দুই মেরুর এক মেরু – পর্বঃ-২৪+২৫

দুই মেরুর এক মেরু – পর্বঃ-২৪+২৫

স্যার আজকে সকালের ঘটনার জন্য সরি!
_”কেন?
_”আমি আসলে আপনার সাথে মজা করেছিলাম।
_”সত্যি?
_”জি স্যার।
_”ঠিক আছে। ভেতর থেকে পাথর নামালে!
_”কি বললেন স্যার?
_”কিছু না। সন্ধ্যা সাতটায় লাভ ক্যাফে দেখা হচ্ছে! চলে এসো!
_”কিন্তু স্যার,,,,,,,,
_”কিন্তু কি??
_”কিছু না স্যার!

ঈশান অহনার হাতে একটা কাগজ ধরিয়ে দিয়ে ক্লাস রুম থেকে বের হয়ে গেলো। ঈশান বের হয়ে যাওয়া মাত্রই অহনা কাগজটা মেলে ধরলো।
-‘সকালে তোমাকে ওইভাবে চড় মারা ঠিক হয়নি!’
কাগজের ছোট্ট এতোটুকু লেখা দেখেই অহনা সীমাহীন খুশি হয়ে গেলো! ঈশানের থেকে এরকম ব্যবহার পাওয়া সত্যি ভাগ্যের ব্যাপার। অহনাকে মিটিমিটি করে হাসছে দেখে মিলি এগিয়ে আসলো।
_”কি ব্যাপার অহনা হাসছিস কেন?
_”এমনি রে।
_”আমাকে বলবি না?
_”আরে বেবি তোকে তো সবকিছুই বলবো।
_”তাহলে বল!
_”আগে নে এই কাগজটা চুপিচুপি পড়। তারপর বলছি।
মিলি কাগজটা সবার থেকে আড়াল করে লুকিয়ে লুকিয়ে পড়লো। কাগজ পড়ে মিলি অহনার দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালো।
_”কে লিখেছে এটা?
_”ঈশান স্যার।
_”কি?
_”হ্যাঁ তাই।
_”মিথ্যে বলছিস?
_”ধুর তোর সাথে মিথ্যে বলে আমার কি লাভ?
_”তারমানে সত্যি সত্যি ঈশান স্যার এটা লিখেছেন?
_”আরে হ্যাঁ সত্যি সত্যি।
_”তোর তো দেখছি ভাগ্য খুলে গেছে অহনা!
_”ভাগ্য খুলেছে কিনা বলতে পারবো না। তবে ভালবাসার মানুষের থেকে এতোটুকু পাওয়া সৌভাগ্য খোলার মতোই!
_”তাই?
_”হ্যাঁ তাই।
_”যদি তাই হয় তাহলে এতোক্ষণ হাসছিলি কেনো?
_”শুনবি কি ভেবে হাসছিলাম?
_”শুনবো বলেই তো বললাম। বল কেন হাসছিলি?
_”আমি ভাবছিলাম,
-‘সাহেবজাদা ভুল করে সরির কাছাকাছি পর্যায়ের কথা বলবে তবুও সরি বলবে না। কি দেমাগ রে ভাই!’
_”তুই আসলে অকৃতজ্ঞ জানিস?
_”কেন?
_”স্যার আজ পর্যন্ত নিজের বাবার কাছে কখনো সরি বলে নি। কিংবা সরির কাছাকাছি পর্যায়ের কিছুও বলেনি। আর তোকে তো অন্তত কাছাকাছি পর্যায়ের কিছু বলেছে। আর তুই তাতে খুশি না হয়ে উল্টো ভুল ধরছিস।
_”আরে বেবি আমি ভুল ধরলাম কোথায়? আমি তো জাস্ট বললাম।
_”ওই বলবিই কেন?
_”আচ্ছা ঠিক আছে আর কোনদিন বলবো না। এবার একটু হেসে দে!
_”হয়েছে আর ন্যাকামো করতে হবে না। চল সিটে গিয়ে বসি।লাস্ট ক্লাসের ঘন্টা পরা মাত্রই বাহিরে শুরু হলো ঝুম বৃষ্টি।এরকম ঝুম বৃষ্টি দেখে অহনার মাথার দুষ্টু মিষ্টি বুদ্ধিরা এলোমেলো হয়ে দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দিলো।ক্লাস শেষ হওয়ার অপেক্ষায় অহনা অধীর হয়ে উঠলো।

