আফ্রিকার জংগলে হারিয়ে যাওয়া জামাআতের সাথে গায়েবী মদদ

আফ্রিকার জংগলে হারিয়ে যাওয়া জামাআতের সাথে গায়েবী মদদ

তাবলীগের এক যিম্মাদার সাথি এই ঘটনা শুনিয়েছেন যে, পাকিস্তান থেকে একটি জামাআত এক বছরের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা গিয়েছিল। তারা তাবলীগের সফর জারী রেখেছিল। এমতাবস্থায় সেখানকার কোন বিধর্মী এজেন্সী যারা তাবলীগের বিরােধী ছিল এবং ইসলাম বিরােধী কর্মকান্ডে জড়িত ছিল তারা তাবলীগের সাথিদেরকে অপহরণ করে চোখে কাপড় বেঁধে একটি হেলিকপ্টারে উঠিয়ে এক ঘন্টার দূরত্বে এক জনমানবশূন্য জংগল এলাকায় নামিয়ে দিয়ে চম্পট দিল ।

তাবলীগের সাথিরা পেরেশান হয়ে গেল। তারা আল্লাহ পাকের নিকট দু’আ করতে শুরু করল। অতঃপর মাশওয়ারা করে একদিকে রওয়ানা হল। কিন্তু রাস্তার কোন কুল কিনারা ছিল না। চলতে চলতে সকলের পা জওয়াব দিয়ে বসল। একদিকে ক্ষুধা-পিপাসায় অস্থির অন্যদিকে রাস্তার কোন সন্ধান নেই। ক্লান্ত শ্রান্ত হয়ে তারা শুয়ে পড়ল। আমীর সাহেব তাদেরকে তারগীব দিয়ে বললেন, হিম্মত করে আমরা আল্লাহ পাকের নিকট আরেকটু চাই । দুই রাকাআত নামায পড়ে তারপরে আমরা শুতে চাইলে শুয়ে পড়ি। সাথিরা হিম্মত করে দু রাকাআত নামায পড়ে নিল। তারপরে আল্লাহ পাকের দরবারে কাকুতি মিনতি করে দু’আ করল। খানিক পরে তারা দেখতে পেল আসমান থেকে কোন জিনিষ নীচের দিকে নেমে আসছে। কাছাকাছি হলে বুঝা গেল একটা দস্তরখান। যা বিভিন্ন রকমের খানায় ভরপুর। সাথিরা আল্লাহ পাকের এই মদদে আল্লাহ পাকের শুকরিয়া আদায় করল। অতঃপর মজাদার এই খানা খেয়ে আবার সফর শুরু করল।

কয়েকদিন যাবত ঐ জঙ্গলে তারা চলতে থাকল। জংলী জানােয়ার থেকে আল্লাহ পাক তাদেরকে হেফাযত করলেন। প্রচন্ড ক্ষুধা অনুভব হলে আসমান থেকে তখন দস্তরখান নেমে আসত। সাথিরা পেটপুরে খেয়ে আবার সফর শুরু করত। কয়েকদিন চলার পর একটি লােকালয় তারা দেখতে পেল। সকলে আল্লাহ পাকের শুকরিয়া আদায় করল। অতঃপর রায়ব্যান্ড মারকাযে ফোন করে নিজেদের কুশলাদী জানালাে। মারকায থেকে জানানাে হল আমরাও আপনাদের হারিয়ে যাওয়ার সংবাদ পেয়েছিলাম। সকলেই পেরেশান ছিলাম। যাই হােক উক্ত জামাআত আফ্রিকায় খুব কাজ করল এবং সেখানে হেদায়াতের মাধ্যম হয়ে গেল।