যে সকল আমল দ্বারা গুনাহ মাফ হয়

যে সকল আমল দ্বারা গুনাহ মাফ হয়

*📚তওবা:-সব গোনাহ মুছে দেয়⬇*

শয়তানের সারাদিনের চেষ্টা বরং দীর্ঘদিনের চেষ্টা মুহূর্তে ব্যর্থ করে দিতে পারে মুমিন বান্দা। মুমিনকে আল্লাহ্ তা’আলা এমন হাতিয়ার দান করেছেন। কী সেই হাতিয়ার, যা ব্যর্থ করে দিতে পারে শয়তানের সকল চক্রান্ত?

তাওবা। তাওবার মাধ্যমে মহাপাপীও হয়ে যেতে পারে গোনাহমুক্ত; শয়তানের সকল অপচেষ্টা মুহূর্তে ধূলিস্মাৎ করে দিতে পারে। হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে-

*التّائِبُ مِنَ الذّنْبِ، كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ.*

*অর্থ:-* গোনাহ থেকে তওবাকারী গোনাহমুক্ত ব্যক্তির মত। *[সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ৪২৫০]*

মুমিন তো গোনাহ নিয়ে বসে থাকতে পারে না। গোনাহ তো মুমিনের কাছে পাহাড়সম বোঝা। তাই মুমিন গোনাহ হওয়ার সাথে তওবা করে নেয়। কুরআনে কারীম আল্লাহ্ তা’আলা মুমিনের এ গুণের কথা বর্ণনা করেছেন এভাবে-

*وَ الَّذِیْنَ اِذَا فَعَلُوْا فَاحِشَةً اَوْ ظَلَمُوْۤا اَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوْبِهِمْ  وَ مَنْ یَّغْفِرُ الذُّنُوْبَ اِلَّا اللهُ، وَ لَمْ یُصِرُّوْا عَلٰی مَا فَعَلُوْا وَ هُمْ یَعْلَمُوْنَ.*

*অর্থ:-* এবং তারা সেই সকল লোক, যারা কখনো কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেললে বা (অন্য কোনোভাবে) নিজেদের প্রতি যুলুম করলে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তার ফলশ্রুতিতে নিজেদের গোনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ্ ছাড়া কেই বা আছে, যে গোনাহ ক্ষমা করতে পারে?   আর তারা জেনেশুনে তাদের কৃতকর্মে অবিচল থাকে না। *[সূরা আলে ইমরান (৩) : ১৩৫]*

আর আল্লাহ্ তা’আলাও বান্দার তওবা কবুলের জন্য তাঁর ক্ষমার হাত প্রসারিত করেই রাখেন; দিনে-রাতে, সর্বদা। রাসূলুল্লাহ্ *(সাল্লাল্লাহু তা’আলা আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম)* ইরশাদ করেন-

*إِنّ اللهَ عَزّ وَجَلّ يَبْسُطُ يَدَهُ بِاللّيْلِ لِيَتُوبَ مُسِيءُ النّهَارِ، وَيَبْسُطُ يَدَهُ بِالنّهَارِ لِيَتُوبَ مُسِيءُ اللّيْلِ، حَتّى تَطْلُعَ الشّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا.*

*অর্থ:-* আল্লাহ্ তা’আলা রাতে তাঁর (ক্ষমার) হাত প্রসারিত করেন, যাতে দিনে যারা পাপ করেছে তারা তওবা করতে পারে। আর দিনে তাঁর (ক্ষমার) হাত প্রসারিত করেন, যাতে রাতে যারা পাপ করেছে তারা তওবা করতে পারে। এভাবে (তাঁর অবারিত ক্ষমা) চলতে থাকবে সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়া পর্যন্ত। *[সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৭৫৯]*

তো যত বড় গোনাহই হোক না কেন, তওবার মাধ্যমে সব গোনাহ মুছে যায়। বিভিন্ন নেক আমলের দ্বারা তো সগীরা গুনাহগুলো মিটে যায় কিন্তু তওবা- সগীরা-কবীরা সব গোনাহ মিটিয়ে দেয়।

এখানে স্মরণ রাখতে হবে এবং সচেতন থাকতে হবে- বান্দার হকের ব্যাপারে। তা থেকে মুক্ত হতে হলে, বান্দার প্রাপ্য বুঝিয়ে দিতে হবে বা তার থেকে মাফ নিয়ে নিতে হবে তাঁরপর আল্লাহ্ তা’আলা মাফ করবেন, তার আগে নয়। সুতরাং বান্দার হকের ব্যাপারে সাবধান! শত সাবধান!!

