দুই মেরুর এক মেরু – পর্বঃ-০৫

দুই মেরুর এক মেরু – পর্বঃ-০৫

ঈশান কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই অহনা ঠাস করে ঈশানের ডান গালে একটা চড় বসিয়ে দিল।

_”ডক্টর হয়েছেন সবাই। কিন্তু কারো চরিত্রের কোন ঠিক নেই। মেয়েদের অপ্রস্তুত অবস্থা দেখলে চোখ ফেরাতে পারেন না তাই না? অসভ্য কদাকার চরিত্রের লোক আপনারা!

ঈশান একেবারে স্তব্ধ হয়ে গেলো! এমনকি নড়াচড়া করার শক্তিও হারিয়ে ফেলল।কোন কারন ছাড়াই ঈশানের এক চোখ থেকে জল গড়িয়ে মাটিতে পড়ল। এটা কেন অপমানে নাকি অভিমানে ঈশান নিজেও জানেনা।

অহনার কাণ্ডকারখানা দেখে ঈশান বাদে সকলেই বাকরুদ্ধ হয়ে গেল। সবাইকে এভাবে চুপ থাকতে দেখে অহনা আগের থেকেও বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল। দু’ পা এগিয়ে ভিতরে গিয়ে ঈশানের শার্টের কলার চেপে ধরল অহনা।

_”কি ব্যাপার এখন চুপ করে আছেন কেন?
মুখে কি কোন কথা নেই? খুব তো ধনী আর ভিখিরির পার্থক্য করে বড় বড় কথা বলেছিলেন। তাহলে শুনবেন না আপনাদের ধনীর বাচ্চা ভিখিরির সাথে কি করেছে?

ঈশান অহনার কথার কোন উত্তর দিল না। আগের মতোই চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো ‌। ঈশান কে এভাবে চুপ থাকতে দেখে অহনা আরো বেশি উত্তেজিত হয়ে গেল। ঈশানের শার্টের কলার ধরে দু-তিনটা ঝাঁকুনি দিয়ে অহনা চিৎকার করে উঠল।

_”মিস্টার ঈশান খান আপনার ছোট ভাই রিজওয়ান খান আমার ছোটবোনকে ফিজিক্যালি অ্যাটাক করেছিল? আপনি বুঝতে পেরেছেন আমার কথা?আজকে যে নোংরামো নিয়ে বড় বড় কথা বলেছিলেন । আপনি কি বোঝেন নোংরামো আসলে কি?

অহনার কথায় বাড়ির সবাই চমকে উঠলো। কিন্তু আরিয়ান খান থমকে না থেকে অহনাকে টেনে এক পাশে নিয়ে আসলো। আর তারপর অহনা কিছু বলে ওঠার আগেই পরপর দুই টা চড় বসিয়ে দিল অহনার গালে। আরিয়ান খান আরো কয়েকটা চড় মারার জন্য হাত উঠালো। কিন্তু তার আগেই ঈশানে এসে আরিয়ান খানের পথ আটকে দাঁড়ায়।

_”থাক না ছেড়ে দাও। অকারনে মেয়ে মানুষের গায়ে হাত তোলার কি প্রয়োজন আছে?
_”অকারণে? ঈশান তোমার কি মাথা ঠিক আছে?
_”হ্যাঁ মাথা ঠিক আছে। আর আমি ভেবেই বলছি।
_”তুমি যে কেমন ভেবে বলছো সেটা তুমিই জানো। তাছাড়াও অকারণ কিভাবে? ও তোমার গায়ে হাত তুলেছে ঈশান।
_”হ্যাঁ তো? তাই বলে তুমি ওর গায়ে হাত তুলবে? আমি এটা তোমার থেকে এক্সপেক্ট করি না। তাছাড়াও ও আমার গায়ে হাত তুলেছে। তোমার গায়ে তো তুলেনি। যখন আমি ওকে মারছি না তুমি কেন মারছো? ছেড়ে দাও। আর ওকে চলে যেতে দাও!