ক্লাস ছুটি হওয়ার পর অহনা দৌড়ে সেকেন্ড ফ্লোরে ঈশানের কেবিনের দিকে এগিয়ে যায়। কিন্তু কেবিনের ভিতরে ঈশান কে দেখতে না পেয়ে অহনা মনমরা হয়ে একজন বডিগার্ডের কাছে এগিয়ে আসলো।
_”স্যার কোথায় গেছে বলতে পারবেন?
_”স্যার তো মিটিং রুমে আছেন এখন!
_”মিটিং হচ্ছে কোন ফ্লোরে?
_”সিক্সথ ফ্লোরের রাইট সাইডে।
_”ওকে থ্যাঙ্ক ইউ!
_”ওয়েলকাম ম্যাডাম!
_”ম্যাডাম? আমাকে ম্যাডাম কেন বলছেন? আমিতো এই মেডিকেলের স্টুডেন্ট।
_”হ্যাঁ কিন্তু আপনি তো আমাদের স্যারের মিসেস।
অহনা বডিগার্ডের কথার কোন উত্তর না দিয়ে হালকা একটু বেশি দৌড়ে সিক্সথ ফ্লোরে চলে গেলো। ঈশান কে খুঁজতে খুঁজতে অহনা রাইট সাইডের কাঁচের দরোজায় ঠেস দিয়ে দাঁড়ালো।

