তাবলীগী সাথিদের অস্থিরতা দেখে কাদিয়ানী নেতার ইসলাম গ্রহণ

সীমান্ত প্রদেশের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন, দারুল উলুম পেশাওয়ারের শাইখুল হাদীস হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ হাসান জান সাহেব বলেন, একবার তাবলীগ জামাআতের একটি দল ভুলক্রমে কাদিয়ানীদের এলাকায় চলে গেল । কাদিয়ানীরা তাদেরকে এলাকা থেকে বের করে দিল। তাবলীগের ।

আমীর সাহেব বললেন, আমরা আপনাদের কাউকে দাওয়াত দেব না  । আমাদেরকে শুধুমাত্র তিন দিন এই এলাকায় থাকার অনুমতি দিন । আমরা আমাদের নামাযের মধ্যে মশগুল থাকব, তােমাদের কোন কাজে নাক গলাব না । একথা শুনে কাদিয়ানীরা অনুমতি দিয়ে দিল। তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার পর তাবলীগের আমীর আল্লাহ পাকের দরবারে খুব অনুনয় বিনয়  করে কান্নাকাটি শুরু করলেন যে, ইয়া আল্লাহ! আমাদের দ্বারা কি গােনাহ সংঘটিত হয়েছে, যার কারণে আজ তিন দিন অতিবাহিত সত্ত্বেও একটা লোকও আমাদের সাথে বের হল না।

আমীর সাহেব কান্নাকাটিতে মশগুল ছিলেন, এমন সময় কাদিয়ানীদের নেতা সেখানে এসে উপস্থিত হল এবং এভাবে কাঁদতে দেখে তার নিকট কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করল। আমীর সাহেব বললেন, আমরা আল্লাহর রাস্তায় তার সত্য দ্বীনের তাবলীগের জন্য তিন দিন ধরে এখানে কিয়াম করছি কিন্তু কোন আল্লাহর বান্দা আমাদের সাথে যাওয়ার জন্য তৈরী হল না।

একথা শুনে কাদিয়ানী নেতা বলল, এটা তাে সাধারণ ব্যাপার। আমিই আপনাদের সাথে তিন দিন যাওয়ার জন্য তৈরী। কিন্তু শর্ত হল, আপনারা আমাকে কোন প্রকারের দাওয়াত দিতে পারবেন না। এভাবে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কাদিয়ানী নেতা উক্ত জামাআতের সাথে রওয়ানা হয়ে গেল। তৃতীয় রাতে সে একটি স্বপ্ন দেখল, অতঃপর সকালে ঘুম থেকে উঠে আমীর সাহেবকে বলল, আমাকে কালেমা পড়িয়ে মুসলমান বানান। আমীর সাহেব বললেন, আমরা তাে চুক্তি মানতে বাধ্য। আপনাকে কালেমা পড়ার জন্য তাে চাপ দিতে পারি না। তবে আপনার এই পরিবর্তনের কারণ কি তাই আগে বলুন। সে বলল, আমি স্বপ্নে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলাম, তিনি একটি কুকুরের দিকে ইশারা করে বলছেন, তুমি আমার আশেকদের সাথে ঘােরাফিরা করছ আবার এই কুকুরকেও মানছ ? উক্ত কুকুরটি ছিল মীর্যা গােলাম আহমদ কাদিয়ানী। আমীর সাহেব তাকে কালেমা পড়িয়ে বুকে জড়ালেন। অতঃপর উক্ত ব্যক্তি স্বীয় এলাকায় যেয়ে এই ঘটনা শােনালে সেখানকার আরাে অনেক কাদিয়ানী মুসলমান হয়ে গেল।

উল্লেখ্য যে, মাওলানা মুহাম্মাদ হাসান জান সাহেব এই ঘটনাটি হযরত | মাওলানা কারী তায়্যিব সাহেব (রহঃ) এর মুখে শুনেছেন।