একথা বলেই ঈশান দ্রুত লিভিং রুম ছেড়ে চলে আসলো। কিন্তু সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ওঠার আগে একবার আড়চোখে অহনার দিকে তাকালো। ঈশানের চোখ দুটো তখনো শান্ত ভঙ্গিতেই অহনাকে দেখছিল। যেন কোন রাগ, ক্ষোভ ,ঘৃণা , ভালোবাসা কিছুই নেই। নিষ্প্রাণ দুটো চোখ মাত্র।এই প্রথমবার ঈশানের চোখের দিকে তাকিয়ে অহনার বুকটা ধুকধুক করতে শুরু করলো!

ঈশান কে এভাবে হুটহাট উপরে চলে যেতে দেখে বাড়ির সবাই খুব অবাক হলো।তার থেকেও বেশি অবাক হল আরিয়ান খান ঈশানের এই অদ্ভুত ব্যবহারে। ঈশান না কখনো তার জীবনে কাউকে প্রবেশ করতে দিয়েছে। আর না কখনো কেউ ঈশান কে কটু কথা বললে তাকে সহজে ছেড়ে দিয়েছে। তাহলে আজ ঈশানের কি হল?

সবাইকে নির্বাক দেখে অহনা নিজেই বলে উঠলো।
_”রিজওয়ান স্যার! আপনিতো অনেক ভালো একজন
মানুষ। না মানে আমি অন্তত আপনাকে ভালোই মনে করেছিলাম। ঈশান স্যারের মত জঘন্য নয় এটা ভেবেছিলাম।আপনিতো ঈশান স্যারের থেকেও দশগুণ বেশি খারাপ। একজন মেয়ের সাথে আপনি এরকম অসভ্য ব্যবহার কিভাবে করলেন?

রিজওয়ান শার্টের নিচের অংশ দিয়ে চশমাটা একটু ঘষামাজা করে চোখে লাগালো। তারপর অহনার একেবারে কাছে এসে দাঁড়ালো।

_”দেখো অহনা! তুমি হলে আমাদের মেডিকেলের সবথেকে ট্যালেন্টেড স্টুডেন্ট। এটা আমি মনে করি এবং মেডিকেলও তাই মনে করে। আচ্ছা তোমার কাছে কোন প্রমাণ আছে আমি তোমার বোনকে ফিজিক্যালি অ্যাটাক করেছি?

_”কি প্রমান চাইছেন? নোংরামো করে আবার সেটার প্রমাণ ও চাইছেন? আপনার কি মনে হচ্ছে আমার ছোট বোন মিথ্যে কথা বলেছে?
_”না। আমি একদম সেটা বোঝাচ্ছি না। আমি বলতে চাইছি তোমার ছোট বোন কি আমাকে চেনে?একটা মানুষকে না চিনে কিসের ভিত্তিতে তার নামে এরকম একটা কথা বলা যেতে পারে?

_”শুনুন স্যার! একদম চালাকি করার চেষ্টা করবেন না। আমার ছোট বোন আপনাকে না চিনলেও। মিলি কিন্তু আপনাকে ঠিকই চিনে। আর এখন আপনি হাজার চাইলেও বাঁচতে পারবেন না। আমি আপনাদের কাউকে ছাড়বো না।

আরিয়ান খান এগিয়ে এসে অহনাকে ধাক্কা মেরে সোফায় ফেলে দিল।
_”তোমার প্রবলেম কি অহনা? আমার এক ছেলেকে তুমি চড় মারলে। আরেক ছেলের নামে মিথ্যা এলিগেশন আনছো। কি ক্ষতি করেছে আমার পরিবার তোমার? কিসের ভিত্তিতে তুমি এত নোংরা কথা বলছ আমার ছেলের নামে। কোন প্রমাণ আছে তোমার কাছে?

_”স্যার! একজন মেয়ের সম্ভ্রম সম্পর্কে প্রমাণ চান? স্যার কোন মেয়ে নিজের এই বিষয় সম্পর্কে মিথ্যে বলে না। সোহানা যদি আপনার মেয়ে হতো তাহলে আপনি কি করতেন স্যার?