ভেতরে ঈশান আর রিজওয়ান ছাড়াও আরো ১৫/১৬ জন লোক রয়েছে। ঈশানের মুখ দেখে মনে হচ্ছে খুব সিরিয়াস মিটিংয়ে রয়েছে। কিন্তু ঈশান কে না রাগানো পর্যন্ত তো অহনার শান্তি নেই। অহনা আগে-পিছে কোন কিছু না ভেবেই মিটিং রুমে ঢুকে পরলো। অহনাকে মিটিং রুমে ঢুকতে দেখে ঈশান দাঁড়িয়ে গেলো।
_”কি ব্যাপার তুমি এখানে?
_”হ্যাঁ স্যার আমি।
_”তুমি যে সেটা তো দেখছিই। আমার কথা হচ্ছে এখানে কেন এসেছো? দেখছো তো মিটিং হচ্ছে।
_”স্যার আপনাকে খুব মিস করছিলাম!
_”হোয়াট? অহনা এখানে সিনক্রেট করো না। বাড়ি যাও!
_”বাড়িতো অবশ্যই যাবো। কিন্তু তার আগে আপনার সাথে একটু জরুরী কাজ আছে। আপনি আমার সাথে আসুন!
_”আমি এখন কোথাও যেতে পারবো না। এখানে মিটিং হচ্ছে দেখছো না?
_”আপনি আসবেন কি না?
_”বললাম তো পারবো না এখান থেকে বের হতে।
_”সিওর?
ঈশান হ্যাঁ সূচক উত্তর করার আগেই অহনা ঈশানের হাত ধরে টানতে টানতে লিফটের ভেতরে নিয়ে আসলো।
_”কি করছো তুমি?
_”কোথায় কি করছি?
_”পাল্টা প্রশ্ন করবেনা। আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছো সেটা বলো।
_”একটু পরেই তো বুঝতে পারবেন।
_”মিটিংয়ে সবার সামনে এরকমটা করার কি খুব বেশি প্রয়োজন ছিলো?
_”না হলে কি আর এরকম করতাম?
_”সবার সামনে তুমি আমাকে আবারও লাঞ্চিত করলে।
_”স্যার এখানে লাঞ্ছিত করার কি আছে?
_”দেখতে পাচ্ছো না?
_”পাচ্ছি না বলেই তো প্রশ্ন করছি।
ঈশান আর অহনার তর্কবিতর্কের মাঝেই লিস্ট এসে টুয়েন্টি ফোর্থ ফ্লোরে থামলো।
লিফট খুলতেই ছাদের দিকে চোঁখ পড়লো ঈশানের।
_”কি ব্যাপার এখানে কেন এসেছো?
_”আগে লিফট থেকে তো বের হন। পরে না হয় বাকিটা বলছি।
ঈশান লিফটের বাইরে পা রাখতেই অহনা ঈশানের বা’হাত শক্ত করে চেপে ধরলো। অহনার হাতের উষ্ণতা পেয়ে ঈশানও অহনার হাত মুষ্টিবদ্ধ করলো।
_”এখানে কেন এনেছো?
_”স্যার বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে।
_”হ্যাঁ দেখছি তো।
_”চলুন ভিজি!
_”মাথা নষ্ট হয়ে গেছে তোমার? নিচে মিটিং হচ্ছে। আর তুমি আমাকে বলছো তোমার সাথে বৃষ্টিতে ভিজতে?
_”স্যার প্লিজ চলুন!
_”বাচ্চাদের মতো আচরণ করো না। এখন বৃষ্টিতে ভিজা আমার পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
_”স্যার তাহলে আপনি আমার সাথে বৃষ্টিতে ভিজছেন না?
_”বাংলা কথা বুঝতে পারো না?
_”বুঝতে পারি। লাস্ট একবার প্রশ্ন করছি। স্যার আপনি কি আমার সাথে বৃষ্টিতে ভিজবেন?
_”অহনা এরকম মজা ভালো লাগছে না। নিচে মিটিং চলছে বুঝতে পারছো না?
_”ঠিক আছে আপনাকে বৃষ্টিতে ভিজতে হবে না। আপনি বরং এখানে দাঁড়িয়ে থাকুন। আর আমি বৃষ্টিতে ভিজি!
কথা শেষ করেই অহনা দৌড়ে ছাদের মাঝখানে চলে গেলো। বাচ্চাদের মতো বৃষ্টির মাঝে অহনার এই দৌড়ঝাঁপ ঈশানের হৃদয় স্পর্শ করলো!তাই ঈশান আর কোন আপত্তি না করে ছাদের বাহিরে দাঁড়িয়ে থেকে অহনার বৃষ্টিতে ভেজা আনন্দ দেখতে লাগলো। মিনিট খানেক পর ঈশান গলা খাকারি দিয়ে বললো,
_”অহনা আর কতক্ষণ ভিজবে? ঠান্ডা লেগে যাবে কিন্তু! তাছাড়াও মিটিং শেষ হয়ে যাচ্ছে। আমাকে এবার যেতে হবে।
_”এটাই না বলুন। শুধু শুধু আমার ঠান্ডার কথা কেনো বলছেন? আমাকে নিয়ে কি আপনার কোন চিন্তা হয় নাকি?
_”বেশি পাকনামী করো না। চলো তাড়াতাড়ি!
_”আরে স্যার দাঁড়ান দাঁড়ান ! এতো তাড়া কিসের? আপনার সাথে তো অনেক জরুরী একটা কাজ বাকি আছে।
_”কি কাজ বলো?
_”স্যার দেখুন আমি একা একা বৃষ্টিতে ভিজলাম। আপনি আমার সাথে বৃষ্টিতে ভিজলেন না। আমার তো খুব খারাপ লেগেছে। আপনি যদি চান তাহলে কিন্তু আমি এই খারাপ লাগাটা দূর করতে পারি।
_”কিভাবে দূর করবে শুনি?
_”সেই প্ল্যান আমার। এখন আপনি বলুন আপনি রাজি কিনা?
_”তোমার কি প্ল্যান আমি তো সেটাই জানিনা। তাহলে আমি না জেনে কিভাবে রাজি কি রাজি না সেটা বলবো?
_”এতো কিছু শুনতে চাই না। আপনি বলুন আপনি রাজি কিনা?
_”আচ্ছা ঝামেলায় ফেললে তো! ঠিক আছে আমি রাজি। এখন বলো কি করতে হবে?
_”বেশি কিছু নয় স্যার শুধু আপনার চোঁখ বন্ধ করুন!
_”এটাই?
_”হুঁ এটাই।
_”এ আর এমন কি?
ঈশান আর কোন বাকবিতণ্ডা না করে চোঁখ বন্ধ করে ফেললো। কিন্তু বিপত্তি বাঁধলো তখন ,যখন ঈশান চোঁখ বন্ধ অবস্থায় কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই অহনা শরীরের সব শক্তি দিয়ে ভেজা শরীর নিয়ে ঈশানকে জড়িয়ে ধরলো।
_”এটা কি করছো তুমি?
_”কেন স্যার আপনাকে জড়িয়ে ধরছি।
_”তোমাকে তো বলেছিলাম আমি মিটিংয়ে যাবো। এখন এভাবে আমি মিটিংয়ে যেতে পারবো?
_”সব সময় ওদের সাথেই মিটিং করতে হবে তার কি মানে? কখনো কি আমার সাথে মিটিং করা যায় না?
_”তোমার মতো বাঁদর মেয়ের সাথে মিটিং করতে আসলে সবার অবস্থা এরকমই হবে। এখন বাড়ি যাও!
ঈশান রেগে ছাদ থেকে চলে আসলো। ঈশান কে রাগাতে পেরে অহনা তো মহাখুশি! যেনো ঈশানকে রাগানো টাই অহনার জীবনের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য।
ঈশান মিটিং রুমে ঢুকতেই সবাই দাঁড়িয়ে গেলো। কিন্তু ঈশানের সাদা শার্ট ভিজে পাতলা হয়ে ভেতরে গেঞ্জি দেখা যাওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করার সাহস কারোর হলো না।

