ইংরেজ তরুণী তাবলীগের লােকদেরকে দেখে ফেরেশতা বলে চিৎকার করে উঠল !

ইংরেজ তরুণী তাবলীগের লােকদেরকে দেখে ফেরেশতা বলে চিৎকার করে উঠল !

পেশওয়ারের ধনাঢ্য এক ব্যবসায়ীর পুত্র ইংল্যান্ডে লেখা-পড়া করত । সেখানে পড়াশােনা তাে কি করবে এমনিই সময় নষ্ট হচ্ছিল। বন্ধু-বান্ধবদের পালায় পড়ে নামায-কালাম সব ছুটে গিয়েছিল। জীবনটাই বরবাদ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এমন সময় পেশাওয়ার থেকে একটি জামাআত গেল ইংল্যান্ডে। জামাআতের দুই সাথি ব্যবসায়ীর ঐ ছেলের সাথে দেখা করার জন্য গেল । এরা সকলেই ছিল পাঠান। মুখভর্তি লম্বা সাদা দাড়ি। তারা বলল বেটা, আমরা এখানে এসেছি দ্বীনের মেহনত নিয়ে। আমাদের ভাষা কেউ বােঝে না। আবার আমরাও উর্দু জানিনা, পশতু জানি, তুমি আমাদের সাথে কিছু কিছু সময় ফারেগ করে আমাদের কথা অনুবাদ কর। ছেলেটি বলে, আমি ভাবলাম ভালই তাে কিছু সময় যদি এদের সাথে থেকে এদের কথা পশতু থেকে উর্দুতে ভাষান্তর করি তাহলে আর কি ক্ষতি আছে। তাই আমি তৈরী হয়ে গেলাম। কিন্তু আমি কি আর জানতাম যে, এই অনুবাদ করতে যেয়ে আমারও জীবনের মােড় পরিবর্তন হয়ে যাবে। যাই হােক তাদেরকে কিছু কিছু সময় দিতে লাগলাম। কারাে সাথে সাক্ষাত হলে তারা নেক আমলের কথা বলত, নামাযের দাওয়াত দিত। আমি তার অনুবাদ করতাম। একসময় বলতে বলতে আমার ভেতরেও ভয় চলে এল। আমার আচরণে পার্থক্য আসতে লাগল। তাবলীগওয়ালারা দুই সপ্তাহ ছিল। এই দুই সপ্তায় আমি পুরা বদলে গেলাম। একদিন তাদেরকে নিয়ে গাশতে বেরিয়েছিলাম। রাস্তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ একটি প্রাইভেট কার এসে আমাদের সামনে ব্রেক করল আর গাড়ি থেকে একটি মেয়ে বেরিয়ে এসে এঞ্জেলস, এঞ্জেলস বলে চিৎকার জুড়ে দিল। সাথিরা বলল, আমরা তাে তাকে কিছু বলি নি, সে আমাদের সাথে ঝগড়া করছে কেন? আমি বললাম না, না, এ ঝগড়া করছে না, এ বলছে ফেরেশতা এসেছে, ফেরেশতা। এতো আপনাদের প্রশংসা করছে। অতঃপর ঐ মেয়েটি গাড়ির ড্যাশ বাের্ড খুলে সেখান থেকে এক কপি ইঞ্জিল বের করে বলল, দেখ, এটি হচ্ছে আমাদের ধর্মীয় গ্রন্থ। কিন্তু এর দ্বারা আমি স্বস্তি পাইনা, অথচ আজ তােমাদের দেখার পর মনটা আমার প্রশান্তিতে ভরে গেছে। এই বলে সে তৎক্ষণাত মুসলমান হয়ে গেল।

লন্ডনে বসবাসরত এক ড্রাইক্লিনার যে পূর্বে খৃষ্টান ছিল, মুসলমান হয়ে জামাআতের সাথে এসেছিল মুলতানে। কথা প্রসংগে সে তার ইসলাম গ্রহণের কারণ বর্ণনা করতে যেয়ে বলল, আমি যেহেতু লন্ড্রীর ব্যবসা করি তাই মুসলমান-খৃষ্টান উভয় সম্প্রদায়ের লােক তাদের প্যান্ট শার্ট ধােলাই করার জন্য আমার নিকট আসত। আমি মুসলমান আর খৃষ্টানদের প্যান্টের মধ্যে বেশ পার্থক্য দেখতে পেলাম। মুসলমানদের প্যান্ট হত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন আর অমুসলিমদের প্যান্ট ময়লা আবর্জনায় ভরা। মুসলমানদের নিকট এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে তারা বলল, আমাদের নবী ইস্তিঞ্জা করার পদ্ধতি শিখিয়েছেন, আমরা পানি ব্যবহার করার পূর্বে ঢিলা-টয়লেট পেপার ব্যবহার করি, পরে পানি ব্যবহার করি যাতে করে আমরা পরিপূর্ণ পবিত্রতা অর্জন কর। আমি চিন্তা করে দেখলাম যে, আমাদের ধর্মের তাে এই সুন্দরভাবে কোন কিছু শিক্ষা দেয়া হয় নি। সুতরাং আল্লাহ তাআলা আমার অন্তরে নবী কারীম সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মহব্বত ঢেলে দিলেন, পরে এক সময় আমি মুসলমান হওয়ার তাওফীক লাভ করলাম।