*📚নেক আমল:কৃত পাপ মুছে দেয়:*

কোনো পাপ হয়ে গেলে মুুমিনের করণীয় কী? পাপ হওয়ার সাথে সাথেই তো মুমিন পেরেশান হয়ে যায় তা মোচনের জন্য। আল্লাহ্ তা’আলা মুমিনকে বাতলেছেন সে পথ। পাপ হয়ে গেছে বান্দা? তওবা কর এবং নেক আমল দ্বারা সেটি মিটিয়ে দাও। ইরশাদ হয়েছে-

*وَ اَقِمِ الصَّلٰوةَ طَرَفَیِ النَّهَارِ وَ زُلَفًا مِّنَ الَّیْلِ، اِنَّ الْحَسَنٰتِ یُذْهِبْنَ السَّیِّاٰتِ،  ذٰلِكَ ذِكْرٰی لِلذّٰكِرِیْنَ .*

তুমি সালাত কায়েম কর দিবসের দুই প্রান্তভাগে এবং রজনীর প্রথমাংশে। অবশ্যই নেক আমল পাপসমূহ মিটিয়ে দেয়। যারা উপদেশ গ্রহণ করে, এ তাদের জন্য এক উপদেশ। *[সূরা হূদ (১১) : ১১৪]*

সুতরাং নেক আমলের প্রতি যত্নবান হওয়া চাই। কোনো পাপ হয়ে গেলে সাথে সাথে তাওবা করা চাই এবং নেক আমলের মাধ্যমে পাপ মিটিয়ে ফেলা চাই। নবীজীর প্রিয় সাহাবী আবু যর (রাযি:)কে একবার এ উপদেশই দিয়েছেন নবীজী *(সাল্লাল্লাহু তা’আলা আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম)*—

*اتّقِ الله حَيْثُمَا كُنْتَ، وَأَتْبِعِ السّيِّئَةَ الحَسَنَةَ تَمْحُهَا.*

হে আবু যর! যেখানেই থাক আল্লাহকে ভয় কর এবং কোনো পাপ হয়ে গেলেই নেক আমল কর; তা তোমার পাপ মিটিয়ে দিবে। *[জামে তিরমিযী, হাদীস ১৯৮৭]*

যে সকল নেক আমল দ্বারা পাপ মিটে যায় এর শীর্ষে হল নামায; উপরোল্লেখিত আয়াতে সেদিকে ইশারা রয়েছে। আর পাপ হয়ে গেলে আল্লাহর কাছে মাফ চাওয়ার সর্বোত্তম পদ্ধতিও হল নামায। নামাযের মাধ্যমে মাফ চাইলে আল্লাহ দ্রুত মাফ করেন। হযরত আবু বকর (রাযি:) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ্ *(সাল্লাল্লাহু তা’আলা আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম)* কে বলতে শুনেছেন-

*مَا مِنْ رَجُلٍ يُذْنِبُ ذَنْبًا فَيَتَوَضّأُ فَيُحْسِنُ الْوُضُوءَ، قَالَ مِسْعَرٌ: وَيُصَلِّي، وَقَالَ سُفْيَانُ: ثُمّ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ، فَيَسْتَغْفِرُ اللهَ عَزّ وَجَلّ إِلّا غُفَرَ لَهُ.*

কারো কোনো পাপ হয়ে গেলে সে যদি উত্তমরূপে ওযু করে এবং দুই রাকাত নামায পড়ে আল্লাহর কাছে মাফ চায় আল্লাহ্ তা’আলা তাকে মাফ করে দেন। *[মুসনাদে আহমাদ, হাদীস:২]*

এছাড়াও হাদীস শরীফে নামাযের মাধ্যমে পাপ মোচন হওয়ার অনেক বর্ণনা এসেছে।