অন্যদিকে ঈশান কে খেপিয়ে অহনা মনের সুখে গান গাইতে গাইতে বাড়ি ফিরে আসলো। বাড়ির ভেতরে ঢুকেই অহনা চমকে উঠলো লিভিং রুমে রিজওয়ান কে বসে থাকতে দেখে!
_”একি স্যার আপনি এখানে?
_”কেন এখানে আমার আসতে বারণ?
_”আমি কিন্তু সেটা বলছি না।আমি শুধু বলছি হঠাৎ আসার বিশেষ কোনো কারণ আছে নাকি?
_”না সেরকম কোনো কারণ নেই। ভাবলাম তোমাদের বাড়ি থেকে একটু ঘুরে যাই। তাছাড়াও তোমাকে একটা জিনিস দেখানোর আছে। যদি তুমি চাও আমি তোমাকে দেখাতে পারি।
_”নিশ্চয়ই। আপনি যা দেখাতে চান সেটা আমাকে দেখান।
রিজওয়ান ফোনটা পকেট থেকে বের করে অহনার দিকে এগিয়ে দিতেই ঘরের ভেতরে ঈশান ঢুকলো। ঈশান কে দেখে অহনা ফোনটা রিজওয়ানের হাতে দিয়ে দৌড়ে ঈশানের কাছে চলে আসো।
_”স্যার বিশ্বাস করুন আমি রিজওয়ান স্যার কে আসতে বলিনি! আমি বাসায় ঢুকেই দেখলাম উনি লিভিং রুমে বসে আছেন। স্যার প্লিজ আপনি আমাকে ভুল বুঝবেন না!
_”অহনা শান্ত হও! আমি কি তোমাকে কিছু বলেছি?
_”না স্যার।
_”তাহলে কেন নিজে থেকে এতো এক্সকিউজ দিচ্ছো?
_”স্যারকে এসব এক্সকিউজ নয়। আমি তো সত্যি কথা বলছি আপনাকে।
_”সত্যি আর মিথ্যে বোঝার ক্ষমতা আমার আছে অহনা। এতোদিনে আমার আরো অনেক ক্ষমতা অর্জন হয়েছে। তাই এতো ঘাবড়ানোর কোনো কারণ নেই। বাই দ্যা ওয়ে তুমি একটু সাইডে এসো। তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে।
ঈশান অহনার হাত ধরে টেনে এক কোনায় নিয়ে গেলো।
_”অহনা আমার সাথে লাভ ক্যাফে দেখা না হওয়া পর্যন্ত তুমি কারো সাথে কোনো কথা বলবে না। এমনকি কারো কোন কিছু দেখবেও না। মনে থাকবে?
_”হ্যাঁ স্যার কিন্তু,,,,,,
_”আর কোন কথা নয়। শুধুমাত্র এই কথাটা মাথায় রেখো। আমি এখন আসছি!

