয়ে ভাবছিস কেনো? আমি আছি তো তোর মাকে সামলে নেবো!
আর বলবে না এসব বাবা?

অহনা দৌড়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলো। দৌড়াতে দৌড়াতে অহনা কতদূর যাচ্ছে সেদিকে অহনার কোন খেয়াল নেই। হঠাৎ কেউ একজন অহনার হাত টেনে ধরলো।পিছনে তাকিয়ে রিজওয়ান কে দেখতে পেয়ে অহনা কাঁদতে কাঁদতে দু’হাত দিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।
_”স্যার,,,,,,,
_”কি হয়েছে তোমার? এতো হাঁপাচ্ছো কেনো? শরীর ঠিক আছে তো?
_”স্যার কিছুই ঠিক নেই। সব শেষ হয়ে গেছে।
_”কি শেষ হয়ে গেছে অহনা?
_”স্যার আমার বাবা,,,,,
_”তোমার বাবা কি?
_”নেই।
_”নেই মানে?
_”আমাদের ছেড়ে অনেক দূরে চলে গেছে। না ফেরার দেশে। আর কখনো ডাকতে পারবো না বাবা বলে। স্যার সব শেষ!
_”অহনা শান্ত হও! আর তুমি আমার সাথে চলো।

রিজওয়ান অহনাকে সাথে করে নিজের বাড়ি ফিরে আসলো। রিজওয়ানা আর অহনা কে একসাথে বাড়িতে ঢুকতে দেখে ঈশান দাঁড়িয়ে পড়লো।
_”কি ব্যাপার তুমি?
এখানে কেনো এসেছো?
তোমার বিরুদ্ধে আমার হাতে প্রমাণ চলে এসেছে তাই?
_”স্যার আপনার কাছে আমার বিরুদ্ধে কি প্রমাণ এসেছে কিংবা না এসেছে এসব আমি জানিনা। কিংবা জানতে চাইও না। আমার এসব নিয়ে কোনো আগ্রহ নেই।
_”তাই বুঝি?
_”হ্যাঁ তাই।

ঈশান আর অহনার কথার মাঝে মীরা বলে উঠলো,
_”ওর তো কোন আগ্রহ থাকবে না এটা খুব স্বাভাবিক।
মীরার কথায় ঈশান চমকে উঠলো!
_”মানে কি বলতে চাও তুমি?
_”মানে ঈশান এই ছবিটা দেখলে তুমি সব বুঝতে পারবে।
_”আমি কোন ছবি দেখতে চাই না।
_”কেনো অহনা তোমার স্ত্রী বলে?
_”না।
_”তাহলে নাও দেখো ঈশান!

ইশান মীরার হাত থেকে ফোনটা নিজের হাতে নিলো। রিজওয়ান আর অহনার এরকম কাছাকাছি ধরনের ছবি দেখে ঈশান প্রচন্ড রকমের একটা আঘাত পেলো!
কিন্তু নিজের আঘাতকে কোনরকম গুরুত্ব না দিয়ে ঈশান ফোনটা মীরার দিকে ছুড়ে মারলো।
_”একটা ছবি মাত্র।
ছবি কোন কিছু প্রমাণ করতে পারে না মীরা। একটা শিক্ষিত মানুষ হয়ে আমি এই ছবির উপর ভরসা করতে পারিনা। আশা করছি তুমিও পারো না!
_”ঈশান ছবির জন্যেই অনেক কিছু ঘটে যায় জানো।
_”কি ঘটে যায় বলো?
_”তুমি তো একটা এডাল্ট ছেলে! তোমাকে আবার এতো পরিষ্কার করে কিছু বলতে হয় নাকি?
_”হ্যাঁ হয়। কারন আমি তোমার কথা কিছুই বুঝতে পারিনা।
_”ঈশান সেই রাতে অহনা আর রিজওয়ান দুজন দুজনের,,,,,,,
_”শাট আপ! আমি তোমার কোন কথা শুনতে চাই না। কী বোঝাতে চাও তুমি আমাকে?
_”অহনার সন্তানের বাবা অন্য কেউ। তুমি নয় ঈশান!
_”আমি তোমার মুখ থেকে আর একটাও কথা শুনতে চাই না। যা বলার অহনাই বলবে।
ঈশান দ্রুতপদে অহনার কাছে এগিয়ে আসলো।
_”অহনা আমি তোমার মুখ থেকে শুনতে চাই। আর কারো কোন কথা আমি শুনতে চাই না। তুমি আমাকে বলো,,,,,,,
_”স্যার সেটার আর কোনো প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন শেষ হয়ে গেছে। প্রয়োজন বেঁচে নেই আর।
_”এসব কি বলছো তুমি? তোমার বিরুদ্ধে নোংরা প্রমাণ দেখাচ্ছে সবাই। প্রতিবাদ করবে না তুমি?
_”প্রতিবাদ করার কি আছে স্যার? যা দেখাচ্ছে তা তো মিথ্যে নয়।
_”কি বলতে চাও তুমি?
_”স্যার আমি আপনাকে কিছুই বলতে চাই না। আপনি প্লিজ আমার বিষয়ে নাক গলাবেন না!
_”অহনা তুমি এই ছবিটা দেখো! শুধু একবার দেখো!
_”স্যার আমার কাছেও একটা ছবি আছে। সম্ভবত ছবিটা আপনার। আপনি চাইলে কিন্তু আমি আপনাকে দেখাতে পারি।
এতোটুকু বলেই অহনা ঈশানের দিকে নিজের ফোনে সেভ করে রাখা ছবিটি এগিয়ে দিলো। ঈশান ছবিটা দেখে কিছু সময় মাথা নত করে রাখলো।
_”এই ছবিটা তুমি কোথায় পেলে?
_”যেভাবে আপনি আমার ছবিটা পেলেন।
_”অহনা তুমি কি আমাকে,,,,,
_”দেখুন স্যার! আমি কিন্তু আপনাকে ছবি সংক্রান্ত কোন প্রশ্ন করিনি। কারন আমি এই ছবি নিয়ে প্রশ্ন করতে কোন ভাবেই আগ্রহী নয়। তাই আপনিও প্লিজ আমাকে বিব্রত করবেন না!
_”ঠিক আছে করবো না। আমি শুধু তোমার মুখ থেকে শুনতে চাই তোমার গর্ভের সন্তান কার?
_”সেটা তো আমি বলতে চাই না স্যার। যখন বলতে চেয়েছিলাম আপনি শুনতে চান নি। তাই এখন আর আমি বলতে চাইনা।
_”কিন্তু আমি শুনতে চাই অহনা। বলো তোমার গর্ভের সন্তানের বাবা কে? প্লিজ বলো!
_”শুনতে চান তো?
_”হ্যাঁ চাই।
_”রিজওয়ান স্যার! আমার সন্তানের বাবা রিজওয়ান স্যার। শুনতে পেয়েছেন আপনি?

অহনার কথা শুনে ঈশান বাকরুদ্ধ হয়ে গেলো!

চলবে……

গল্প: দুই মেরুর এক মেরু।
লেখা: আফরাহ্ হুমায়রা।