দুই মেরুর এক মেরু – পর্বঃ-১৫

দুই মেরুর এক মেরু – পর্বঃ-১৫

ঈশানের কথা শুনে অহনা ধীরে ধীরে ঈশানের কাছে এগিয়ে আসলো। তারপর দুই হাত দিয়ে আলতো করে ঈশানের মুখটা নিচের দিকে টেনে নামিয়ে বলল,
_”আপনি নিজ কানে শুনেছেন আমি আপনাকে মারতে বলেছি? বলুন!
_”না।
_”শুনেননি আর কখনো শুনবেন ও না। কারণ আমি আপনাকে ভালোবাসি!
অহনার কথা শুনে ঈশান নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারলো না। নিজের অজান্তেই অহনার দুই বাহু শক্ত করে নিজের সাথে চেপে ধরলো। আর তারপর সজোরে ধাক্কা দিয়ে অহনাকে বিছানায় ফেলে দিলো।
ঈশানের এমন আকস্মিক ধাক্কায় অহনা নিজেকে সামলাতে পারলো না। মাথায় প্রচন্ড রকমের আঘাত পেলো।

অহনা নিজের মাথাটা হাত দিয়ে চেপে ধরে উঠে বসতে বসতে বলল,
_”স্যার কি হলো? হঠাৎ করে এভাবে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলেন কেনো?
ঈশান গম্ভীর গলায় বলল,
_”কয়জনকে ভালোবাসো তুমি?
ঈশানের এরকম প্রশ্নে অহনা অবাক হয়ে গেলো!
_”স্যার আপনি এসব কি বলছেন?
_”শাট আপ! আমাকে একদম ভুল বোঝানোর চেষ্টা করবে না। যে প্রশ্নটা করেছি পারলে সেটার সঠিক উত্তর দাও!
_”স্যার আমিতো এই প্রশ্নটার কোন মানেই বুঝতে পারছি না।
_”ও তাই? তাহলে এখন তুমি অবুঝ হওয়ার চেষ্টা করছো। দেখো তুমি যদি ভেবে থাকো আমি কিছুই জানিনা তাহলে ভুল করছো। কারন আমি আমার নিজ কানে শুনেছি। আর নিজ চোঁখে দেখেছি।

_”হ্যাঁ ঠিক আছে স্যার। আপনার সব কথাই আমি মেনে নিচ্ছি। কিন্তু কি শুনেছেন আর কি দেখেছেন?
_”তোমাকে প্রপোজ করতে দেখেছি। অন্য একজনকে জড়িয়ে থাকতে দেখেছি। এখন বলো সব মিথ্যে!
_”স্যার,,,,,,
_”থাক অহনা! আমাকে আর কিছু বোঝাতে হবেনা। আমি জানি মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েরা এরকমই। একজন ছেলেকে বিয়ে করবে। আরেকজন ছেলের সাথে লাইফ ইনজয় করবে। আর এটা আমার নিজের অভিজ্ঞতা! তোমার মামনি তো এরকমই করেছিলো। তুমিও তো ওই ফ্যামিলিরই মেয়ে। তোমার দ্বারা এর থেকে আর বেশি কি আশা করা যায়!
_”স্যার আপনি আমাকে ভুল বুঝছেন। আমাকে একটু পরিষ্কার করে বলার সুযোগ অন্তত দিন!
_”আবার নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার চেষ্টা করবে তাই তো? তুমি সবসময় নিজেকে নির্দোষ কেন প্রমাণ করতে চাও বলো তো? অথচ আমি এইগুলো নিজ চোঁখে দেখেছি।