ঈশান আর কোন কিছু না বলে বের হয়ে চলে গেলো। ঈশান চলে যাওয়ার পর রিজওয়ান অহনার কাছে এগিয়ে আসলো।
_”ভাইয়া কি বললো তোমাকে অহনা?
_”কই কিছু নাতো।
_”কিন্তু তোমাকে খুব চিন্তিত দেখাচ্ছে!
_”না সেরকম কোনো ব্যাপার নয়।
_”ঠিক আছে তোমাকে যে একটা জিনিস দেখাবো বলেছি সেটা দেখো।
_”স্যার আমার শরীরটা খুব খারাপ লাগছে! আমি বরং পরে আরেকদিন দেখি।
_”অহনা তোমার এখন দেখা টা খুব জরুরী। হতেই পারে এখন দেখলে তোমার জীবনের অনেক কিছু পাল্টে যাবে।
_”স্যার আমার জীবনে যা আছে আমি তা নিয়েই খুশি! নতুন করে আর কিছু পাল্টে যাক সেটা আমি চাইনা।
_”বুঝতে পারলাম। কিন্তু তোমার এটা দেখা খুব জরুরী!
_”স্যার আমি দেখবো না সেটা কিন্তু বলিনি। আমি বলেছি অন্য একদিন দেখবো। আপনি প্লিজ এখান থেকে চলে যান।
রিজওয়ান কে আর কোন কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে অহনা নিজের বেডরুমে চলে আসলো। অহনাকে এভাবে হুট করে বেডরুমে চলে যেতে দেখে রিজওয়ান কিছুটা মনমরা হয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসলো।
বাড়ি থেকে বের হয়ে ১০-১৫ মিনিট পথ চলার পর রিজওয়ানের ফোনটা বেজে উঠলো।
মীরা ফোন করেছে। দু’বার রিং বাজতেই রিজওয়ান ফোনটা রিসিভ করলো।
_”হ্যালো রিজওয়ান!
_”হ্যাঁ মীরা বলো!
_”অহনাকে দেখাতে পেরেছো?
_”না পারিনি।
_”পারবে কি করে। তোমাকে দিয়ে একটা কাজও কি হয়?
_”আমি অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু অহনা শরীর খারাপের অজুহাত দিয়ে বেডরুমে চলে গেলো। কিছুতেই দেখতে চাইলো না। বিষয়টা বুঝতে পারলাম না।
_”বাদ দাও। তুই বরং এক কাজ করো গ্রীনহাউজে চলে এসো। তোমার সাথে আমার কিছু জরুরী কথা আছে।
_”এক্ষুনি আসতে হবে?
_”হ্যাঁ এক্ষুনি এসো।
_”ঠিক আছে আমাকে আধা ঘন্টা সময় দাও। আমি আধা ঘন্টার ভিতরেই আসছি।
রিজওয়ান ফোন রেখে দিয়ে আধা ঘন্টার ভিতরে গ্রীন হাউজে পৌঁছে গেলো। মীরাকে দেখে খুব চিন্তিত মনে হচ্ছে। ভেতরে ভেতরে যে কোন গোলমাল পাকাচ্ছে এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই! রিজওয়ান কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে মীরার ডান পাশে গিয়ে বসলো।
_”কি ব্যাপার এত আর্জেন্ট ডাকলে? সবকিছু ঠিক আছে তো?
_”কিছু ঠিক নেই রিজওয়ান। সবকিছু এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।
_”কি এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে? আমাকে যদি পরিষ্কার করে না বলো আমি কি করে বুঝবো?
_”রিজওয়ান আমার খুব ভয় হচ্ছে!
_”ভয়? কিন্তু কেনো?
_”ভয় হচ্ছে তার কারণ অহনা যদি সত্যি সত্যি প্রেগনেন্ট হয়ে যায়। এখন এর যুগ তো আধুনিক। ডিএনএ টেস্ট করা যায়। আমরা যেটা চাচ্ছি সেটা হয়তো হবেনা।
_”সে কথাটা তোমার আগে বোঝা উচিত ছিলো। আমি সেদিনই তোমাকে বলেছিলাম সিদ্ধান্তটা আমার ঠিক মনে হচ্ছে না।কিন্তু তুমি তো আমাকে উল্টোপাল্টা কতগুলো কথা শোনালো!
_”আই এম সরি রিজওয়ান! তুমি প্লিজ আগের কথা নিয়ে আমাকে আর লজ্জা দিওনা। এখন বরং একটা সলিউশন বের করো।
_”এই মুহূর্তে আমার মাথায় কোনো সমাধান আসছে না। আমি জানিনা আসলে কি হবে।
_”তোমার মাথায় না আসলেও আমার মাথায় কিন্তু এসেছে।
_”আবার নিশ্চয়ই কোন ভুলভাল চিন্তাভাবনা করেছো?
_”না রিজওয়ান। তবে তুমি চাইলে আমি তোমাকে বলতে পারি।
_”ঠিক আছে বলো।
_”রিজওয়ান আমার একটা বেবি লাগবে!
_”হোয়াট? মরছি এক প্যারায় আর তুমি আরেক প্যারা মাথায় আনতে চাচ্ছো? এখন তুমি বাচ্চা দিয়ে করবেটা কি?
_”প্রয়োজন আছে বলেই তো বলছি। তুমি আমাকে একটু হেল্প করো!
_”ওহ্ গড! বাচ্চা দত্তক নিতে চাচ্ছো তাই তো? বলো কত বছরের বাচ্চা লাগবে?
_”তুমি ভুল করছো রিজওয়ান। আমি বাচ্চা দত্তক নিতে চাইছি না।
_”তাহলে কি?
_”আমি চাইছি আমার নিজের বাচ্চা হোক। আর তুমি আমাকে এই ব্যাপারে সাহায্য করো!
_”মানে? তুমি কি পাগল হয়ে গেছো মীরা? তোমার বাচ্চা হবে? আমি তোমাকে সাহায্য করবো এসবের মানে কি?
_”মানে হলো রিজওয়ান আমি চাই তোমার বাচ্চাটাকে আমার মাঝে ধারণ করতে।
_”হোয়াট? মাথা খারাপ হয়ে গেছে তোমার? এসব কি আবোল তাবোল কথা বলছো!
_”আমি ঠিকই বলছি রিজওয়ান। প্লিজ হেল্প মি! এছাড়া আমি আর কোন ভাবেই ঈশানকে পাবোনা। তুমি একটু আমাকে সাহায্য করো।
_”এভাবে একটা মানুষকে পাওয়ার কি প্রয়োজন আছে? নিজের সবকিছু বিসর্জন দিয়ে। আমার দ্বারা এটা হবে না মীরা। আমি ভালোবাসি অহনাকে! অহনাকে ছাড়া আমি অন্য কারো কথা কখনো ভাবি নি। আমি পারবো না সরি মীরা!
_”রিজওয়ান তোমাকে পারতে হবে। অহনা তো ঈশানের সাথে,,,,
_”জানি থেকেছে। কিন্তু সেটা অহনার নিজ ইচ্ছেতে নয়। তোমার উল্টোপাল্টা সিদ্ধান্তের কারণে ভাইয়া অহনাকে অঘোরে ফোর্স করেছে। এটার জন্য অহনা কিংবা ভাইয়া দুজনের কেউ দায়ী নয়। আমি পারবো না!
_”রিজওয়ান তুমি কি চাও আমি মরে যাই?
_”মরে যাওয়ার কথা কেনো আসছে? আমি বেঁচে আছি না? তাহলে তুমি কেনো মরে যাবে?
_”তুমি যদি আমাকে সাহায্য না করো তাহলে আমি সত্যি সত্যি মরে যাবো। আমি আর পারছিনা ঈশানকে ছাড়া থাকতে। ওকে পাওয়ার জন্য আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি! রিজওয়ান প্লিজ আমাকে সাহায্য করো!

