করোনা ভাইরাসঃ বাঁচার উপায় একমাত্র তাওবা ।

করোনা ভাইরাসঃ বাঁচার উপায় একমাত্র তাওবা ।

বিপদ-আপদ, বালা মুসীবত, দুঃখ-কষ্ট, যাতনা-যন্ত্রনা মহামারী ইত্যাদি পার্থিব | জীবনে দেখা দেয়া বিচিত্র নয়। অনেক মানুষ নিজের অজান্তেই এসব প্রতিকূলতার শিকার হয়। আবার কখনাে আল্লাহর পরীক্ষা স্বরূপ বান্দার উপর তা আপতিত হয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ। করেছেন, আমি তােমাদেরকে ভয়-ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষয়-ক্ষতি দ্বারা অবশ্যই পরীক্ষা করব। | হে নবী আপনি সুসংবাদ দিন

ধৈর্যশীলগণকে। যারা তাদের উপর বিপদ আপতিত হলে বলে, আমরা তাে আল্লাহর অনুগত এবং নিশ্চিতভাবে তার দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী। (সূরা বাকারা, আয়াত : ১৫৫) সারা বিশ্ববাসীর উপর কোভিড-১৯ নামের যে করােনাভাইরাস আজ আপতিত হয়েছে তার মােকাবেলা করতে সারাবিশ্ব আজ হিমশিম খাচ্ছে। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে এই | পর্যন্ত কোন মহামারীই পুরাে বিশ্বকে

এভাবে অসহায় করতে পারেনি। | নিঃসন্দেহে এটি মহান প্রতিপালকের পক্ষ থেকে একটি শাস্তি। মানুষ যখন দুনিয়ার মােহে অন্ধ হয়ে সূদ-ঘুষ, ব্যভিচার অশ্লীলতা, খুন-খারাবী, অত্যাচার-অনাচার, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন পাপকাজে | লিপ্ত হয় তখন মহান রাব্বল আলামীন | তার আসমানী বাহিনী প্রেরণের মাধ্যমে

মানুষকে দুনিয়াবী শাস্তি প্রদান করেন। মানুষ সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে পাপাচারে লিপ্ত হওয়ার কারণে মহান আল্লাহ | তা’আলা যুগে যুগে বিভিন্ন জাতিকে তার বাহিনী প্রেরণের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকারের শাস্তি প্রদান করেছেন। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা:) একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম কে প্লেগ রােগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি ইরশাদ করলেন, এটা আল্লাহর এক প্রকারের শাস্তি। তবে আল্লাহ তা’আলা এটি মুমিনদের জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেন। সুতরাং কোন মানুষ যেন প্লেগাক্রান্ত হওয়ার কারণে ঐ এলাকা থেকে বের হয়ে না যায় বরং ধৈর্যধারণ করে এই বিশ্বাস নিয়ে সেখানে অবস্থান করে যে, আল্লাহ তা’আলা তার জন্য তাকদীরে যা লিখে রেখেছেন তা ব্যতিত তাকে কিছুই স্পর্শ করবে না। যদি স্পর্শ করেও তাহলে সে শাহাদাতের মর্যাদা লাভ করবে। (বুখারী শরীফ, হাদিস নং৩৪৭৪)

আর কোথাও কোন মহামারী দেখা দিলে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কেননা ইসলাম মানবতার ধর্ম। মানুষের স্বভাবের বিরুদ্ধে যায় এমন কোন বিষয় ইসলাম কখনাে সমর্থন করে না। তাই মানুষের জান-মালের হেফাজতের প্রতি ইসলাম বারংবার তাগিদ প্রদান করেছে। আল্লাহ রাব্দুল আলামীন বলেন, তােমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিওনা”। এই আয়াতে সরাসরি আত্মরক্ষার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম ইরশাদ করেছেন, তােমাদের কেউ যেন তার রােগাক্রান্ত | উটকে সুস্থ উটের সাথে না রাখে। (বুখারী-৫৭৭১)। এই হাদীসে যেখানে অসুস্থ উটকে সুস্থ উটের সাথে রাখতে নিষেধ করা হয়েছে। সেখানে অসুস্থ মানুষের সংস্পর্শ থেকে সুস্থ মানুষের দূরুত্ব বজায় রাখার কথাও বুঝে আসে। তবে ইসলামে ছোঁয়াচে বলেও কোন কিছু নেই সেই বিশ্বাসও অন্তরে বদ্ধমূল রাখতে হবে। খুব ভালভাবে মনে রাখতে হবে, মহামারী থেকে বাঁচার জন্য আমরা যত পদ্ধতিই অবলম্বন করিনা কেন বিশ্বাস যেন আমাদের আসবাব তথা বস্তুর উপর না থাকে। বরং এ ধরনের মহামারী থেকে পরিত্রাণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে তাওবা করে সর্বদা আল্লাহ পাকের নিকট ক্ষমা চাওয়া এবং নিয়মিত নামায আদায় ও কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ পাককে স্বরণ করা, তার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য চেষ্টা করা। তিনি আমাদের প্রতি অসুন্তুষ্ট হয়েছেন বলেই আমাদের কে বিপদ দিয়েছেন। এখন তাকে সন্তুষ্ট করে এই বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য চেষ্টা করতে হবে। ডাক্তারের কথা আজ আমরা যেভাবে অক্ষরে অক্ষরে পালন করার জন্য চেষ্টা করছি, যদি সেভাবে আল্লাহর নির্দেশ পালন করতে সচেষ্ট হতাম তাহলে আজ আমাদেরকে হয়ত এই মহামারীরর সম্মুখীন হতে হতনা। উম্মতে মুসলিমার জন্য চিন্তার বিষয় হল, চীন, জার্মানী, ফ্রান্স, ইতালী, স্পেন, মার্কিন যুক্তরাষ্টসহ যেসব দেশ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র একেছিল, আল্লাহর কুরআন কে বদলে দিতে চেয়েছিল এবং মুসলমানদের উপর অত্যাচারের স্টীম রােলার চালিয়েছিল তাদেরকে আল্লাহ পাক সকলের আগে পাকড়াও করেছেন। এরপর যেসমস্ত মুসলিম রাষ্ট্র কিংবা নাগরিক এসব বিষয়ে কোন প্রতিবাদ করেনি, সময় মত নবী প্রেমের পরিচয় দিতে পারেনি তাদেরকেও পাকড়াওয়ের সময় ঘনিয়ে আসছে।

ছােট ছােট আযাবের মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলা বড় আযাব থেকে বান্দাকে নাজাত দিতে চান। সুতরাং, আসুন এই ছােট আযাব থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা তাওবা করি। গুনাহমুক্ত জীবন গড়ার শপথ গ্রহণ করি। এই মহামারী থেকে বাঁচার জন্য আমাদের করণীয়

তিনটি

  1.  ছােটদেরকে কুরআনমুখী করা।
  2.  যুবকদেরকে মসজিদমুখী করা।
  3.  নারীদেরকে ঘরমুখী করা।

আল্লাহ পাক সকলকে বােঝার ও আমল করার তাওফীক দান করুন।

লেখকঃ মুফতী মীযানুর রহমান কাসেমী