আমাকে তুমি এলাকার গুন্ডা মাস্তান দিয়ে মার খাওয়ালে। আর তারপর নিজেই হসপিটালে এডমিট করালে। তোমার জন্য আমার একটা কিডনি পর্যন্ত ড্যামেজ হয়ে গেলো।
_”স্যার শুধু ড্যামেজ হওয়া পর্যন্তই জানেন? এরপর আর কিছুই জানেন না?
_”আর কি জানবো বলো? এরপর আর কি জানার থাকতে পারে?
_”স্যার মানুষ যা কিছু শুনতে পায় কিংবা যা কিছু দেখতে পায়। সেটা কখনোই তার শেষ শোনা কিংবা শেষ দেখা হয়না। এরপরেও আরো অনেক কিছু বাকি থাকে। হতেই তো পারে স্যার আপনি অর্ধেক ঘটনা দেখে ফিরে এসেছেন। যার ফলে বাকি ঘটনা সম্পর্কে আপনার কোন ধারনাই নেই।
_”শোনো অহনা আমাকে একদম জ্ঞান দেওয়ার চেষ্টা করো না। কারণ বেকার জ্ঞান দেওয়ার চেষ্টা আমার একদম পছন্দ নয়।
_”ঠিক আছে স্যার আপনাকে আর কিছুই বলবো না। কোনদিন জানতেও পারবেন না আপনি আসল ঘটনা। সব রাস্তা বন্ধ করে দিবো আমি!
অহনা কিছুটা কাঁদতে কাঁদতেই বললো কথাটা।
অহনাকে কাঁদতে দেখে ঈশান বলল ,
_”তুমি যদি ভেবে থাকো তোমার এই কান্নার নাটকে আমি গলে যাবো তবে ভুল। কারণ ঈশান খান কোন মেয়ের প্রতি দুর্বল হয় না।
_”যদি তাই হয় স্যার তাহলে ঈশান খান কেন একজন মেয়েকে বিয়ে করলো? মেয়েদের প্রতি তো তার প্রচন্ড ঘৃণা। তবে কেন সে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখলো?
_”হেই তোমার কি মনে হচ্ছে অহনা? আমি তোমাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছি। তোমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে তোমাকে বিয়ে করেছি? যদি ভেবে থাকো তাহলে ভুল করছো।
_”এসব কিছু নয়?তাহলে আমাকে আপনি এমন করে কেন বিয়ে করলেন?
_”করেছি তার কারণ আছে। সেদিন আমি তোমাদের বাড়ি গিয়েছিলাম ঠিকই। কিন্তু তোমাকে বিয়ে করতে নয়। বরং তোমার বাবাকে ওয়ার্নিং দিতে গিয়েছিলাম তোমার আর রিজওয়ানের সম্পর্কের ব্যাপারে। কারণ আমি তোমাদের সমস্ত নোংরামো নিজ চোঁখে দেখেছি। আর আমি চাইনি রিজওয়ানের কোন ভুলের কারণে আমাদের মেডিকেলের অসম্মান হোক।

কিন্তু যখন আমি তোমাদের বাড়ি পৌছালাম,তখন আমি নিজের সব সিদ্ধান্ত বদলে ফেললাম। তোমার উপর কোন রকম নোংরামোর এলিগেশন না এনে তোমাকে বিয়ে করার ব্যাপারে তোমার বাবার উপর চাপ সৃষ্টি করলাম। কারন আমি চিনতে পেরে গিয়েছিলাম তোমার বাবা সেই মহিলার ভাই। যে মহিলা আমার আর আমার বাবার জীবনটা নরক করে দিয়েছে।যার কারণে আমরা আমাদের সমস্ত সুখ জলাঞ্জলি দিতে বাধ্য হয়েছি।

আর তুমিও সেই মহিলার পরিবারেরই একজন মেয়ে। তোমাকে জ্বলতে দেখবো মানে ওই মহিলা জ্বলার সুখ অনুভব করবো! যেভাবে ওই মহিলা আমাকে আর আমার বাবাকে যন্ত্রনা দিয়েছে। ঠিক সেভাবেই আমিও তোমাকে যন্ত্রনা দিবো। তুমি কি ভেবেছিলে এত সহজে আমি তোমাকে আমার ছোট ভাইয়ের জীবনটা নষ্ট করতে দিবো? কখনোই না। কারন আমার ভাই না জানলেও আমি তোমার পরিবারের মেয়েদের চরিত্র খুব ভাল করেই জানি!