_”এটা করে তোমার কি লাভ হবে মীরা?
_”লাভ ছাড়া তো আর করতে চাইছি না।
_”তাহলে বলো কি লাভ আছে?
_”দেখো যেদিন ঈশান জানতে পারবে অহনা প্রেগনেন্ট। সেদিন হয়তো ঈশান খুব রেগে যাবে।আর অহনা হাতে পায়ে ধরে কান্নাকাটি করে বারবার বিশ্বাস করাতে চাইবে ওই সন্তান ঈশানের। হয়তোবা ঈশান প্রমাণস্বরূপ ডিএনএ টেস্ট করতে বলবে অহনাকে। ডিএনএ টেস্টে তো ওটা ঈশানের সন্তান বলেই ধরা পড়বে। ঠিক সেই মুহুর্তে আমারও ডিএনএ টেস্ট হবে। আর আমি অহনার রিপোর্টটা ঈশানের হাতে না দিয়ে আমার রিপোর্টটা হাতে দিবো।

_”বাহ্ প্ল্যান টা তো ভালোই করেছো! কিন্তু একবার কি ভেবে দেখেছো রিপোর্টের উপরে নাম লেখা থাকে। কোনটা কার রিপোর্ট সেটা নাম দেখেই বোঝা যায়।
_”রিজওয়ান তুমি হয়তো ভুলে যাচ্ছো সে সময় ঈশানের মাথায় রাগের বশবর্তী ছাড়া আর কিছুই থাকবে না। ঈশান শুধু টেস্টে কার নামে এসেছে সেটাই দেখবে। আর যখন ওর চোঁখে তোমার নামটা পরবে। তখন ও রিপোর্টে কার নাম আছে বা নেই সেটা দেখার কোন প্রয়োজনই মনে করবে না। ব্যাস এতোটুকুই ঘটবে!
আর আমার টেস্টে তো তোমার নামটাই থাকবে।
_”জানিনা তুমি কি ভাবছো। আমার সত্যিই এসব করতে কোনো ইচ্ছে নেই।একটা মানুষকে জোর করে পাওয়া তো যায় ঠিকই । কিন্তু তার ভালোবাসা পাওয়া যায় না। আমার ইচ্ছে নেই এভাবে জোর করে ষড়যন্ত্র করে কাউকে পাওয়ার!
_”কিন্তু আমি ঈশান কে ছাড়া বাঁচবোনা রিজওয়ান! আমার কথাটা একটু ভাবো তুমি!
_”তোমার কথাই তো ভাবছি। ঠিক আছে তুমি যা চাও। কিন্তু এরপর আর তোমার সাহায্যের জন্য আমি থাকবো না! কারন তুমি আমাকে তো ঠকাচ্ছো-ই সাথে আমার সন্তান কেউ ঠকাবে!
_”তোমার নিজ ইচ্ছেতে তো আর কিছু হচ্ছে না। তাহলে কেন ওই বাচ্চার জন্য তোমার কোন মায়া থাকবে?
_”তোমার থাকবে না কোন মায়া?
_”না থাকবে না। ওটা তো জাস্ট একটা গেম! গেম শেষ হয়ে গেলে বেবিও শেষ। কিন্তু যদি এর মাঝে আরো কোন প্ল্যান মাথায় আসে সেটা আলাদা কথা।
_”ভালো!

