হিন্দু আর্য সমাজীদের ফিতনা

হিন্দু আর্য সমাজীদের ফিতনা

ও ইংরেজদের প্ররােচনায় অনুপ্রাণিত হয়ে হিন্দু সমাজের কতিপয় লােকও সে সময় মুসলমানদের বিরুদ্ধে উঠে-পড়ে লাগে। তারা হিন্দু মুসলিমদাঙ্গাকে চাঙ্গা করার। জন্য মুনলমানদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচারে লিপ্ত হয়। ইসলামের অসারতা প্রমাণ করার জন্য ইংরেজদের ন্যায় তারাও মাঠে-ময়দানে তর্কযুদ্ধে লিপ্ত।

হওয়ার চ্যালেঞ্জ দিতে থাকে। ১৮৭২ সালে স্বামী দয়ানন্দ স্বরস্বতী নামে জনৈক হিন্দু পণ্ডিত ‘স্বতীর্থ’ নামক একটি গ্রন্থ রচনা করে বাজারে ছাড়ে। এ গ্রন্থে সে। মসলমানদের আক্বীদাহ, বিশ্বাস, রাসূল ও কুরআনের উপর নানাবিধ অহেতুক আক্রমণাত্মক অভিযােগ উত্থাপন করে। তার এই চিন্তাধারাকে প্রতিষ্ঠিত করা ও মুসলমানদেরকে নাজেহাল করে হিন্দু ধর্মে দীক্ষিত করার মানসে ‘আর্য সমাজী’ নামে সে একটি সংগঠনও প্রতিষ্ঠা করে। অপর একজন পণ্ডিত স্বামী লালানন্দ লালও ইসলামের আকীদাহ বিশ্বাসের উপর আক্রমণ করে একটি বই লিখে বাজারে ছেড়েছিল। ১৯২৩ সালের এ দিকে এসে এ ফিতনা ব্যাপক আকার ধারণ করে। তাদের প্রচারাভিযানে বিভ্রান্ত হয়ে ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞানহীন অজ্ঞ পর্যায়ের । কিছু কিছু লােক হিন্দু ধর্মে দীক্ষিত হতে শুরু করেছিল। এ ছিল মুসলমানদের । অস্তিত্বের জন্য এক ভীষণ হুমকি। ইতিহাসে হিন্দুদের এ আন্দোলনকে ‘শুদ্ধি । আন্দোলন’ নামে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে।

আর্যসমাজী তথা শুদ্ধিদের দ্বারা সৃষ্ট এই ফিতনার মুকাবেলা করার জন্য উলামায়ে। দেওবন্দ বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। আর্য সমাজীরা ইসলামের অসারতা প্রমাণ করার জন্য বিভিন্ন স্থানে জনসমাবেশ আহ্বান করে এবং তাদের বক্তব্যের অকাট্যতার চ্যালেঞ্জ করে উলামা সমাজকে মুনাযারায় (তর্ক যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাতে থাকে। দারুল উলুমের প্রতিষ্ঠাতা হযরত নানুতুবী রাহ. তাদের এই চ্যালেঞ্জের মুকাবেলা করার জন্য ময়দানে অবতীর্ণ হন। আর্য। সমাজীদের দুই জাদরেল পণ্ডিত স্বামী দয়ানন্দ স্বরস্বতী ও স্বামী লালানন্দ লালের। সাথে তার বেশ কয়েক বার তর্ক যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়। এসকল বিতর্কে হযরত নানুতবী রাহ. অত্যন্ত বলিষ্ঠ যুক্তি প্রমাণ দ্বারা তাদের আপত্তিসমূহ খণ্ডন করেন এবং ইসলামের শ্রেষ্ঠত্বকে সুপ্রমাণিতভাবে তুলে ধরেন। বিতর্কে তাঁর উপস্থাপিত যুক্তি প্রমাণগুলাে পরে বিন্যস্ত করে ‘হুজ্জাতুল ইসলাম’ ও ‘কিবলা নূমা’ নামে পুস্ত। কাকারে প্রকাশ করা হয়।

আর্য সমাজীরা ইসলামের আকীদাহ বিশ্বাসের উপর আক্রমণ করে যে সব পুস্তক রচনা করেছিল, তার মুকাবেলায় হযরত নানুতুবী রাহ. “জওয়াবে তুরকী। বতুরকী” নামক একটি অনবদ্য গ্রন্থ রচনা করেন। এই গ্রন্থে তাদের উপস্থাপিত। যুক্তি প্রমাণের দাতভাঙ্গা জবাব দেওয়া হয় এবং পাল্টা যুক্তির মাধ্যমে ইসলামের। শ্রেষ্ঠত্বকে তুলে ধরা হয়।

১৯২৩ সালে আগ্রার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহে তাদের তৎপরতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি। পেলে মুসলমানদের আকীদা বিশ্বাসের হিফাযতের জন্য এবং আর্যসমাজীদের মুকাবেলার জন্য দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে ৫০ জন মুবাল্লিগ সে অঞ্চলে প্রেরণ। করা হয়। অবস্থার এই নাজুকতার মুহূর্তে দেওবন্দের কৃতী সন্তান হযরত। মাওলানা মুফতী কেফায়েতুল্লাহ রাহ. তাঁর দাওয়াতী মিশন নিয়ে সশরীরে সেখানে উপস্থিত হন। তাঁদের প্রচেষ্টায় সেখানে একটি দাওয়াতী কেন্দ্র ও বেশ কিছু মক্তব মাদরাসা গড়ে উঠে।

এভাবে উলামায়ে দেওবন্দের অব্যাহত চেষ্টার ফলে এই ফিতনা ক্রমান্বয়ে। স্তিমিত হয়ে পড়ে এবং মুসলমানরা তাদের ঈমান আকুীদাহ হিফাযত করতে সক্ষম হয়। যেহেতু এই ফিতনার মূলে ইন্ধন যুগিয়েছিল ইংরেজ বেনিয়াৱা সুতরাং তাদের চলে যাওয়ার পর এ ফিতনা এমনিতেই স্তিমিত হয়ে যায়।