_”স্যার আপনি মামনি কে ভুল বুঝেছেন। আপনাকে আরিয়ান স্যার যা কিছু বুঝিয়েছেন। আপনি কেবল সেসব কিছুই বুঝেছেন। কিন্তু আপনার বোঝার বাহিরেও অনেক কিছু বাকি আছে। প্লিজ স্যার আমাকে একটু বলতে দিন!
_”শাট আপ!আমি তোমার মুখ থেকে আর একটা কথাও শুনতে চাই না। তুমিও তোমার মামণির মতোই ক্যারেক্টার লেস! একসাথে দুজন পুরুষ কে ডুবিয়ে মারতে চাও তাই না? আজকে যদি আমাকে এই মিথ্যে ভালোবাসার কথাটা না বলতে তাহলে এসব কিছুই শুনতে হতো না তোমার। আজকে তুমি প্রমাণ করে দিয়েছো তুমিও তোমার মামণির মতোই ক্যারেক্টার লেস! তোমাদের পরিবারের সমস্ত মেয়েরা নোংরা চরিত্রের অধিকারী! আমার থেকে যতটুকু পেয়েছো ততোটুকুই যথেষ্ট। দূরে থাকো আমার থেকে!

এসব বলেই ঈশান হন হন করে বাংলো থেকে বের হয়ে চলে গেলো। বিপরীতে অহনা তখনও কেঁদে কেঁদে একটাই কথা বলে যাচ্ছিল,
_”স্যার আমি শুধু আপনাকেই ভালোবাসি! রিজওয়ান স্যারের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। আপনি যা কিছু জানেন সব ভুল। স্যার প্লিজ আমাকে একটু বলার সুযোগ দিন!

অহনা এসব বলে বলে কেঁদেই চলল।কিন্তু ঈশান সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ না করে গাড়ি নিয়ে বের হয়ে গেল। ঈশান চলে যাওয়ার পর অহনাও বাংলো থেকে বের হয়ে নিজের বাড়ির দিকে হাঁটা দিলো। আর অন্যদিকে ঈশান সোজা মেডিকেলে চলে গেলো। ঈশান মেডিকেলে ঢুকা মাত্রই নীলা দৌড়ে আসলো।নীলাকে এভাবে রিসিপশন থেকে দৌড়ে আসতে দেখে ঈশান কিছুটা অবাক হলো। নীলা কাঁদো কাঁদো গলায় বলল,
_”স্যার একটা কথা বলবো?
_”হ্যাঁ বলো!
_”স্যার এসব কি হয়ে গেল?
_”কি সব? কি হয়েছে পরিষ্কার করে বলো! আমি এরকম ঘোলাটে কথা বুঝতে পারি কম।
_”স্যার আমি মুখে কিছু বলতে পারবো না। আপনি এই ছবিটা দেখে নিন!
ঈশান নীলার হাত থেকে ফোন নিয়ে ছবিটা দেখে চমকে উঠলো!
ঈশান আর মীরার ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি। ঈশান এদিক-ওদিক তাকিয়ে নীলাকে বলল,
_”তুমি এই ছবি কোথায় পেলে?
_”স্যার আজকে সকালেই এই ছবিটা কেউ একজন আমার হোয়াটসঅ্যাপে সেন্ড করেছে।
_”শুধু তোমার কাছেই আছে নাকি আরো কারো কাছে আছে?
_”সেটা তো আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয় স্যার। কারো মুখ দেখে তো বোঝা যাচ্ছে না।
_”আচ্ছা এটা বলো কোনভাবে এই ছবি অহনার হাতে পৌঁছেনি তো?
_”স্যার সেটা তো বলতে পারবো না। কিন্তু অহনার কাছে গেলে প্রবলেম কি। তাতে আপনার কি এসে যাবে? আপনার তো প্রবলেম হবে যদি মেডিকেলের ওনারশিপ এর কারো কাছে যায়।
_”যার কাছে ইচ্ছে যাক। আই ডোন্ট কেয়ার! শুধুমাত্র অহনার কাছে না গেলেই হয়।
_”কিন্তু স্যার অহনাকে তো আপনি,,,,,
ঈশান নীলার কোন কথা না শুনে নিজের কেবিনে চলে গেল। কিন্তু কোন ভাবেই স্বস্তিতে বসতে পারলো না ঈশান। মনের অজান্তেই অহনাকে হারানোর ভয় ঈশান কে কুরে কুরে খেতে লাগলো!