রিজওয়ান আর কোনো রকম আপত্তি না করে মীরার আবদার পূরণ করে দিলো! কিন্তু রিজওয়ানের ব্যথাতুর হৃদয়ে ভাঙ্গা সুর তখনো বাজতে থাকলো! মীরার বাড়ি থেকে ফিরতে ফিরতে রিজওয়ানের প্রায় সন্ধ্যা সাতটা বেজে গেলো।

* অন্যদিকে সাতটা বাজতেই অহনা লাভ ক্যাফে এসে উঠলো। ঈশান কে আগে থেকেই ক্যাসে বসে থাকতে দেখে অহনা ভয় পেয়ে গেলো!
_”সরি স্যার! আমার আসতে খুব দেরি হয়ে গেলো। আসলে আমি গাড়ি পাচ্ছিলাম না। স্যার আপনি কি রাগ করেছেন? বিশ্বাস করুন স্যার,,,,,,,
_”শাট আপ! অহনা তুমি এতো ঘাবড়ে যাও কেনো সব সময়? এমনকি ঘটলো? তোমার আসতে দেরি হয়েছে আমারও দেরি হয়েছে। আমি মাত্র এসেছি।
_”ও ঠিক আছে। আসলে আপনি অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছেন কিনা,,,,,
_”সেজন্য এতোগুলো কথা বলতে হলো তাই তো? অহনা কারো সাথে দেখা করলে কেউ একজন আগে আসবে কেউ একজন পরে আসবে এটা খুব স্বাভাবিক। দুজনের একসাথে আসা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।এই সহজ কথা গুলো মাথায় রেখো!
_”ঠিক আছে স্যার এখন থেকে মাথায় রাখবো। এখন আপনি বলুন আমায় কেনো ডেকেছেন?
_”তোমার কি আজকে কারো সাথে দেখা করার কথা ছিলো?
_”হ্যাঁ ছিলো তো। কিন্তু আপনার সাথে দেখা করার কথা তাই আর তার সাথে দেখা করিনি।
_”নীলার সাথে তাই না?
_”হ্যাঁ। কিন্তু আপনি কি করে জানলেন স্যার?
_”আমি সব কিছুই জানি অহনা। তোমাকে একটা কথা বলছি মন দিয়ে শোনো!
আগামী একমাস তুমি মেডিকেলে আসবেনা।শুধু তাই নয় তোমার বাড়ির লোক ছাড়া বাইরের কারো সাথে কথাও বলবে না দেখাও করবে না। মনে থাকবে?
_”হ্যাঁ কিন্তু স্যার,,,,,,,,
_”আর কোন কিন্তু নয়। ইচ্ছে হলে কথা রাখো। আর না হলে যা ইচ্ছে করো। আমি এখন আসছি!
মন চাইলে বের হও তোমাকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসি।
ঈশানের কথার উপর কথা বলার কোনো সাহস অহনার হলো না। অগত্যা মন খারাপ করেই অহনা বের হয়ে পড়লো লাভ ক্যাফে থেকে।
বাড়ি যাওয়ার পুরোটা পথ অহনা মুখ গোমরা করে রাখলো। অহনা কে এভাবে মুখ কালো করে থাকতে দেখে ঈশান বললো,
_”জানেন মিস স্কলার্শিপ আমাকে না একজন বলেছিলো না হাসলে আমাকে কালা বাদুড়ের মতো দেখা যায়। কিন্তু সে ভুলে গেছে না হাসলে যে তাকে কালো বাঁদরের মতো দেখা যায়!
_”মানে স্যার?
_”বুঝতে পারেননি তো?
_”বুঝতে পারার মতো কথা বলেছেন আপনি?
_”বলেছি। কিন্তু গিলু ছাড়া মাথায় এসব কথা ঢুকবে না। তাছাড়াও তোমার মাথায় যে গোবর ছাড়া কিছুই নেই সেটা আমি জানি!
_”স্যার ভালো হচ্ছেনা কিন্তু।
_”কি ব্যাপার অহনা! কাঁদছো কেনো তুমি?
_”স্যার আমার খুব খারাপ লাগছে!
_”কি হয়েছে?
_”আপনি আমাকে আপনার থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছেন না তো? মনে হচ্ছে আপনাকে হারিয়ে ফেলছি আমি।
_”আমাকে তো কখনো পাওনি তাহলে হারাবে কিভাবে?
_”স্যার আপনি হয়তো জানেন না আমি আপনাকে কিভাবে পেয়েছি। কিন্তু আমিতো জানি। স্যার আমি আপনাকে ছাড়া থাকতে পারবো না! মেডিকেলে না যাই কিন্তু প্রতিদিন একবার আপনার বাড়ি আসার অনুমতি দিন। আচ্ছা প্রতিদিন লাগবেনা। পাঁচ দিন পর একবার।
_”না। আমিই তোমার কাছে আসবো! এখন নামো তোমার বাড়ি চলে এসেছে। অহনা গাড়ি থেকে নামতেই ঈশান অহনার হাত ধরে ফেললো।
_”অহনা এমন কিছু করোনা যাতে তোমাকে চিরজীবনের মতো আমাকে হারাতে হয়! কারণ আমি মিথ্যে বলা ধোঁকা দেওয়া পছন্দ করিনা।

