জাগো মুসলিম জাগো!

জাগো মুসলিম জাগো!

দুনিয়ার যেদিকেই তাকানো যাক না কেন, দেখা যাবে সর্বত্রই আজ মুসলমানরা নির্যাতিত, নিপিড়িত এবং শোষিত হচ্ছে। হতে হচ্ছে তাদেরকে নিজ মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত। চতুর্দিকে আজ মুসলমানদের ওপর নেমে এসেছে চরম দুর্দশা। কিন্তু কেন? কেন এই অত্যাচার? কেন এই নির্যাতন? মুসলমানরা কি দুনিয়ার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়? তারা ভিক্ষুক? না। তারা এসব কিছুই নয়। দুনিয়ার সর্বোচ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতি হিসেবে মুসলমানরা পরিচিত। তারা ভিক্ষুক ও নয়, তারা গরীব ও নয়। পৃথিবীর একতৃতীয়াংশ রয়েছে তাদের অধীনে। মুসলমানরা তেলের একক মালিক। তাদের কিছুরই অভাব নেই। কিন্তু এতদসত্ত্বেও মুসলমানদের এই দুরবস্থা কেন? সত্যিই বড় পরিতাপের বিষয়! চিন্তা করলে খারাপ লাগে।

এক পিতার ছেলে হয়ে, এক নবীর উম্মত হয়েও আজ মুসলমানদের মাঝে নেই ঐক্য, নেই ভ্রাতৃত্ব। পরস্পরে দ্বন্দ্ব, স্বার্থপরতা, লোভ আজ মুসলমানদের ধ্বংস ডেকে এনেছে। যাদের পূর্বপুরুষ বীর বিক্রমে শাসন করেছেন অর্ধেক দুনিয়া, যাদের দাপটে পৃথিবী কেঁপেছে থরথর করে, তাদের উত্তরসূরিদের আজ এই অবস্থা দেখে চিন্তিত মানুষের মন সত্যিই কেঁদে উঠবে!

আমেরিকা কীভাবে সাহস পেল ইরাকে আক্রমণ চালাতে? ন্যাটোজোট কীভাবে পারে মুসলমানদের বুকে গুলি চালাতে? শিয়া-সুন্নির লড়াই আর কত কাল? মুসলমানদের শক্তি যদি এভাবে নিজেদের মধ্যেই ক্ষয় হয়ে যায় তাহলে কি মুসলমানদের অস্তিত্ব টিকবে?
ভারত সরকার কীভাবে পারে সে দেশের মুসলমানদের কে হুমকি দিতে? অথচ দুদিকে দুটো মুসলিম দেশ স্ব-শক্তিতে দাঁড়িয়ে আছে! চীনে মুসলমানরা নিজেদের ধর্ম পালন করতে পারছে না নির্বিঘ্নে। তাদের দাড়ি কেটে দেওয়া হচ্ছে, বোরকা কেটে দেওয়া হচ্ছে, আজান দিতে দেওয়া হচ্ছে না।

লিবিয়া ,সিরিয়া আর লেবাননের গৃহযুদ্ধ আজ বছর বছর ধরে চলছে থামার লক্ষণ নেই! ফিলিস্তিন আজ মুসলমানদের হাত ছাড়া হতে চলেছে। প্রথম কিবলা শয়তান ইহুদীবাদিদের দখলে! সালাউদ্দিন আইউবির রক্তে উদ্ধার করা বায়তুল মুকাদ্দাস আজ বিরান! যেখানে পাঁচ ওয়াক্ত আজানের ধ্বনি শোনা যেত, লক্ষ লক্ষ মানুষ নামায পড়ত, সে মসজিদ আজ গোয়ালঘরে রুপান্তরিত।
মসজিদ চিৎকার করে ডাকছে আর এক সালাউদ্দিন কে, ডাকছে উমর বিন খাত্তাব কে, সে ডাকছে খালিদ বিন ওয়ালিদ কে।

কিন্তু আফসোস! মুসলমান আজও ঘুমিয়ে। তারা শুনতে পাচ্ছে না কাশ্মীরি মা বোনদের চিৎকার আর আহাজারি! তারা শুনতে পাচ্ছে না ধর্ষিতা নারীর আর্তনাদ!
হে মুসলমান! ক্ষুধার্ত, আন্ন আর বস্ত্রহীন নিরিহ মানুষের হাহাকার কি তোমাদের মনুষ্যত্বকে জাগিয়ে তোলে না? এখনও সময় আছে। জাগো মুসলিম জাগো।