অন্যদিকে অহনা বাড়ি থেকে পোশাক চেঞ্জ করে মেডিকেলে এসে উপস্থিত হলো। মেডিকেলে ঢোকামাত্রই রিসিপশন থেকে অহনার ডাক পড়লো। অহনা রিসিপশনে যেতেই মাহিয়া বলল,
_”এখন কেমন আছো অহনা?
_”জি ম্যাম ভালো আছি!
_”তোমাকে আরিয়ান স্যার ডেকেছেন।
কষ্ট করে উনার কেবিনে একটু দেখা করে যেও।
_”ঠিক আছে ম্যাম!

রিসিপশন থেকে বিদায় নিয়ে অহনা আরিয়ানের কেবিনে গেলো। আরিয়ান দুজন লোকের সাথে মিটিংয়ে ব্যস্ত। অহনা গলাখাকারি দিয়ে বলল,
_”স্যার আসবো?
_”হ্যাঁ আসো!
_”স্যার আপনি আমাকে ডেকে ছিলেন?
_”হ্যাঁ ডেকেছিলাম তো। আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে তুমি নাকি ঠিকমত কাজ করছো না?
_”স্যার কে বলেছে এসব কথা? কিন্তু আমি তো ঠিক মতই,,,,,,,,
_”দেখো অহনা তোমাকে কিন্তু আমি রাসটিকেট ঘোষণা করেছিলাম। কিন্তু ঈশান তোমাকে একটা শর্তে মাফ করেছে। এখন যদি তুমি শর্তটি ঠিকমতো পালন না করো। তাহলে তো বুঝতেই পারছো কি হবে ‌।
যাও এখন!

আরিয়ান এর আগে কখনোই অহনার সাথে এত রূঢ়ভাবে কথা বলেনি। খুব স্বাভাবিক অহনার প্রচণ্ডরকম আঘাত লাগলো! কারণ আগে থেকেই অহনার হৃদয় ছিল ভগ্ন খন্ড!
অহনা আরিয়ানের কেবিন থেকে বের হয়ে নিজের কাজ শুরু করে দিলো। প্রথমে পুরো ২৪ তলা ভবনের সিঁড়ি ঝাড়ু দিলো। আর তারপর মুছতে শুরু করলো। যখন অহনা শেষ পর্যায়ে সেকেন্ড ফ্লোর মুছতে মুছতে কাহিল হয়ে বসে পরলো। ঠিক তখন রিজওয়ান এসে অহনার পাশে বসলো। রিজওয়ান কে দেখে অহনা উত্তেজিত গলায় বলল,