কথা শেষ করেই ঈশান অহনার হাত ছেড়ে দিলো। কিন্তু অহনা কোন প্রতিউত্তর করার আগেই ঈশান গাড়ি ব্যাকে দিয়ে ফিরে আসলো। ঈশান চলে আসার পরও অহনা মূর্তির মত কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলো! ঈশানের বলা কথাগুলো অহনার হৃদয়ে এলোমেলো ঝড় বয়ে আনলো!

অন্যদিকে ঈশান বাড়ি ফিরতেই আরিয়ান ঈশানের পথ রোধ করে দাঁড়ায়।
_”ঈশান কোথায় ছিলে এতো রাত অব্দি?
_”এটা কি এতো রাত?
_”তুমি যদি বাড়ি ফিরে আসো তাহলে বিকেল ৬ টার মধ্যেই ফিরে আসো। কিন্তু আজকে তো দেরি হয়ে গেলো। কোনো বিশেষ কারণ?
_”না।
_”ঈশান তুমি অহনার সাথে যেগুলো করছো সে সবগুলোই অন্যায়। একটা মেয়ের গায়ে হাত তোলা মানে বোঝো?
_”ও তাহলে অহনা তোমাকে বলে দিয়েছে সব।
_”অহনা আমাকে বলে নি কথা প্রসঙ্গে কথা এসেছে।তোমার ঘরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম কান্নার শব্দ শুনে,,,,,,
_”বুঝতে পেরেছি আর বলার কোন প্রয়োজন নেই।
_”ঈশান অহনা খুব ভালো মেয়ে! ওকে সন্দেহ করা বন্ধ করো।যে বিষয়ে সন্দেহ করছো সে প্রমাণ তুমি চাইলে তোমার ঘরেই খুঁজে বের করতে পারো।
_”এখন তাহলে তুমি আমার ব্যক্তিগত সবকিছুতে চোঁখ রাখছো? বাবা তোমার কি প্রয়োজন ছিলো এসব কিছু দেখার?
_”আমি কিছুই দেখিনি ঈশান। শুধু তোমাকে পথ দেখাচ্ছি প্রমাণ উদঘাটন করার।
_”আমাকে নিয়ে তোমার ভাবতে হবে না। তুমি বরং তোমার ছেলেকে নিয়ে ভাবো। ওকে বলো ঠিক ভাবে চলাফেরা করতে। না হলে আমাদের মেডিকেল মাটির সাথে মিশে যাবে।
ঈশান কথা শেষ করতেই রিজওয়ান উত্তর দিলো।
_”কি করেছি আমি?
_”মেডিকেলে উল্টাপাল্টা চলাফেরা করছো। তোমার জন্যে মেডিকেলের বদনাম হচ্ছে। বুঝতে পারছো?
_”শুধু আমার জন্যেই বদনাম হচ্ছে? তোমার জন্যে বদনাম হচ্ছে না ভাইয়া?
_”আমার জন্যে কেনো বদনাম হবে? আমি আবার কি করেছি?
_”আমি না হয় শুধু উল্টাপাল্টা চলাফেরা করছি। কিন্তু তুমি কি করছো সেটা একটু চোঁখে পড়ে না?
_”কি করেছি আমি?
_”মেডিকেলের একজন স্টুডেন্টের সাথে অবাধে চলাফেরা করছো। শুধু তাই নয় মিটিং ছেড়ে বৃষ্টিতে দুজন,,, ছি!
_”যা করছি সব বিয়ে করে করছি! অবৈধভাবে তো আর কোন কিছু করছি না মিস্টার রিজওয়ান খান!
_”মানে কি বলতে চাও তুমি ভাইয়া?
_”কিছু না। একটা কথা মনে রাখবে,
ঈশান ফালতু কাজে সময় নষ্ট করে না মানে এই নয় যে ঈশান খেলতে জানে না! মাইন্ড ইট মিস্টার রিজওয়ান খান!
এতটুকু বলেই ঈশান দ্রুত নিজের ঘরে চলে গেলো। কিন্তু রিজওয়ান কারেন্টে শক খাওয়ার মতো দাঁড়িয়ে রইলো! কোন মানে খুঁজে পেলো না ঈশানের বলা কথার!

চলবে……

গল্প: দুই মেরুর এক মেরু।
লেখা: আফরাহ্ হুমায়রা।