আরিয়ানের দুচোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পরলো। কিছুই বলতে পারলোনা আরিয়ান। আরিয়ানকে কাঁদতে দেখে মিসেস আরিয়ান এগিয়ে আসলো। তারপর ধীরে ধীরে অহনার পায়ের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পরলো।

_”তোমরা সবাই উপরে চলে যাও। আমি অহনার সাথে একান্ত কিছু কথা বলতে চাই। মিসেস আরিয়ানের কথা শুনে সবাই উপরে চলে গেল।সবাই চলে যাওয়ার পর মিসেস আরিয়ান অহনার মুখের দিকে তাকালো,

“অহনা! তোমার স্যারের একজন মেয়ে ছিল। কিন্তু সে আর বেঁচে নেই। তাই তোমার এ কথাটা উনার ভীষণ খারাপ লেগেছে।
প্রত্যেকটা মানুষের জীবনের সাথে অনেক ঘটনা জড়িয়ে থাকে।আমি সত্যিই জানিনা আমার ছেলে তোমার বোনের সাথে খারাপ কিছু করেছে কিনা। কিন্তু বিশ্বাস করো আমি আমার ছেলেকে এসব কিছু শিক্ষা দেইনি। একজন ভালো ডক্টর বানিয়েছি আমি আমার ছেলেকে।

তুমি জানো অহনা দীর্ঘ ২০ বছর পর আজকে প্রথম তুমি ঈশানকে কাঁদিয়েছো। এর মাঝে ঈশান একবারের জন্যও কাঁদেনি। ঈশান সর্বশেষ কেঁদেছিল যখন ঈশানের পাঁচ বছর। এরপর কান্না কি জিনিস সেটা ঈশান ভুলেই গিয়েছিল।

_”কী বলছেন এসব আপনি ম্যাম?একটা মানুষ এত বছর কান্না না করে কিভাবে থাকতে পারে? আর আপনি এসব আমাকেই বা কেনো বলছেন?

_”হ্যাঁ বলছি তার কারণ আছে। জানো অহনা প্রত্যেকটা মানুষের পছন্দ-অপছন্দের পিছনে একটা কারণ থাকে। আর ঈশানের মেয়েদের অপছন্দের পিছনেও একটা বিশাল কারণ আছে। আর ওই কারণটাই ঈশানের জীবনের বড় একটা ঝড়। আর ঈশানের ছোট বোনকে হারিয়ে ফেলার একটা কারণ।

_”আমি আপনার কোনো কথাই বুঝতে পারছি না। আমাকে দয়া করে একটু পরিষ্কার করে বলুন।
_”দেখো পরিষ্কার করে বলার সময় এখনো আসেনি। তুমি আজকে বাড়ি ফিরে যাও।আর আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি রিজওয়ান যদি সত্যিই এরকম কোন অন্যায় করে থাকে আমি নিজে ওকে শাস্তি দিব! তুমি এখন বাড়ি ফিরে যাও।

অহনা মিসেস আরিয়ানের কথায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেল। তাই আর কোন ক্যাচাল না করে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে গেটের দিকে পা বাড়ালো। কিন্তু পিছন থেকে আবার মিসেস আরিয়ান ডাক দিলো।

_”অহনা ঈশানকে যদি কেউ অপমান করে ঈশান তাকে এক বিন্দু পরিমানও ছেড়ে দেয় না। তা সত্ত্বেও তোমাকে কেন ছেড়ে দিল জানো?

মিসেস আরিয়ানের এই প্রশ্নে অহনার হার্ট বিট টা কেমন যেন বেড়ে গেল। অহনা ধীরে ধীরে পেছনে মুখ ঘোরালো। তারপর বিড়বিড় করে বলল,
_”না জানিনা। স্যার কেন আমাকে ছেড়ে দিয়েছেন আমি সত্যিই জানিনা।

_”হ্যাঁ ছেড়ে দিয়েছে কারণ ঈশান নিজেও জানেনা ও মনের অজান্তে কখন কিভাবে তোমাকে ,,,,,,

মিসেস আরিয়ান কথা শেষ করার আগেই রিজওয়ান এসে উপস্থিত হয়ে গেল।
_”মা তোমার ফোন এসেছে। মনে হচ্ছে কোন আর্জেন্ট কল। তাড়াতাড়ি উপরে যাও।

অহনা আর কোন কিছু না বলে বেরিয়ে আসলো। বাইরে তখনো প্রচন্ড রকমের দমকা হাওয়া আর বৃষ্টি। বিদ্যুৎ চমকের দাপটে অহনার কলিজা ফেঁটে যাবার উপক্রম হল। অহনা সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে একবার দোতলার দিকে তাকালো।