_”কেন এসেছেন আপনি?
_” আসতে পারি না আমি?
_”কি করতে চান এসে? আমার জীবনটা নরক করতে চান?
_”তোমার জীবন তো আমি নরক করিনি। তোমার জীবন নরক করেছে ভাইয়া।
_”উনি একা নয়। আপনারা দুজন মিলে আমার জীবনটা শেষ করে দিচ্ছেন। একজন আরেকজনের কাছে আমাকে বিক্রি করছেন!
_”অহনা,,,,
_”প্লিজ চলে যান এখান থেকে!
অহনাকে এভাবে আকুতি-মিনতি করতে দেখে রিজওয়ান উঠে চলে গেল। অন্যদিকে অহনাও নিজের
কাজ শেষ করে ক্লাসে চলে গেল।
অহনা ক্লাসে বসার মিনিট দশেক পরেই ঈশান ক্লাসে ঢুকলো। ক্লাসে এসে ঈশান একবার চারপাশে দৃষ্টি বুলালো তারপর অহনার সামনে এসে দাঁড়ালো।
_”ক্লাসরুম ক্লিন করতে বলেছিলাম মনে আছে?
_”জি স্যার।
_”তাহলে ক্লিন করোনি কেন?
_”স্যার আমার শরীর,,,
_”যাও এক্ষুনি ক্লিন করো!
ঈশান অহনাকে আর কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে হোয়াইট বোর্ডের কাছে থাকা চেয়ারে বসে পড়লো।
অহনাও আর কোনো বাকবিতন্ডা না করে ক্লাসরুম ক্লিন করতে শুরু করে দিলো। অহনার ক্লাসরুম পরিষ্কার করা যখন শেষ পর্যায়ে, ঠিক তখন রিজওয়ান দুজন পুলিশ অফিসার নিয়ে ক্লাস রুমে ঢুকলো।
ক্লাসরুমে পুলিশ অফিসার দেখে ঈশান অবাক হয়ে বললো,
_”একি আপনারা? এনি প্রবলেম?
_”প্রবলেম তো নিজ চোখেই দেখছি। আমাদের কাছে খবর পৌঁছে ছিল এই মেডিকেলে একজন স্টুডেন্টকে হ্যারাস করা হচ্ছে।
_”বাহ সংবাদ শুনেই চলে আসলেন! তো এসে কি দেখলেন?
_”সংবাদ সত্যি এটাই দেখলাম। ডক্টর ঈশান খান আপনি চলুন আমাদের সাথে!
_”থানায় নিয়ে যাবেন আমাকে? ঈশান খানকে আপনারা থানায় নিয়ে যাবেন? ঠিক আছে কোন সমস্যা নেই। এক মিনিট দাঁড়ান!
ঈশান অহনার কাছে এগিয়ে আসলো। তারপর নিজের মুখটা অহনার কানের কাছে এনে আস্তে আস্তে বলল,
_”তোমার প্রেমিক তো দেখছি আমাকে বন্দী করার জন্য খুব অস্থির হয়ে আছে। কোনোভাবে এটা তোমাদের দুজনের চাল নয় তো? মানে আমি বলছি আমাকে বন্দী করে রিজওয়ানের সাথে মজা মাস্তি করবে তাই না? এজন্যই তো আমার নামে তোমার প্রেমিক কেইস করেছে। ভালো ভালো তোমার মামনিও এমনই ছিল! সকালে থাকতো একজনের সাথে আর রাতে,,,,
_”স্যার,,,,,, আপনি কোথায় কোথায় কেন মামনি কে টেনে আনেন?
অহনা কে এভাবে উত্তেজিত হতে দেখে একজন পুলিশ অফিসার এগিয়ে আসলো।
_”কি ব্যাপার উনি আপনাকে কি বলেছেন? আপনি এমন উত্তেজিত হয়ে উঠলেন কেন? দেখুন ভয় পাবেন না আমাদেরকে পরিষ্কার করে বলুন!
_”উনি আমাকে কিছু বলেননি। ওটা আমাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। আর হ্যাঁ আমি কি আপনাদের কাছে কোনো কমপ্লেইন করেছিলাম? তাহলে কেন অন্য একজনের বানানো মিথ্যে সংবাদে আপনারা এখানে চলে এসেছেন? প্লিজ স্যার আপনারা চলে যান! এখানে সেরকম কিছুই হয়নি। আমি একটা ভুল করেছিলাম। আর তাই স্যার আমাকে পানিশমেন্ট দিচ্ছিলেন। ব্যাস এটাই।

_”ওকে তাহলে আমরা আসছি! ভবিষ্যতে কোন সমস্যা হলে অবশ্যই আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন। আর হ্যাঁ মিস্টার রিজওয়ান আপনি শুনুন!
এভাবে অহেতুক কোন কিছু না জেনে আমাদের ডাকবেন না। আমাদের আরো কাজ আছে তো নাকি? আপনাদের মত বড় বড় মানুষদের থেকে এসব আশা করা যায় না। পুলিশ অফিসার রা যথেষ্ট রাগ দেখিয়েই চলে গেলেন।

দুজন পুলিশ চলে যাওয়ার পর রিজওয়ান খুব উত্তেজিত কন্ঠে অহনাকে বললো,
_”মিথ্যে বললে কেন তুমি? তোমার জন্য আজকে আমার মাথা নিচু হয়ে গেল। কেন সত্যি বললে না ভাইয়ার বিরুদ্ধে? কি এমন বলেছিল ভাইয়া তোমার কানে কানে?
_”স্যার আমাকে কি বলেছিলেন শুনতে চান আপনি?
_”হ্যাঁ শুনতে চাই। বলো ভাইয়া কি বলেছিল তোমাকে। যার কারনে তুমি তোমার উপর অত্যাচারের কথা মুখেও আনলে না।
অহনা একবার ঈশানের দিকে আড়চোখে তাকালো। তারপর ঠেস মেরে বলল,
_”স্যার আমাকে বলেছেন স্যার কে যদি পুলিশ ধরে নিয়ে যায় তাহলে তো আমার সন্তানকে সবাই বলবে তোমার বাবা একজন আসামী ছিল।
_”কি? তোমার সন্তান?
_”হ্যাঁ আমার সন্তান। মানে আমাদের দুজনের।
অহনার কথা শুনে ক্লাসের সবার মুখ হাঁ হয়ে গেল!
ঈশান অহনাকে হাত ধরে টানতে টানতে ক্লাসের বাইরে নিয়ে গেল ‌।
_”এসব কি বলছো তুমি? মাথা খারাপ হয়ে গেছে তোমার?
_”মাথা খারাপের কি আছে স্যার? যা বলেছি তা তো ঠিক।
_”দেখো তোমার সাথে আমার সেরকম কিছুই হয়নি!
_”কিছু হয়েছে সে কথা আমি কখন বললাম?
_”যদি না হয়ে থাকে তাহলে ওই বেবি,,,
_”আমি কি বলেছি এখন আমার বেবি হবে? তবে একদিন না একদিন তো ঠিকই হবে। কতদিনই বা আপনি আমার থেকে দূরে থাকবেন! আর যেদিন হবে সেদিন যদি সে জানতে পারে তার বাবা একজন আসামী। তাহলে কি আপনার সম্মান থাকবে? সে চিন্তা করেই আমি আপনাকে মাফ করে দিয়েছি!
_”হোয়াট? আমি তোমার কাছে মাফ চেয়েছি কখন?
_”আপনার চাইতে হবে কেন? আমি আপনাকে নিজে থেকে মাফ করে দিয়েছি।
_”কেউ যদি কারো কাছে মাফ না চায় তাহলে তাকে নিজে থেকে আবার মাফ করে কিভাবে?
_”সেসব আপনার মত কালা বাদুর বুঝবে না।
_”কি বললে? আমি কালা বাদুর?
_”হ্যাঁ। কোন সন্দেহ আছে নাকি?

ঈশান আরো কিছু বলতে গেল। কিন্তু তার আগেই মিলি এসে পড়লো।
_”স্যার কংগ্রেচুলেশন!
_”কিসের জন্য?
_”স্যার আপনি বাবা হচ্ছেন তাই!
_”হ্যাঁ কিন্তু,,,
_”আমি বুঝতে পারছি যে, আপনি খুব লজ্জা পাচ্ছেন। কিন্তু স্যার এটা লজ্জার কোন বিষয় নয়। বরং এটা খুব গর্বের বিষয়।
যাইহোক স্যার এখন আমরা আসি। আপনার বেবির মাকে তো সাবধানে বাড়ি নিয়ে যেতে হবে!
এতোটুকু বলেই মিলি অহনার হাত ধরে সামনের দিকে হাঁটা দিলো। আর অহনা একবার পিছে ফিরে দুষ্টু মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে ঈশান কে চোখ মেরে থার্ড ফ্লোর থেকে মিলিয়ে গেলো। কিন্তু ঈশান তখনও নির্বাক হয়েই দাঁড়িয়ে রইল!

চলবে……

গল্প: দুই মেরুর এক মেরু।
লেখা: আফরাহ্ হুমায়রা।