বাঁ পাশের বেলকুনিতে ঈশানের ব্লু কালার টি শার্ট টা ঝুলে আছে। মনে হচ্ছে এটাই ঈশানের ঘর।এত আয়োজন করে মেডিকেলে ঈশানের জন্য রুম বুক করা সত্ত্বেও ঈশান কষ্ট করে বাড়ি থেকেই মেডিকেলে আসা-যাওয়া করে। অহনার চোঁখে দেখা দুনিয়ার সবথেকে অদ্ভুত একটা মানুষ হল ঈশান!

অহনা আর কোন কিছু না ভেবে দ্রুত মেন গেটের দিকে পা বাড়াতেই কেউ একজন পিছন থেকে অহনার ডান হাতটা শক্ত করে চেপে ধরলো। অহনা পিছনে তাকিয়ে চমকে উঠলো। ঈশান দাঁড়িয়ে আছে। বৃষ্টিতে ভিজে ঈশান একেবারে একাকার হয়ে গেছে। কে জানে হয়তো বা অভিমানে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে বৃষ্টির সাথেই মজেছিল ঈশান!

অহনা কিছু একটা বলতে যাবে তার আগেই ঈশান বলে উঠলো,
_”গাড়িতে গিয়ে বসুন! আপনাকে আমি বাড়িতে দিয়ে আসছি। রাত করে একা যাবার কোন দরকার নেই।
ঈশানের মুখ থেকে আপনি ডাক শুনে অকারনেই অহনার ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো। অহনা নিজেকে বহুকষ্টে স্বাভাবিক রেখে বলল,

_”তার আর কোনো প্রয়োজন নেই স্যার। আমি একাই বাড়ি যেতে পারবো। আর আপনি কোন সাহসে আমার হাত ধরলেন? এক ভাই লেগেছে আমার ছোটবোনের পিছনে। আরেক ভাই এসেছে আমার সর্বনাশ করতে তাইনা?

ঈশান অহনার হাতটা ছেড়ে দিল। তারপর শান্ত গলায় বলল,
_”ঠিক আছে হাত ধরাটা আমার পক্ষ থেকে অন্যায়! তবুও আপনি গাড়িতে উঠুন। একা বাড়ি যাওয়ার দরকার নেই।
_”বললাম না আপনার সাহায্যের কোনো প্রয়োজন নেই আমার। আপনার মত ক্যারেক্টার লেস ছেলের সাথে যাওয়ার চেয়ে একা যাওয়া অনেক ভালো।

অহনা আর কথা বাড়ালো না। হনহন করে মেইন গেট দিয়ে বাহিরে চলে আসলো। ঈশানও থামবার পাত্র নয়। গাড়ীটা স্টার্ট দিয়ে জোরে ব্রেক করে অহনার সামনে এনে থামালো। ঈশানের এরকম কাজে অহনা আরো ক্ষেপে গেল।

_”কি চান আপনি? প্রাণে মেরে দেবেন? তাহলে এক কাজ করুন পুরো পরিবারসহ মেরে দিন।
ঈশান অহনার কথায় কোনো ভ্রুক্ষেপ করলো না । গাড়ি থেকে নিচে নেমে দুই হাত দিয়ে অহনাকে গাড়ির সাথে চেপে ধরল ঈশান।
_”আমার একটা কথাও কি তোমার শুনতে ইচ্ছা হয় না? বললাম না গাড়িতে উঠো! আমি তোমাকে বাড়ি নামিয়ে দিয়ে আসছি। তাহলে এত দাপট কেন দেখাচ্ছো?

_”ছাড়ুন আমাকে! মাঝ রাস্তায় একটা মেয়ের সাথে অসভ্যতা করতে আপনার লজ্জা লাগেনা?
ঈশান অহনাকে আরো শক্ত করে চেপে ধরলো।
_”একা একা তোমাকে বাড়িতে যেতে দিব না আমি। তুমি আমাদের মেডিকেলের স্টুডেন্ট। তোমার যদি কিছু হয়ে যায় তাহলে আমাদের প্রবলেম হবে। ব্যাস শুধুমাত্র এই কারণেই আমি তোমাকে নিয়ে যেতে চাচ্ছি। তুমি যদি এটাকে এক্সট্রা কেয়ার ভেবে থাকো তাহলে ভুল।

_”হ্যাঁ জানি। আপনার থেকে এক্সট্রা কেয়ার পাবার মত কোন ইন্টারেস্টও আমার নেই। আমাকে এক্ষুনি ছাড়ুন। না হলে,,,,,

_”ছাড়বো না। দেখি কি করতে পারো আমাকে।

অহনা এক ঝটকায় ঈশান কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল। আর তারপর ঈশানকে জোরে একটা চড় মারল।
_”খুব খারাপ আপনি! অনেক বেশি খারাপ!

অহনা কাঁদতে কাঁদতে দৌঁড়ে চলে গেল। ঈশান কিছু সময় মাথা নিচু করে থাকলো। কিন্তু তার পর আবারো গাড়ি স্টার্ট করে অহনার পিছু পিছু যেতে লাগলো।
ঈশান কে পিছনে পিছনে আসতে দেখে অহনা রাগে ফুঁসতে থাকে।

নিজের এলাকায় ঢুকতেই অহনা চিৎকার-চেঁচামেচি করে চারপাশের গুন্ডা মাস্তান সমস্ত ছেলেগুলোকে একত্র করে ফেলল।
_”সবাই দেখুন এই ছেলেটা আমাকে অনেক বিরক্ত করছে। অযথা আমাকে ফলো করতে করতে আমাদের এলাকায় চলে এসেছে। আপনারা দয়া করে এই ছেলের একটা ব্যবস্থা করুন।

অহনা কথা শেষ করার আগেই এলাকার যুবক মধ্যবয়স্ক ছেলেরা লাঠিসোঁটা নিয়ে ঈশানের গাড়ির উপর ঝাপিয়ে পড়ল। ঈশান কে মারতে মারতে যখন প্রায় আধা মরা করে ফেলল, তখন অহনা সবাইকে থামতে বলল।

_থাক হয়েছে! একে আর মারার কোন প্রয়োজন নেই।যদি সামান্য পরিমান লজ্জা থেকে থাকে তাহলে ভবিষ্যতে আর কোন মেয়ের পিছনে পড়বে না। একে নিয়ে পাশের হসপিটালে এডমিট করে আসুন।

অহনার আদেশ পাওয়া মাত্রই সবাই থেমে গেল। মার খেয়ে থেতলে যাওয়া অবস্থায় ঈশান একবার অহনার দিকে তাকালো। তখনো ঈশানের দুচোখ শান্ত , নিভৃত!

সবাই ঈশানকে ধরাধরি করে পাশের হসপিটালে নিয়ে গেল।অহনাও আর সেদিকে না থেকে বাড়ি ফিরে আসলো। অহনা বাড়ি ফিরে এসে ঘন্টাখানিক রেস্ট নেওয়ার পর সোহানা আসলো ঘরের ভিতরে।
_”আপু তোমাকে আমার কিছু কথা বলার আছে! কিন্তু তুমি রাগ করবেনা। আমাকে কথা দাও!

_”হ্যাঁ ঠিক আছে রাগ করবনা। এবার বল কি কথা বলবি।
_”আপু আমাকে রিজওয়ান নামের কেউ কোন কিছু করার চেষ্টা করেনি। আমিতো এই নামে কাউকে চিনিও না। কোনদিন দেখিওনি। এমনকি আমাকে তো কেউই কোন কিছু করার চেষ্টা করেনি। মিলি আপু আমাকে শিখিয়ে দিয়েছিল। আমি যেন তোমাকে এসব কিছু বলি। তাই আমি তোমাকে এসব বলেছি।

_”কি?

অহনা বসা থেকে দাঁড়িয়ে গেল। এই মুহূর্তে অহনার পুরো পৃথিবী অন্ধকার ছায়ায় ঢাকা পড়ে গেছে। অহনার পায়ের নিচের সমস্ত মাটি সরে যাবার উপক্রম হলো!

অহনা দুবার ‘ ঈশান স্যার’ বলে চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল!

চলবে……

গল্প: দুই মেরুর এক মেরু।
লেখা: আফরাহ্ হুমায়রা।